পরমায়ু বাঁচানোর এক্সক্লুসিভ টিপস

সত্যি কথা বলতে কী আয়ু বাঁচানোর বিশেষ কোনও টোটকা নেই৷আপনার ভাগ্যে ঠিক যতটুকু আয়ু রয়েছে, ততদিনই আপনি বাঁচবেন৷ তবে নিয়মিত কিছু রুটিন মেনে চললেই দীর্ঘদিন নীরোগ দেহে বেঁচে থাকা সম্ভব৷ এরকমই কয়েকটি এক্সক্লুসিভ টিপস নিয়ে হাজির আমরা-

১) হাসতে নেই কো মানা- জীবনে ভালো থাকতে প্রাণ খুলে হাসার কোনও বিকল্প নেই৷ হাসলে শরীর আর মন দুটোই ভালো থাকে৷ মন থাকে ফুরফুরে৷ শরীরে রক্তসঞ্চালনও ভালো হয়৷তবে লাফিং ক্লাবে গিয়ে জোর করে হাসা নয়, অন্তর থেকে প্রাণ খুলে হাসুন৷

২) রুটিন- জীবনকে নিয়ে আসুন একটি ধরাবাঁধা রুটিনে৷ খাওয়া, ঘুমনো, বিশ্রাম, কাজের মতো প্রতিটি ব্যাপারগুলোই সারুন ঘড়ি ধরে৷ সময়ের হিসেব ঠিক না রাখতে পারলে সময়ের অনেক আগেই আপনার জীবনাটাই বেহিসেবী হয়ে যেতে পারে৷ কারণ সুস্থ, দীর্ঘ জীবনের মূল মন্ত্রই হল সুশৃঙ্খল  জীবনযাপন৷এতে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, হার্টের অসুখের মতো সমস্যা আপনাকে চট করে কাবু করতে পারবে না৷

- Advertisement -

৩) রেডি, স্টেডি গো- নিয়মিত শরীরচর্চার কোনও বিকল্প নেই৷ নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের শরীর সুন্দর ও সুঠাম রাখে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন জিমে যেতে না পারলেও আধঘণ্টা জোরে হাঁটা বা বাড়িতে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারলেই শরীর থেকে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ হয়৷ এর ফলে শরীর থাকে ভালো, মনও থাকে চাঙ্গা৷

আর সুস্থ শরীরেই  লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘ জীবনের রহস্য৷আর ব্যায়াম করতে না পারলেও  শারীরিক পরিশ্রম হয়, এমন কোনও কাজকে বেছে নিন প্রতিদিন৷অফিস থেকে ফেরার সময় দু স্টপেজ আগে নেমে হেঁটে বাড়ি যান কিংবা সিঁড়ি ব্যবহার করুন লিফটের বদলে৷ এতে শুধু যে শরীর ভালো থাকবে তা-ই নয়, যদি দেখেন কাজ করতে গিয়ে অল্পেতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে বুঝবেন হার্টের সমস্যা রয়েছে৷ সময় থাকতেই সচেতন হতে পারবেন৷

৪) নো, নেভার-  ধূমপান বা নিকোটিনের অভ্যেস থাকলে আজই ছেড়ে দিন৷ পুরোটা ছাড়তে না পারলেও অল্প অল্প করে ছাড়ুন৷জানেন কি তামাক ব্যবহার মানে প্রতিদিন সিগারেট খাওয়া এক ধাক্কায় আপনার পরমায়ু কমিয়ে দিতে পারে কয়েক বছর৷এমনকী ক্যান্সার, ফুসফুসের সমস্যা, কাশি, টিউবারকিউলোসিসের সমস্যা কখন যে আপনার শরীরে দখল নেবে নিঃশব্দে আপনি বুঝতেও পারবেন না৷ তাই ছেড়ে দিন৷ এমনকী অন্য কেউ আশেপাশে ধূমপান করলেও সেখানে থাকবেন না৷ প্যাসিভ স্মোকিং-ও ডেকে আনে সমস্যা৷

৫) রেস্ট- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন৷ অতিরিক্ত কাজ করে সময়ের আগেই নিজের এনার্জি শেষ করে বসে থাকার কোনও মানেই হয় না৷ ভাবছেন তো আজ কাজ করি কালকে বিশ্রাম নিয়ে নেব৷ তাহলে কিন্তু আপনার বডি মেকানিজম সেটা হতে দেবে না৷ কারণ ঠিকমতো বিশ্রাম না নিলে আপনার শরীরে যে ঘাটতি হবে, সেটা পরে ঠিকভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলে আপনি ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়বেন৷

৬) পান করুন- সুরা নয়, জল৷ প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিনলিটার জল খান৷ হার্ট ও রক্তনালির সমস্যা থেকে আপনি তো বাঁচবেনই৷ উপরন্তু কিডনিও ঠিকঠাক কাজ করবে৷বেরিয়ে যাবে শরীরের যাবতীয় বর্জ্য৷

৭) গ্রিন টি:  প্রতিদিন এক কাপ করে গ্রিন টি খান। গ্রিন টি-এর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যামাইনো অ্যাসিড হাই প্রেশার, হৃদরোগ ও ক্যান্সারসহ অনেক রোগের প্রতিরোধে বেশ সহায়ক ভূমিকা নেয়৷ তবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় খাবেন না৷

৮) ফলেন পরিচয়তে- প্রতিদিনের ডায়েটে ফল রাখুন৷ এতে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটিমিন, মিনারেলস, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায় এবং অনেক রোগ-ব্যাধির হাত থেকেও বাঁচায় আমাদের৷ ফলে মোটের উপর শরীর থাকে দুর্দান্ত৷

Advertisement ---
---
-----