চিনা মিস্ত্রির হাতে তৈরি রথেই জগন্নাথ পৌঁছলেন মাসির বাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে শনিবার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ভিড় জমালেন পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে। এবছর মহিষাদলের রথ ২৪১ বছরে পদার্পণ করল।

পুরী,মাহেশের পরেই উঠে আসে এই মহিষাদলের রথের নাম। এই রথ ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ ও শিল্পশৈলীতে অনবদ্য। এদিন মহিষাদলের রথের অন‍্যতম আকর্ষণ হিসেবে ছিল বিদেশিদের আগমন।

আরও পড়ুন: মদনমোহনের রথকে ঘিড়ে ব্যাপক উন্মাদনা কোচবিহারে

- Advertisement -

এছাড়াও মহিষাদলের ঐতিহাসিক রথকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার জন্য ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় বিশেষ তথ‍্যচিত্র তৈরি করা হয়। এই তথ‍্যচিত্রের নাম দেওয়া হয়েছে “দ‍্যা চ‍্যারিয়েট”। যা অনলাইনের মাধ্যমে সারাবিশ্বের মানুষজন মহিষাদলের রথের তথ্য জানতে পারবেন।

এদিন নিরাপত্তার জন্য ছিল কড়া পুলিশি নজরদারি। আকাশপথে ড্রোন, এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পুলিশের কড়া নজরদারিতে ভরে ওঠে প্রাঙ্গণ। এদিন রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গের হাত কাছিতে ছোঁয়ার পরেই শুরু হয় রথের সূচনা।

এদিন হরপ্রসাদবাবুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ভি স‍্যামুয়েল নেসাকুমার, জেলাপরিষদের সভাধিপতি মধুরিমা মণ্ডল, মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তিলককুমার চক্রবর্তী-সহ অন‍্যান‍্যরা।

আরও পড়ুন: ‘সন্ধে নামার আগে’ বিদায় নেবে ব্যোমকেশ?

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, রাজা আনন্দলাল উপাধ‍্যায়ের সহধর্মিণী ধর্মপ্রাণ রানি জানকি দেবী মহিষাদলের রথের সূচনা করেছিলেন। এরপর ১৮০৪ সালে ওই রানির মৃত্যুর পর অল্পকালের জন্য মতিলাল পাঁড়ে মহিষাদলের রাজত্ব পান। সেই সময় তিনি একটি সুন্দর ধরনের ১৭ চূড়োর রথ তৈরি করান। পরে ১৮৫২ সালে তৎকালীন রাজা লছমন প্রসাদ গর্গ বাহাদুর ওই ১৭ চূড়ো রথের সংস্কার করার জন্য কলকাতা থেকে কয়েকজন চিনা কারিগরকে অনিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: সম্প্রীতির বার্তা দিতে রথের দিনে অভিযাত্রীর খুঁটিপুজো

সে সময় প্রায় চার হাজার টাকা খরচ করে তিনি রথের চারধারে চারটি মূর্তি বসিয়েছিলেন। ১৯১২ সালে স্থানীয় মিস্ত্রি মাধবচন্দ্র দে রথের সামনের কাঠের ঘোড়া দু’টিকে তৈরি করেছিলেন। যা এখনও পর্যন্ত রথ বিগ্রহের মধ্যে দেখা যায়। রথে সেকালের ছোঁয়া থাকলেও এই রথ আজ নবরূপে সেজেছে। কারণ, গতবছর মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আর্থিক সহায়তায় এই রথের আমূল সংস্কার করা হয়েছে। ফলে রথ এখন নবরূপে নবযৌবনা।

গতবছরের তুলনায় এবছর কিছুটা হলেও মেলার পরিধি বেড়েছে। রাজবাড়ির ছোলাবাড়ি থেকে শুরু করে শহিদস্তম্ভ পুরোটা ভরে উঠেছে দোকানে। তাই এবছর দর্শনার্থীদের সংখ‍্যাও বেড়েছে অনেকাংশে। মহিষাদল রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ বলেন, “এই রথ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন ঐতিহ‍্য। যা প্রথম রাণী জানকি স্থাপন করেছিলেন। ১৭৭৬সালে প্রথম এই রথযাত্রার সূচনা হয়।এরপর বহু পুরুষ এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছিলেন। আশাকরি আমরাও তা ধরে রাখতে পারব।”

আরও পড়ুন: উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করল মদনের রথ

Advertisement ---
---
-----