ব্রিজের পিলার টপকে ঝুঁকির স্কুল যাত্রা এই পড়ুয়াদের

ভোপাল : না, তাদের স্কুল যাওয়ার পথে পাহাড়, জঙ্গল, নদী কিছুই পড়ে না৷ মাইলের পর মাইল হেঁটেও যেতে হয় না তাদের৷ তবু প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল যায় এই সব পড়ুয়ারা৷ কারণ তাদের এলাকায় ব্রিজ তো আছে, শুধু নেই ব্রিজের ওপরের ঢালাই৷ মানে সার দিয়ে বেশ কয়েকটা পিলারই শুধু দাঁড়িয়ে রয়েছে এখানে৷

এই একটার পর একটা পিলার টপকে, স্কুল যায় তারা৷ যে কোনও দিন ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা৷ গত পাঁচ বছর ধরে এটাই ছবি মধ্যপ্রদেশের হাট্টার মাদিয়াদো এলাকার৷

নীচে বয়ে যাচ্ছে নদী৷ অথচ ব্রিজ তৈরির করার প্রতিশ্রুতির পূরণে এলাকার বাসিন্দাদের ভাগ্যে জুটেছে শুধু কয়েকটা পিলার৷ তাই দিয়েই যাতায়াত চলছে বছরের পর বছর ধরে৷

- Advertisement -

দু কিমি হেঁটে স্কুলে পৌঁছয় বাচ্চাগুলো৷ তারই মাঝে এই পিলারগুলো পেরোতে হয় তাদের৷ তবে তাতেও রয়েছে প্রতিকূলতা৷ ভারি বর্ষায় স্কুলে যাওয়া দুস্কর হয়ে ওঠে তাদের৷ আর কিছু নয়, এলাকাবাসীর দাবি শুধু একটা সম্পূর্ণ ব্রিজের৷ যাতে জীবন যাপন সহজ হয় তাদের৷

এখনও কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি৷ কিন্তু বর্ষায় পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি হয়, তাতে সমস্যায় পড়েন স্থানীয়রা৷ জলের স্রোতে পিলার পেরোতে রীতিমতো ভয় পান তাঁরা৷

এই সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছে স্কুলের শিক্ষকরাও৷ তাঁরা বলছেন বর্ষায় স্কুল চালাতেই সমস্যা হয়৷ পড়ুয়ারা আসতে পারে না৷ কোনও ভাবে এলেও, ফেরাটা দুস্কর হয়ে যায় তাদের কাছে৷ তাই বর্ষাকালে প্রায়ই বন্ধ রাখতে হয় স্কুল৷

সমস্যার কথা জানেন এলাকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারও৷ তাঁর সাফাই ঠিকাদারের কাজের গাফিলতির জন্যই ব্রিজ তৈরিতে দেরি হচ্ছে৷ তবে প্রশাসনের গাফিলতির কথা স্বীকার করতে চাননি তিনি৷

কিছুদিন আগে, রাঁচি থেকেও একই ছবি নজরে এসেছিল৷ পায়ে হেঁটে নদী পেরোতে দেখা যায় ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার ঝরম উপজাতিভুক্ত এলাকার মানুষজন। বাধ্য হয়েই প্রয়োজনীয় কাজ সারতে তাদের নদী পায়ে হেঁটে পেরিয়ে যেতে হয় লাতেহারে। বুক সমান জল হোক, বর্ষার স্রোতে নদীতে জোয়ারই থাকুক না কেন, প্রয়োজনীয় কাজ এভাবেই সারেন স্থানীয়রা৷ তাঁরা জানান, ১২ বছর আগে, সেতু তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছিল এই সুকরি নদীর ওপরে। কিন্তু সেই কাজ আজও শেষ হয়নি।

Advertisement
---