স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: সম্পর্কের বয়স পাঁচ বছরের বেশি৷ কিন্তু প্রেমিক ও প্রেমিকা দু’জনের ধর্ম আলাদা৷ তাই মত ছিল না দুই পরিবারের৷ পরিবারের বাধা টপকে সম্পর্ককে চিরস্থায়ী করতে তাই আত্মহননকেই শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে বেছে নিল তারা৷ তবে মরণের ওপারে যাতে প্রেমের বন্ধন অটুট থাকে, তার জন্যে আত্মঘাতী হওয়ার আগে প্রেমিকা প্রিয়াকে সিঁদুরদানও করেন প্রেমিক ফিরোজ৷

আরও পড়ুন: প্রেমে ঠকে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি অন্তঃসত্ত্বার

Advertisement

ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা জানা নেই কারও৷ তবে শনিবার ভোরে বিষয়টি নজর আসে বীরভূমের বোলপুর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দ্রাপল্লির বাসিন্দাদের৷ এলাকার একটি কুয়োয় থাকা লোহার রডে তখন ঝুলছে প্রিয়া ধাত্রী ও শেখ ফিরোজের মৃতদেহ৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রিয়ার ওড়নাতেই দু’জনে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে৷ কুয়োর কাছেই একটা সিঁদুরের কৌটো পড়েছিল৷ প্রিয়ার সিঁথিতেও সিঁদুরের চিহ্ন ছিল৷ তার থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের ধারণা, সিঁদুর দিয়ে প্রিয়াকে সহধর্মিণী মেনেই ফিরোজ একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে৷

আরও পড়ুন: নিজের অস্তিত্ব আজও টিকিয়ে রেখেছে ধান ভাঙার ঢেঁকি

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকা জুড়ে হইচই পড়ে যায়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমেই খবর পান দুই পরিবারের সদস্যরা৷ ঘটনার পর থেকে দুই পরিবারের সদস্যরা শোকস্তব্ধ৷ কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ৷ তারা মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে৷ পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে৷

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামের অদূরে ‘কৃষক বিদ্রোহে’র প্রস্তুতি!

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত যাত্রীদের সাধারণ কামরায় বসিয়ে ছুটল পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস

স্থানীয়দের দাবি, বছর ১৬-র প্রিয়ার সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক শেখ ফিরোজের৷ একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদেই দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ কিন্তু দু’জনের ধর্ম আলাদা৷ তাই দুই পরিবারের কেউই এই সম্পর্কে রাজি ছিলেন না৷ এ নিয়ে দু’জনের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার ঝামেলা হয়েছে৷ পুলিশের অনুমান, সেই কারণেই হয়তো আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে প্রিয়া ও ফিরোজ৷

আরও পড়ুন: দুর্নীতি হলে জেলে ভরব, হুঙ্কার অনুব্রতর

----
--