চিকিৎসার জন্য চেন্নাইতে? রয়েছে সস্তায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাঙালী, অথচ তাঁদের বাস দারিদ্রসীমার নিচে৷ চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁদের কখনও কখনও যেতে হয় ভিনরাজ্যে৷ কিন্তু, সেখানে গিয়ে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করতে হয় তাঁদের৷ যা অত্যন্ত ব্যায়বহুল৷ চিকিৎসার প্রয়োজনে চেন্নাইতে আসা এই সকল মানুষদের কথা ভেবে সুলভ মূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে চেন্নাইয়ের দ্য বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের গেস্ট হাউসে৷

দিল্লির দ্য বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি তপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারীদের জন্য৷ তাঁরা যদি চেন্নাইতে চিকিৎসার জন্য আসেন তাহলে তাঁদের দিন পনেরোর জন্য সস্তায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে৷ কিন্তু, তাদের আবশ্যিকভাবে বিপিএল তালিকায় থাকতে হবে৷’’

তপন সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর আগে অ্যাসোসিয়েশনের একটি বৈঠকে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ এই বৈঠকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, দরিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী যাঁরা ভেলোরে চিকিৎসা করাতে এসেছেন ও চেন্নাইতে থাকবে হবে, তাঁদের জন্য সস্তায় থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে৷ সেই মতো চেন্নাইয়ের দ্য বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়৷ সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা৷ চেন্নাইয়ের দ্য বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অত্যন্ত দরিদ্র বাঙালীদের জন্য তাঁদের গেস্ট হাউসে কম টাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে৷

- Advertisement -

সস্তায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও ঠিক কত টাকা ছাড় দেওয়া হবে? তপন সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ছাড়ের পরিমাণ মানুষ বিশেষে বিভিন্ন রকম হয়৷ পরিস্থিত বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কাকে কতটা ছাড় দেওয়া হবে৷ ক’জন থাকবেন, কদিন থাকবেন সেই সব দিক বিবেচনা করেই ছাড়ের পরিমাণ স্থির করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি৷ কীভাবে এই পরিষেবা পাবেন? তপনবাবু জানাচ্ছেন, কোনও রোগী তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা করিয়ে দেবেন৷

তপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘আর্থিকভাবে দুর্বল কোনও বাঙালি চিকিৎসার জন্য ভেলোরে গেলে তাদের ১৫-২০দিন করে থাকতে হয়৷ আমি শুনেছি, চিকিৎসকরা তাদের এক সপ্তাহ পরে বা ১০ দিন পরে আবার চেক আপের জন্য আসতে বলেন৷ কিন্তু, যারা মেদিনীপুর, বাঁকুড়া বা বীরভূম থেকে আসেন তাঁদের পক্ষে রাজ্যে ফিরে গিয়ে আবার ভেলোরে আসা কষ্টকর হয়৷ তাদের কথা ভেবে আমরা চেন্নাইয়ের বেঙ্গল অ্যাসোসিয়শনের সঙ্গে টাই-আপ করে কম টাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি৷’’

তবে, এই ব্যবস্থা খুবই সীমিত৷ কারণ, চেন্নাইয়ে অ্যাসোসিয়শনের গেস্ট হাউসে মাত্র ১০ থেকে ১২টা ঘর রয়েছে৷ তার মধ্যে ৪-৫টি ঘর দরিদ্র বাঙালিদের জন্য রাখা হয়৷ অনেক সময় দেখা যায় গেস্ট হাউসের সবকটি ঘর বুক আছে৷ অথচ, তখনই একটা পরিবার আবেদন করল৷ কিন্তু, স্থানাভাবের অভাবে তাঁদের জন্য তখন আর কোনও ব্যবস্থা করতে পারে না এই অ্যাসোসিয়েশন৷

তাই দুঃস্থ বাঙালিদের সুবিধার্থে এই পরিষেবা আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তপন সেনগুপ্ত৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে বহু ফোন এসেছে৷ অনেকেই এই ব্যবস্থায় উপকৃত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন৷ কিন্তু, অনেক সময় ফোন এলেও তাঁদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না৷ তাই ভবিষ্যৎ-এ ভেলোরেও একটি গেস্ট হাউস তৈরি করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে৷’’

Advertisement ---
-----