ইন্দ্রজালে আমিই সেরা: পি সি সরকার

জাদুসম্রাট পি সি সরকারের পুত্র, তিনিও পি সি সরকার৷তবে জুনিয়র৷জাদুসম্রাটের যোগ্য উত্তরসূরিও স্বীকার করতে লজ্জা পান না যে, তিনি জুনিয়র৷এও মনে করেন, এখনও তাঁর বয়স বাড়েনি৷কেমিস্ট্রিতে অনার্স, সাইকোলজিতে পিএইচ-ডি, বাংলার বিনোদন জগতে সব থেকে বেশি বিদেশি মুদ্রা অর্জনকারী প্রদীপচন্দ্র সরকারের ওরফে পি সি সরকারের জুনিয়রের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডা দিলেন kolkata24x7 এর প্রতিনিধি দেবযানী সরকার

প্রশ্ন: আপনার কাছে ম্যাজিকের ডেফিনেশন কি?
পি সি সরকার (জুনিয়র): ম্যাজিক হল ওয়ে অফ ইন্টার-অ্যাকশন৷ম্যাজিক শুধু মানুষের মন ভালো করে দেয় না, মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলে৷এটা শুধুমাত্র মঞ্চে দেখানোর জন্য নয়৷

প্রশ্ন: তাহলে জাদুসম্রাটের খেতাব তো আরও অনেকেরই প্রাপ্য ছিল৷কিন্তু এটা শুধু পি সি সরকার ব্র্যান্ডই পেয়েছে৷
পি সি সরকার (জুনিয়র): ঠিক-ই৷ পি সি সরকার একাই জাদুকর নন৷শচীন তেণ্ডুলকর, লতা মঙ্গেশকর, সত্যজিৎ রায়, পণ্ডিত রবিশঙ্কর, এনারা প্রত্যেকেই জাদুসম্রাট৷একবার দিল্লিতে আমার একটা টানা সাত দিনের শো ছিল৷শো-র প্রথম দিন আমি পণ্ডিত রবিশঙ্করকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম৷উনি এসেছিলেন ৷শেষ দিন ওনার সঙ্গে যখন আমার দেখা হয়েছিল তখন জানতে পারি, বাকি ছটা দিন উনি টিকিট কেটে আমার শো দেখেছেন৷উনি আমার পারফরমেন্সের খুব প্রশংসা করেছিলেন৷এর পর আমি যখন ওনাকে প্রনাম করতে গেলাম, বাধা দিয়ে বললেন, আমি নিজেকে নিজে কেন প্রণাম করব?

- Advertisement -

প্রশ্ন: বাবা  পি সি সরকার না ম্যাজিশিয়ান পি সি সরকার, আপনার কাকে বেশি ভালো লাগত?
পি সি সরকার (জুনিয়র): ছোটবেলায় আমি ভাবতাম, আমার দুটো বাবা৷একটা বাবা আর একটা পি সি সরকার৷মায়ের সঙ্গে আমি যাঁর ইন্দ্রজাল দেখতে যেতাম৷বাবা এবং পি সি সরকার যে একই ব্যক্তি সেই ধারণা আমার ছিল না৷বাবা বাড়িতে সব সময় খুব গম্ভীর থাকতেন৷পরীক্ষার রেজাল্ট একটু খারাপ হলেই বকতেন, পায়ে জুতো না পরলে বকতেন৷তাই বাবাকে আমার ভালো লাগত না৷আমার ভালো লাগত পি সি সরকারকে, যাঁকে ঝলমলে পোশাক পরিহিত অবস্থায় হাসিমুখে মঞ্চের উপর দেখা যেত৷কিন্তু দিনের শেষে বাড়ি ফিরত বাবা, পি সি সরকার নন৷

p-c-sarkar-famili
পরিবারের সঙ্গে যাদুকর পিসি সরকার

প্রশ্ন: ছোট থেকেই কি ম্যাজিক শেখার আগ্রহ ছিল?  ক’ বছর বয়সে বাবার কাছে প্রথম ম্যাজিকের কৌশল শেখেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): আমাদের বাড়িতে (বালিগঞ্জের ইন্দ্রজাল ভবন) একটা ঘর ছিল, যে ঘরে বাবা ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষেধ ছিল৷যেহেতু ওই নির্দিষ্ট ঘরে আমি ঢুকতে পারতাম না, তাই ওই ঘরটা নিয়েই আমার যাবতীয় কৌতূহল ছিল৷সব সময়ই ভাবতাম, বাবা ঘরটায় ঢুকে কী করে! একদিন ভাবলাম, ঘরটা খুলতে হবে৷আমাদের বাড়িতে অনেকগুলি চাবি ছিল৷প্রতিদিন ঘরটা খোলার চেষ্টা করতাম৷একদিন খুলে গেল৷ঘরটায় ঢোকার পর আমার চোখ ধাঁধিয়ে গেল৷কত জিনিস! আমি সেদিন কাল্পনিক দর্শকের সামনে কত ম্যাজিক দেখিয়েছিলাম৷একদম বাবার মতো৷আমার বয়স তখন কত ছিল, মনে নেই৷
ক’ বছর বয়সে প্রথম জাদু শিখি, সেটাও মনে নেই৷আমার আগ্রহ দেখে বাবা নিজের মতো করে আমায় গড়েপিটে নিয়েছিলেন৷

প্রশ্ন: প্রথম যেদিন মঞ্চে একা পারফর্ম করতে উঠেছিলেন, সেদিন বাবার সম্মান রাখতে পারবেন কি না এটা ভয় হয়নি?
পি সি সরকার (জুনিয়র): আমি বাবার সহকারী ছিলাম৷ইন্দ্রজাল ঘরানায় বড় হয়েছি৷ ভয় হবে কেন? ছোট থেকে যখন বাড়িতে প্র্যাকটিস করতাম, তখন মনে হত আমিই আমার বাবা৷

প্রশ্ন: শুনেছি, আপনার বাবা আপনাকে কয়েকটা আংটি দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই আংটিগুলির কি কোনও বিশেষত্ব আছে?
পি সি সরকার (জুনিয়র): (আংটিগুলি দেখিয়ে) এই আংটিগুলি এখনও পরে আছি৷এর বিশেষত্ব একটাই, এটা বাবার আশীর্বাদ৷

প্রশ্ন: সারা পৃথিবীতে এখন ম্যাজিক শিল্পের অবস্থা কেমন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): আগের থেকে বহু গুণ ভালো৷মানুষের মধ্যে চেতনা এসেছে৷

প্রশ্ন: ভারতের ম্যাজিক শিল্প নিয়ে কী বলবেন? এখানে তো অনেক জাদুকর আছেন. কিন্তু অধিকাংশ মানুষ পি সি সরকার ছাড়া আর কাউকে কি সেইভাবে চেনেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): অনান্য দেশের মতো এখানেও এই শিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ যথেষ্ট আছে৷ আসলে পি সি সরকার (সিনিয়র) এমন কিছু দেখিয়ে গিয়েছেন যেগুলো মানুষ ভুলতে পারেনি৷তবে অন্য জাদুকরদের না-চেনাটা মানুষের অজ্ঞতা৷

প্রশ্ন: এদেশে কি এই শিল্প যথাযথ মর্যাদা পেয়েছে? বাংলায় তো বটেই, এমনকী গোটা দেশে একটাও ম্যাজিক শেখার অ্যাকাডেমি নেই!
পি সি সরকার (জুনিয়র): শুধু একটা কথাই বলব, এই শিল্প অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে, সম্মান পেয়েছে, ভবিষ্যতেও পাবে৷

প্রশ্ন: আপনি কোনও অ্যাকাডেমি করার কথা ভেবেছেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): ভেবেছি৷এখন কয়েকজন ভালো শিক্ষকের সন্ধানে আছি৷কয়েকজনের সঙ্গে কথাও হয়েছে৷

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের মধ্যে ম্যাজিক শেখার আগ্রহ কেমন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): যথেষ্ট আগ্রহ আছে৷যত দিন যাচ্ছে মানুষ তো বিজ্ঞানমনস্ক হচ্ছে৷আজকে যেটা ম্যাজিক, কাল সেটা বিজ্ঞান৷

প্রশ্ন: আজকে যেটা ম্যাজিক কাল সেটা বিজ্ঞান, এই কথাটা আপনি সব সময় বলেন, কিন্তু ম্যাজিকের মধ্যে দিয়ে যে বিজ্ঞানকে ছুঁতে চেয়েছেন তাকে কি আদৌ ছোঁয়া গিয়েছে? একবিংশ শতাব্দীতেও কি মানুষ পুরোপুরি বিজ্ঞানমনস্ক হতে পেরেছে? ডাইনি অপবাদে এখনও মানুষকে মেরে ফেলা হয়৷
পি সি সরকার (জুনিয়র): মানুষ তো বিজ্ঞানের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে৷দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে বিজ্ঞান জড়িয়ে৷ ব্যাপারটা কী জানেন তো, বানর থেকে মানবজাতির উৎপত্তি হয়েছে, কিন্তু তা বলে কি পৃথিবীতে আর বানর নেই?

প্রশ্ন: এখন তো বিনোদনের পরিসর অনেক বেড়েছে৷এটা কি ম্যাজিক শিল্পের সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ?
পি সি সরকার (জুনিয়র): আগের থেকে ম্যাজিক শোয়ের টিকিটের দাম এখন অনেক বেড়েছে৷ বেশি দাম দিয়েও মানুষ ম্যাজিক দেখছে৷দিল্লিতে কিছু দিন আগে আমার একটা শোয়ের টিকিটের সর্বাধিক মূল্য ছিল ৩০০০ টাকা৷ শোটা হাউসফুল ছিল৷তাহলে কি বলবেন বিনোদনের অন্য মাধ্যমগুলি এই শিল্পের উপর থাবা বসিয়েছে?  শুধু এখানেই শেষ নয়, অন্য শিল্পকেও ম্যাজিকের কাছে নতজানু হতে হয়েছে৷সিনেমায় ঢুকেছে ট্রিক ফটোগ্রাফি, ক্রোমাক্রি৷

প্রশ্ন: বছরে এখন আপনি কটা শো করেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): দেশ-বিদেশ মিলিয়ে অন্তত দুশোটা৷মাসখানেক আগে লাস্ট শো করেছি বৈদ্যবাটিতে৷এখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে বলে বন্ধ আছে৷পরের মাসে পানিহাটিতে আছে৷

প্রশ্ন: বাকি সময় কী করেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): ছবি আঁকি, কবিতা লিখি (আঁকা অনেকগুলো ছবি দেখালেন, কয়েকটা কবিতাও শোনালেন)৷

প্রশ্ন: ছবিগুলি নিয়ে একজিবিশন করার কথা ভেবেছেন কখনও?
পি সি সরকার (জুনিয়র): আমাকে অনেকেই একজিবিশন করার কথা বলেছেন৷আমারও ইচ্ছা আছে৷দেখি! আমার আবার সব মুডের ব্যাপার৷

প্রশ্ন: কবিতাগুলো প্রকাশের কথা ভেবেছেন কখনও?
পি সি সরকার (জুনিয়র): না৷তবে অনেক গল্পও লিখেছি৷আমার লেখা ২১টি গল্প ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে৷আমি জাপানি ভাষাতেও কবিতা লিখেছি৷

প্রশ্ন: এত ভাষা থাকতে হঠাৎ জাপানি ভাষায় কেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): বাংলার পাশাপাশি এটা আমার খুব পছন্দের ভাষা৷আমার জীবনে প্রথম বিদেশে শো জাপানে৷আমার বাবা শো চলাকালীন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন জাপানেই৷তাই ওই দেশ, ওই ভাষাটার প্রতি আমার দুর্বলতা আছে৷

প্রশ্ন: এখন কী লিখছেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): এখন আপাতত জাদুবিদ্যার ইতিহাস লিখছি৷

প্রশ্ন: আচ্ছা, আপনি তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাস করেন? এখন তো খবরের কাগজের পাতার অর্ধেক জুড়ে থাকে জ্যোতিষ-তান্ত্রিকদের বিজ্ঞাপন৷জাদুবিদ্যার কি সত্যিই এত ক্ষমতা যে, পাঁচ মিনিটে কিংবা এক ঘণ্টায় বশীকরণ বা শত্রুদমন করা যায়?
পি সি সরকার (জুনিয়র): ইন্দ্রজালের একটা অঙ্গ তন্ত্রবিদ্যা ৷আমি তন্ত্র শিখেছি৷তন্ত্রের অনেক ক্ষমতা৷ তন্ত্রের মধ্যে আছে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং মনোবিজ্ঞান৷এখন তন্ত্রের নামে যেটা করা হয় সেটা বুজরুকি৷একজন তান্ত্রিকের ক্ষমতা নেই পাঁচ কিলোমিটার দূরের কোনও মানুষকে বশীকরণ করবে৷তন্ত্রে বশীকরণ, মারণ-উচাটন, এগুলি সম্ভব, তবে সেটা সায়েন্টিফিকভাবে৷একটা ঘটনার কথা বলি শুনুন৷নিশাদল, কলিচুন এবং পবিত্র সুরা (অনুপাত বলব না), একসঙ্গে নিয়ে হাতের তালুতে ঘষে নিয়ে কোনও মহিলার ভ্রূর উপরে ধরলে সে বশীভূত হয়ে যাবে৷আমি একবার আমার স্ত্রীয়ের ভ্রূর উপরে ধরতেই ও অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল৷সঙ্গে সঙ্গে চোখে-মুখে জল ছেটানোর পর ওর জ্ঞান ফেরে৷এই তিনটে দ্রব্যের মধ্যেই যে রাসায়নিক পদার্থ আছে সেটার সংমিশ্রণে ক্লোরোফরম তৈরি হয়৷যা মানুষকে অজ্ঞান করে দেয়৷আমি অ্যাস্ট্রোলজিতে বিশ্বাস করি না৷ওটা একেবারেই সায়োন্টিফিক নয়৷আমি বিশ্বাস করি, যেমন কর্ম করবে তেমন ফল পাবে৷

প্রশ্ন: আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী?
পি সি সরকার (জুনিয়র): অবশ্যই৷তবে আমি মূর্তিতে বিশ্বাসী নই৷

প্রশ্ন: আপনার মেয়েদের কি আপনি হাতে ধরে ম্যাজিক শিখিয়েছেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): ম্যাজিক এমনই একটা জিনিস যেটা শেখানো যায় না৷শিখে নিতে হয়৷ওরাও তাই করেছে৷ আর ওরা তো ম্যাজিকের ঘরানাতেই জন্মেছে, বড় হয়েছে৷তবে আমার থেকে নয়, ওরা ম্যাজিক শিখেছে  পি সি সরকার (সিনিয়র)-এর প্রেরণা থেকে৷শুধু ওরা কেন, পরবর্তীকালে এখানকার সব ম্যাজিশিয়ানই ম্যাজিক শিখেছেন পি সি সরকার (সিনিয়র)-এর থেকে৷

প্রশ্ন: আপনি এবং আপনার ভাই পি সি সরকার (ইয়ং), দুজনেই তো পি সি সরকার(সিনিয়র)-এর শিষ্য৷কিন্তু আপনার ভাইয়ের তো আপনার তুলনায় জনপ্রিয়তা অনেক কম৷
পি সি সরকার (জুনিয়র): আমি তাজমহল ভ্যানিশ করেছি, যাত্রীভরতি ট্রেন ভ্যানিশ করেছি, তাই লোকে আমায় মনে রেখেছে৷তবে ভাইকে সমাজ বোঝেনি৷

প্রশ্ন: হঠাৎ রাজনীতিতে আসার কথা ভাবলেন কেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): আমাকে মোদিজি-অমিতজি অফারটা দেন৷আর আমার সঙ্গে ওঁদের মতাদর্শের মিল আছে৷আমি স্বামীজি, সুভাষচন্দ্রের মতাদর্শে বিশ্বাসী, ওঁরাও তাই৷সেই কারণেই বিজেপির অফারটা আমি অ্যাকসেপ্ট করি৷

প্রশ্ন: আপনার বাবা যদি জীবিত থাকতেন, তাহলে আপনার রাজনীতিতে আসায় কি খুশি হতেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): বাবা কোনও দিনই ‘এটা কর’, ‘ওটা করবে না’ বলেননি৷বাবা হয়তো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে কোনও দিনই যুক্ত ছিলেন না, কিন্তু উনি রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন৷রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই আসতেন ওনার কাছে পরামর্শ নিতে৷বাবা সুভাষপন্থী ছিলেন৷একটা সময় কংগ্রেসের কার্যকলাপে বিরক্ত হন৷উনি যদি এখন জীবিত থাকতেন, তাহলে নিশ্চয়ই খুশি হতেন৷

প্রশ্ন: বিজেপি যদি কোনও ভুল করে, তাহলে প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করতে পারবেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): অবশ্যই করব৷

প্রশ্ন: সিনেমা দেখেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): নাঃ৷তবে আমার মেয়ে মুমতাজ যে যে ছবিতে কাজ করে, শুধু সেই সিনেমাগুলি দেখি৷

প্রশ্ন: আপনি তো সিনেমায় (গিলি গিলি গে,১৯৮৯) অভিনয় করেছেন৷হঠাৎ অভিনয় করার সাধ জেগেছিল কেন? উৎপল দত্তের মতো একজন বড়মাপের অভিনেতার সঙ্গে আপনি কাজ করেছেন৷ তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
পি সি সরকার(জুনিয়র): (হেসে) একটা সময় আমার উত্তম কুমার, তাপস পালের মতো হিরো হওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল৷তাই অভিনয় করেছিলাম৷আমার বউ ছবিটা প্রোডিউস করেছিল, তো তাই খুব একটা রোমান্টিক হিরো হওয়া গেল না৷

প্রশ্ন: পরে আর কোনও ছবিতে কাজ করলেন না কেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): সেইভাবে সময় পেলাম না আর৷

প্রশ্ন: আপনার চিন্তাভাবনা তো খুব ইতিবাচক৷যখন খুব কষ্ট পান, যখন শোনেন, আপনার সম্পর্কে কেউ খারাপ কথা বলছে তখন কীভাবে নিজেকে সামলান? ম্যাজিক করে নিজের দুঃখকষ্ট কি একনিমেষে ভ্যানিশ করে দেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): (হেসে) কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না৷আর যখন খুব মন খারাপ করে, তখন ভাবি এর পরেই ভালো দিন আসছে৷আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা৷আমি কোনও দিন ডিপ্রেশনে ভুগিনি৷এই যে যারা ডিপ্রেশনে ভুগে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তাঁদের উদ্দেশে আমার একটাই কথা, নিজের জীবনের সুন্দর সময়টা দেখা থেকে আপনি নিজেকে বঞ্চিত করবেন না৷আমি বিশ্বাস করি, খারাপের পর ভালো হয়৷

প্রশ্ন: ম্যাজিক নিয়ে নতুন কোনও ইনোভেনশনের চেষ্টা করছেন?
পি সি সরকার (জুনিয়র): হ্যাঁ৷ প্রতিনিয়তই তা চলছে৷

প্রশ্ন: আপনার চোখে সেরা জাদুকর কে?
পি সি সরকার (জুনিয়র): আমিই৷

প্রশ্ন: আপনার মধ্যে তো বেশ একটা অহংকার আছে!
উত্তর: সেটাই তো আমার ইউএসপি৷

Advertisement ---
-----