দূষিত গোমতি নদীতে পূণ্য স্নানে নারাজ পূণ্যার্থীরা

লখনউ: মকর সংক্রান্তির দিন পূণ্য স্নান উপলক্ষ্যে সোমবার গোমতী নদীর ধারে কাতারে কাতারে পূণ্যার্থীরা উপস্থিত হন৷ কিন্তু নদীর অবস্থা দেখে আর জলে নামার সাহস দেখাননি কেউ৷ পূণ্যার্থীদের অভিযোগ, নদীর জল নোংরা ও দূষিত৷ তাই কেউ গোমতী নদীতে স্নান করতে রাজি হননি৷ অবিলম্বে নদীর জল পরিস্কারের দাবিও জানাচ্ছেন তারা৷

গোমতী নদীর অবস্থা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা৷ বিশাল রাস্তোগি নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, নোংরা জমতে জমতে দূষণে ভরে গিয়েছে নদীর জল৷ গোমতী নদীর যা অবস্থা তাতে অবিলম্বে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ নদীর জল পুরো কালো হয়ে গিয়েছে৷ নদীর জল পরিস্কার নিয়ে শুধু বড় বড় ভাষণ দিলেই হয় না৷ তার জন্য উদ্যোগী হতে হয়৷

আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা শৈলেশ কুমার সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানান, আগে প্রতি বছর সাত থেকে আট হাজার মানুষ হিন্দু আচার অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি পালন করতে এখানে আসত৷ কিন্তু নদীর জলের দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকায় তারা এখানে আসা বন্ধ করে দেয়৷ সরকারের সত্যিই এখন কিছু করা দরকার৷ আগে গোমতী নদীতে বোটিং করা যেত৷ কিন্তু দূষণ বেড়ে যাওয়ায় সেই সব বন্ধ হয়ে যায়৷

গোমতী নদীর জলও হিন্দুদের কাছে খুব পবিত্র৷ অনেক আচার অনুষ্ঠানের জন্য আগে মানুষ গোমতীর জল নিয়ে যেত৷ আরাধ্য দেবতাকে পুজো করার পর ভক্তরা গোমতীর জলে ডুব দিত৷ তাদের বিশ্বাস, এতে সব পাপ ধুয়ে যায়৷ গোমতীকে লখনউ শহরের লাইফলাইন বলা হয়৷ মানুষের অসচেতনাই গোমতীকে দূষণের মুখে ঠেলে দিয়েছে৷ কুদিয়া ঘাট ও তুলসী ঘাটে যে বিপুল পরিমাণ ময়লা ফেলা হয় তা জমা হয় গোমতীতে৷ আর নদীর জলে প্লাস্টিকের উপস্থিতি গোমতীকে আরও দূষিত করে দিয়েছে৷