জানেন, ভারতের সাহায্যেই উদ্ধারকাজ সফল হয়েছে থাইল্যান্ডে?

নয়াদিল্লি: স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে গোটা বিশ্ব৷ থাইল্যান্ডে গুহা থেকে বের করা গিয়েছে আটকে পড়া খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচকে৷ কিন্তু জানেন কি, যে প্রক্রিয়ায় তাদের জলবন্দী গুহা থেকে বের করে আনা হল, তাতে রীতিমত বড়সড় ভূমিকা ছিল ভারতের?

যে ওয়াটার পাম্প চালিয়ে গুহার ভিতরের জলের স্তর নামিয়ে আনা হয়, সেই ওয়াটার পাম্পটি তৈরি হয়েছে ভারতে৷ কিরলোসকর ব্রাদার্স লিমিটেডের তৈরি করা ওয়াটার পাম্পটির সাহায্যেই প্রথমে গুহার জলের স্তর নামিয়ে আনা হয়৷ তারপর শুরু হয় উদ্ধার কাজ৷ থাই বিদেশমন্ত্রকের কাছে এই পাম্প ব্যবহার করার পরামর্শ দেয় থাইল্যান্ডের ভারতীয় দূতাবাস৷

পড়ুন: অপেক্ষা শেষ! আটকে পড়া ১৩ জনই এল গুহার বাইরে

- Advertisement -

এই সংস্থা তারপর থাইল্যান্ডে তাদের তৈরি এই ওয়াটার পাম্প পাঠায়৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় থাইল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ডের দল৷ কীভাবে পাম্পের সাহায্যে জল তুলতে হবে সেই প্রক্রিয়া দেখিয়ে দেয় ভারতীয় টিম৷ ওই সংস্থার আধিকারিকরা ৫ই জুলাই পর্যন্ত দিনরাত এই কাজে মগ্ন ছিলেন৷ জলস্তর নামতেই উদ্ধারকাজ শুরু করে থাই উদ্ধারকারী দল৷

মহারাষ্ট্রের এই কেবিএল কোম্পানিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার পাম্প উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় থাইল্যান্ডে৷
রবিবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় গুহার ভেতর জলের উচ্চতা বেড়ে গেলে উদ্ধারকাজ আরো কঠিন হবে-এই আশংকায় রবিবারই এই উদ্ধার অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক অভিযান, যাতে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশের উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

পড়ুন: বাকি আর ৫, গুহা থেকে বেরল ৮ শিশু

নব্বই জন দক্ষ ডুবুরির একটি দল, যাদের ৪০ জন থাইল্যান্ডের এবং বাকিরা বিভিন্ন দেশের – তারা ওই উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। তারা গুহার ভেতরে অন্ধকার, সংকীর্ণ এবং জায়গায় জায়গায় জলে ডোবা পথ দিয়ে কিশোরদের হাঁটিয়ে বা ডুব-সাঁতার করিয়ে প্রবেশমুখে নিয়ে এসেছে। সব ডুবুরি বাড়তি সতর্কতার জন্য মুখোশ ব্যবহার করেন। প্রতিটি কিশোরকে দুজন করে ডুবুরি সাহায্য করে। তারা ওই কিশোরের অক্সিজেন সরবরাহের ট্যাঙ্কও বহন করে।

তবে গুহার সবচেয়ে জটিল অংশটি ছিল অর্ধেক পথের ‘টি-জংশন’। এই এলাকা এতটাই সংকীর্ণ যে তার ভেতর দিয়ে যাওয়ার জন্য ডুবুরিদের অক্সিজেন ট্যাঙ্কটিও খুলে ফেলতে হয়। গত ২৩ জুন এই দলটি গুহার ভেতর বেড়াতে গিয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আটকা পড়ে যায়। পরে গত সপ্তাহে তাদের সন্ধান পায় ডুবুরিরা।

Advertisement
---