নায়িকা নয়, এই সিরিয়ালে সবথেকে বেশি টাকা পায় হলুদ ম্যাকাও

কলকাতা: ‘হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল’। প্রবাদ এখানে ষোলআনা খাঁটি। তাবড় তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রী, তাদের কাছে নস্যি। বলে বলে ছক্কা, সবাইকে টপকে ‘আদরিণী’ সিরিয়ালের স্টার ‘সাল্লু’, ‘বান্টু’, ‘টুনিয়া’, ‘মুনিয়া’। ছোটপার্দায় শাশুড়ি-বউমার মেলোড্রামায় ‘আদরিণী’ নিয়ে এসেছে নতুন ধারার আলো। বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে প্রথমবার এক ছাদের নীচে ম্যাকাও, গাধা, গরু, ছাগল, মুরগী হাঁস নিয়ে এলেন প্রযোজক-পরিচালক স্নেহাশিস চক্রবর্তী। ‘আদরিণী’র বাড়ি ঘুরে বন্য সেই স্টারদের কথা লিখলেন মানসী সাহা।

ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ঘড়ির কাঁটার টিক টিক আওয়াজ। ডাইনিং টেবিলে বসে সেন পরিবারের সদস্যরা। প্রত্যেকের চোখ আটকে নিজের নিজের হাতঘড়িতে। ঢং করে ঘন্টার কাঁটা বাজতেই, সামনে থাকা প্লেট উল্টে মিসেস সেন খাবারে হাত দিয়েছেন। এমন সময় ‘কক কক’ আওয়াজ করে ডাইনিং টেবিলে হাজির শ্রীমান মোরগ মহাশয়। ক্যাটওয়াক করতে করতে সে চেলেছে টেবিলের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। এদিকে টেবিলের ওপর বন্য হ্যাঙ্ককে দেখে পড়িমরি অবস্থা সবার। এমন সময় পিছন থেকে পরিচালক বলে উঠলেন, ‘এক্সসিলেন্ট। মোরগ মশাই জাস্ট অসাধারণ’। আর এই একি কথা শোনা গেল ফ্লোরের বাকি সবার মুখে।

পড়ুন: ‘ভি’ডে-তে প্রিয় মানুষের আদর চাইই চাই’

- Advertisement -

বন্য প্রাণী নিয়ে, এই প্রথমবার বাংলা সিরিয়ালে চলছে রোজকার শ্যুটিং। নানান মজার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে সেখানে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে, বন্য এক মোরগ শটের পর শট দিয়ে চলেছে। পরিচালক বললেন, ‘রিয়েল অ্যাক্টর মোরগ মহাশয়। ডাইনিং টেবিলের শটটা বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবার একরকম পারফরমেন্স দিয়েছেন উনি। এক চুল এদিক ও দিক হয়নি’। তবে শুধু মোরগ কেন! কম নয় চুনিয়াও (গরু)।

জানা গেল, প্রথমবার টুনিয়ার চরিত্রের জন্য যে গরুটিকে আনা হয়েছিল তার মাথায় বড় শিং ছিল। বিশেষ অসুবিধায় পড়ে তার বদলে অন্য এক গরুকে আনা হল। কিন্তু মুশকিল এনার আবার শিং ছোট। অগত্যা রোজ শিংয়ে উইগ পরে অভিনয় করে চলেছেন তিনি। তবে বান্টুজীকে (গাধা) নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সবাই। ক্যামেরার ভিউ ফাউন্ডারে চোখ করে সময় বয়ে যায় ক্যামেরাম্যানের। কিন্তু বান্টুজীর নট নড়নচড়ন। অনেক কষ্টে ছোলা খাইয়ে, তোশামদ করে তার শট নেওয়া হয়। আর মুনিয়ার (ছাগল) কাজ ক্যামেরার সামনে এলেই ফ্লোরে প্রস্রাব করা। তবে এসব নিয়ে মানুষ অভিনেতাদের কোনও অভিযোগ নেই। বরং তারা খুশি। মৌমিতা গুপ্তের কথা, ” ‘আদরিণী’ সেটে এতো সব মজার ঘটনা ঘটে কি হাসতে হাসতে আমাদের প্রাণ যাওয়ার জোগাড়। বলতে পার ব্যস্ততার মাঝে এটা রিফ্রেশমেন্ট’।

পড়ুন: রঞ্জনা নয় এবার স্বস্তিকাতে ফিরলেন অঞ্জন দত্ত

তবে এদের সবার থেকে হটকে সাল্লু। ‘আদরিণী’র স্টার সেই। ফ্লোরের গুঞ্জন এই সিরিয়ালের হায়েস্ট পেড অ্যাক্টর সাল্লু। আফ্রিকান ম্যাকাও সাল্লু। তাকে নিয়ে সবাই সব সময় তটস্থ। কেউ তার সঙ্গে কথা বলছে। কেউ খাবার নিয়ে আসছে। কেউবা বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে। টলিউডে তোফা তোয়াজ হচ্ছে তার। যতই হোক সলমন খান, কাজল আগরওয়ালের সঙ্গে অভিনয় করেছে সে। ইতনা তো বনতাহি হ্যায়! সাল্লুর ট্রেনার টি মনি। তিনি জানান, ‘সাল্লুর আসল নাম রাধে। এক দুই নয়। এগারো বছরের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিগ বস সিজন ছ’য়ে সে ছিল সলমনের সঙ্গে। এছাড়া ঝুলিতে রয়েছে একাধিক হিন্দি ও দক্ষিণী ছবিতে কাজ করার সুনাম।’

হুবহু মানুষের মতো কথা বলে সাল্লু। পরিচালক বলেন, ‘ কাউকে কখনও আঘাত করে না সাল্লু। প্রতিবার এক টেকেই শট ওকে হয়। এমনিতে দেখে সাধারণ ম্যাকাও মনে হবে। কিন্তু ক্যামারের সামনে এলেই ভোল বদলে যায়। তখন ওকে দেখার মতো। কারও হাতে কাজু দেখলেই তার সঙ্গে গিয়ে বন্ধু পাতায় সে। আসল বাদাম সাল্লুর ভীষণ পছন্দ। খাঁচায় থাকা তার না পসন্দ। গাড়ির সামনের সিটে বসে যাতাযায় করে সে। এমনই রোওয়াব তার।

মানুষ আর পশুপাখি নিয়ে যেন বন্য সেট এখন ‘আদরিণী’র। তাই বলতেই হচ্ছে, ‘জঙ্গল জঙ্গল বাত চলি হে, পাতা চলা হে’। বাংলা টেলিভিশনের দুনিয়ায় মানুষের সঙ্গে এবার স্টার পশুপাখিরাও।

Advertisement ---
-----