কামারহাটিতে সভা করল মদন মিত্র

বারাকপুর: জেল থেকে বেড়োনোর পড়ে এই প্রথম সভা করলেন মদন মিত্র৷ প্রথম সভাতেই তীব্র আক্রমণ করলেন মদন৷ ‘কিছুদিন অপেক্ষা করুন এলাকায় একটাও লাল পার্টি অফিস থাকবে না। সব লাল বাতি জ্বলবে।’ এভাবেই স্বমূর্তিতে হুংকার দিয়েই কামারহাটিতে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলেন মদন মিত্র।

শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় দু’বছর পর কামারহাটির পাঁচমাথার মোড়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেই জনসভা করলেন মদন। সেই জনসভায় বিধায়ক বা কোনও সাংবিধানিক পদে না থাকলেও কামারহাটির উন্নয়নের চাবিকাঠি যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর হাতেই ফের তুলে দিচ্ছেন, সেই ইঙ্গিতই দিলেন মদন। তিনি বললেন, ‘কামারহাটিতে ফেরা যেন আমার ঘরে ফেরা। নিজের মা, ভাই, বোন, আত্মীয়দের কাছে ফেরা। আমায় অনেকে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে বিধায়ক, সাংসদ বা অন্য কোনও পদ চেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও আমি তা চাইনি। আমি প্রয়োজনে ১০ বছর অপেক্ষা করতে রাজি আছি। কিন্তু, কামারহাটির মাটি আমি ছাড়ব না।’ মদন আরও বলেন, ‘কামারহাটির উন্নয়নে প্রজেক্ট জমা দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানে মানুষের যা প্রয়োজন তার জন্য সব করা হবে। আগামী দু বছরে কামারহাটিকে আর চেনা যাবেনা।’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও সিপিএম বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়ের নাম না করেও এক হাত নেন মদন। মদন বলেন, ‘গুন্ডারা চল্লিশটা বাইক নিয়ে এসে সভা করছে। আমি গুণ্ডা নয়। একসময় ৩৪ বছরের বাম আমলে সন্ধ্যে হলেই বোমা গুলির আওয়াজ পাওয়া যেত কামারহাটিতে। এখন শুনেছেন কামারহাটিতে খুন ডাকাতির ঘটনার কথা?’ বলেন, ‘অনেক গুন্ডাগিরি, দাদাগিরি করেছেন। আর নয়, এবার কিছু করতে হলে আমার সামনা সামনি হয়েই মোকাবিলা করতে হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী কামারহাটিতে একটি গার্মেন্টস হাব চালু করতে চান। সেখানে দশ হাজার বেকারের কাজ হবে। এছাড়াও দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক, কামারহাটি জলপ্রকল্পের সংস্কার করে বোটিংসহ পর্যটনের প্রস্তাবও আছে। গঙ্গার ধার ধরে বিভিন্ন মঠ ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলির সংস্কার ও উন্নয়নের কথাও ভাবা হচ্ছে। সাগর দত্ত হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করার দিকেও নজর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মদন এদিন বলেন, ‘আমি প্রভাবশালী থেকে এখন অভাবশালী হয়ে গেছি। তা সত্ত্বেও কামারহাটির মানুষের সরকারি পরিষেবা পেতে অসুবিধা হবে না। হেল্পলাইনে সব সময় আমায় আমার প্রতিনিধিকে পাবেন সবাই।’ এদিন সভা থেকে নিজের হেল্পলাইন নম্বরও ঘোষণা করেন মদন।

Advertisement
---