সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: হাইকোর্টে আইনজীবীদের কর্মবিরতিকে সমর্থন জানিয়ে এ বার তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন খোদ বিচারপ্রার্থীরাই।

হাইকোর্টের চলতি অচলবস্থা নিয়ে আইনজীবীদের বিরুদ্ধেই কথা বলেছিলেন বহু বিচারপ্রার্থী৷

Advertisement

মঙ্গলবার তারই উলটো পথে হেঁটে সেই আইনজীবীদেরই পাশে এ বার দাঁড়ালেন একদল বিচারপ্রার্থী। আইনজীবীদের পাশে থেকেই এ বার তাঁরা লড়তে চাইছেন বলেও জানালেন৷

কেউ জমির দলিল নিয়ে দীর্ঘ দিন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। কেউ বা জনস্বার্থ মামলায় বিচারের আশায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারে পড়ে রয়েছেন। দিন, মাস, বছর কেটে গিয়েছে মুকুল বৈরাগ্য, প্রতিমা দত্ত, গোপাল চক্রবর্তীদের। অভিযোগ, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

হতাশার সুরে প্রত্যেকেই বলছেন, শুনানির পর শুনানি চলে যাচ্ছে তাঁদের। গ্যাঁটের কড়ি খরচ হচ্ছে৷ কিন্তু সুবিচারের অপেক্ষা ক্রমেই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর মাঝেই ৩৮ দিন ধরে চলছে কলকাতা হাইকোর্টের অচলাবস্থা৷ যার নেপথ্যে আইনজীবীরাই। এই রকম অবস্থায়ও কর্মবিরতিরত আইজীবীদের পাশেই দাঁড়ালেন এই সমস্ত বিচারপ্রার্থী৷ ওয়েস্ট বেঙ্গল লিটিগ্যান্ট ফোরামের আহ্বায়ক অমিতাভ মজুমদার বলেন, “ওনাদের সমস্যাটাও বুঝতে হবে। তাই অচলবস্থাকে সমর্থন জানিয়ে পথে নেমেছি।”

কিন্তু এমনভাবে উলটো পথে হেঁটে আইনজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণ কী? অমিতাভ মজুমদার বলেন, “ কোর্টে আমার তিনটে জনস্বার্থ মামলা চলছে। একটারও গতি হয়নি। তার কারণ বিচারপতি না থাকা।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের ফল। সেটা আমাদের সঙ্গে ভুগছেন আইনজীবীরাও। দিনের পর দিন কোর্টে এসে মক্কেলকে সুবিচার পাইয়ে দিতে পারছেন না। এটা ওনাদের সমস্যা। এটা দুই সরকারকেই বুঝতে হবে। একসঙ্গে লড়লে তবে যদি সরকার একটু নড়েচড়ে বসে, তাই ওনাদের সমর্থন করছি।”

প্রতিমা দত্ত। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা বালির পরিবেশকর্মী তপন দত্ত খুনের মামলায় হাইকোর্টের বিচারপ্রার্থী। কিন্তু এখনও ফল মেলেনি বিচারের। তিনিও দাঁড়িয়েছেন আইনজীবীদের পাশে। প্রতিমা দত্ত বলেন, “৭২ জন বিচারপতির জায়গায় মাত্র ৩০ জন বিচারপতি রয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জন বাইরের। তিনজন নতুন এলেও এখনও কোনও মামলা ধরতে পারেননি। এই অবস্থায় আইনজীবীদের থেকে আমরা আর কত আশা করতে পারি। দিনের শেষে কথা বলবেন বিচারপতি। সেটাই নেই তো ওনাদের শ্রমও জলে যাচ্ছে। অনেকটা আমাদের মতোই অবস্থায় রয়েছেন ওনারা। তাই ওঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন করছি।”

আইনজীবীদের হয়ে প্রতিবাদে যোগ দিয়েছিলেন এ দিন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অরুনাভ ঘোষ। তিনি বলেন, “কেন্দ্র থেকে রাজ্য, সরকারে অশিক্ষিতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সমস্যা বুঝবে কোথা থেকে?” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “একদিনে ২০ হাজার মামলা কোর্টে ওঠে। তার মধ্যে শুধু ২০০-২৫০ মামলার অর্ডার। বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে আড়াই লক্ষ মামলা। কীভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব ওই কজন বিচারপতি দিয়ে, আমি জানি না। আমাদের হতাশা বাড়ছে।”

----
--