মাছ ভোগ দিয়েই কৌশিকী অমাবস্যায় পুজো হয় তারা মায়ের

তারাপীঠ: মনে করা হয়, স্বয়ং মা তারার অবস্থান তারাপীঠে। আর সেইজন্যই বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তরা ভিড় করেন মা তারাকে পুজো দিয়ে পুণ্য অর্জনের জন্য। নিয়ম নিষ্ঠা মেনে হয় পুজো। আর শনিবার কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ তিথিতে আড়ম্বর করে পুজো হয়। এদিন সকাল থেকেই ভিড় থাকে তারা মায়ের মন্দিরে।

বলা হয়, মা তারা সবার উর্ধ্বে। তাই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় কেউই মূর্তি গড়ে দুর্গা বা কালীর আরাধনা করেন না। বারোয়ারি পুজোরও প্রচলনও নেই। কালীপূজোয় মা তারা ‘তারা’ অঙ্গে কালীরূপে পূজিত হন। হাজার হাজার ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমাগমে তারাপীঠ মন্দির ভরে ওঠে।

বিশেষ পুজোর দিন মা’কে দেওয়া হয় “রাজকীয় ভোগ।” সকালে দেবীকে তিন রকম অন্নভোগ দেওয়া হয়। তাতে থাকে, পোলাও, খিচুড়ি এবং সাদা ভাত। সঙ্গে থাকে পাঁচরকম ভাজা, তিনরকম তরকারি। চারাপোনা,কাতলা, রুইসহ বিভিন্ন মাছের ভোগ থাকে মায়ের নৈবেদ্যে। থাকে পায়েস, চাটনি, দই আর পাঁচ রকম মিষ্টি।

- Advertisement -

তবে, রাতে খিচুড়িই প্রাধান্য পায়। চাল-ডাল মিলিয়ে প্রায় দেড় কুইন্টাল ১০টি বড় হাঁড়িতে রান্না হয়। করলা,বেগুন, আলু,এমন পাঁচরকম সব্জির ভাজা, তরকারি। মন্দির কর্তৃপক্ষ যেমন ভোগ নিবেদন করেন, তেমনই ভক্তেরাও তাদের ইচ্ছেমতো সব্জি, মাছ, মাংসের ভোগ নিবেদন করেন তারা মাকে।

তারাপীঠ মন্দিরের ভোগ রান্না করছেন বংশপরম্পরায় ময়ুরেশ্বর থানার দক্ষিণ গ্ৰামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে থাকেন তারাপীঠ মন্দিরের সদস্যরা।

প্রতিবছর ভাদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যা হয়। বিশেষভাবে এই অমাবস্যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কথিত আছে, এই বিশেষ তিথিতে তন্ত্রসাধনা করে তারাপীঠ মহাশ্মশানে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই সময় থেকেই দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। জনশ্রুতি এই দিনে তন্ত্রসাধনা করলে সাধনায় সিদ্ধিলাভ নিশ্চিত। আর তাই তারাপীঠের মহাসস্মানে যজ্ঞ করেন সাধকেরা।

Advertisement
---