বৃন্দাবন: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ধাম বৃন্দাবন। তাই তাঁর চরণধূলির সংস্পর্শ পেতে ভক্তরা ছুটে যান বৃন্দাবনের মন্দিরগুলিতে। এখানকার নিধিবন মন্দিরকে বলা হয়, ভগবানের নিজের মন্দির। কথিত আছে, শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যেক রাতে ওই মন্দিরে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি রাতে রাধার সঙ্গে সেখানে লীলাখেলায় মেতে ওঠেন তিনি।

প্রত্যেকদিন সন্ধের পর তাই ভক্তদের মন্দির চত্বর ছাড়তে বলা হয়। বলা হয়, কেউ যদি সেই লীলা চাক্ষুষ করেন তাহলে তিনি অন্ধ হয়ে যান, অধবা পাগল হয়ে যান, এমনকি তাঁর মৃত্যুও হতে পারে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ভিক চন্দ্র গোস্বামী বলেন, শুধু ভক্তরাই নয়, হনুমানগুলিও মন্দির ছাড়ে সন্ধের পরেই, চলে যায় পাখিরাও। ওই মন্দিরের রহস্য এতটাই গাঢ় যে গবেষকেরাও সেখানে রাত কাটাতে পারেন না সাহস করে।

Advertisement

আরও পড়ুন: রাধাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কৃষ্ণ! কেন আপত্তি ছিল তাঁর বিয়েতে?

‘নিধি’ শব্দের অর্থ হল সম্পদ আর ‘বন’ অর্থাৎ জঙ্গল। মন্দিরের চারিদিক গাছে ঘেরা। আর সব গাছের মাথাই নাকি নিচের দিকে নোয়ানো। এখানকার গাছগুলি সারা বছরই সবুজ থাকে। আর মন্দিরের জমি থাকে সবসময় শুকনো। আরও দেখা যায়, যে ওই মন্দিরে থাকা তুলসী গাছ সবসময় জোড়ায় জোড়ায় বেড়ে ওঠে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন এই তুলসীগাছগুলিই রাতে গোপীর রূপ নিয়ে লীলাখেলায় মেতে ওঠে আর সকালে গাছের রূপ ধরে।

মন্দিরে একটি কুণ্ড বা জলাশয় রয়েছে। যার নাম বৈশাখ কুণ্ড। কথিত আছে, এক রাতে লীলা চলার সময় বিশাখা নামে এক গোপী পিপাসার্ত হয়ে পড়ে। তাঁর পিপাসা মেটাতেই ওই কুণ্ড তৈরি করেন কৃষ্ণ। বাঁশি দিয়েই ওই কুণ্ড তৈরি করেন তিনি। নিধিবনের বাঁশি চোর মন্দিরও খুব বিখ্যাত। বলা হয়, শ্রীকৃষ্ণ এতক্ষণ ধরে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন যে রাধা একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি কৃষ্ণের বাঁশি চুরি করে নেন ও এক জায়গায় লুকিয়ে রাখেন। যেখানে ওই বাঁশি লুকিয়ে রেখেছিলেন সেটিই বাঁই চোর মন্দির নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ডোকালাম সংঘাত! প্রতিবাদ জানাতে চিনা সামগ্রী ছুঁয়েও দেখবে না কৃষ্ণের শহর

 

----
--