গঙ্গার ভাঙনে প্রমাদ গুনছেন মালদহের মানুষ

ছবি: প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: বর্ষায় নদী ভাঙন মালদহ জেলার অন্যতম প্রধান সমস্যা৷ ইতিমধ্যেই পাথরের বোল্ডার দিয়ে বাঁধানো প্রায় ১০০ মিটার গঙ্গার নতুন পাড় নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। আর তারমধ্যে রবিবার দুপুর থেকেই মালদহের রতুয়ার মহানন্দা টোলা, মহানটোলা ও বিলাইমারি এলাকায় গঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের জেরে নদী বক্ষে তলিয়ে যায় বেশ কয়েক বিঘা জমি। সেই আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে আসবাবপত্র কোনও রকমে নিয়ে এলাকার উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে সাধারণ মানুষরা।

আরও পড়ুন: ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালা বিবাদের বলি দু’বছরের শিশু

উল্লেখ্য, গঙ্গার ভাঙনে গত বছর তলিয়ে গিয়েছিল ৫০০ টিরও বেশি বাড়ি, প্রচুর কৃষি জমি, মন্দির, স্থানীয় পোস্ট অফিস, এমনকি একটি প্রাথমিক স্কুলও। এলাকার বাসিন্দারা গঙ্গার স্থায়ী ভাঙন রোধের কাজের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছেন৷ কিন্তু প্রতিবার বর্ষার পর মালদহের গঙ্গা ভাঙন যেন মাথা ব্যথার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের কাছে৷ যদিও এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসন নদী ভাঙন বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই ভাঙন তেমন উদ্বেগের নয় বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: আপনার ছোটবেলা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব এবার রূপঙ্করের কাঁধে

এদিকে, মহানন্দা টোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রউফ বলেন, ‘‘বিগত কয়েকদিন ধরেই এলাকাতে ভাঙন শুরু হয়েছে৷ কিন্তু রবিবার সকাল থেকে এই ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। বিঘার পর বিঘা জমি গ্রাস করেছে গঙ্গা। জমি ফিরিয়ে এলাকাবাসী কোনও রকমে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে।’’

আরও পড়ুন: জলমগ্ন কেরলকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন পরিবহণ শ্রমিকরা

পাশাপাশি নিজের বাস্তু ভিটা হারান মেনকা মণ্ডল বলেন, ‘‘জমিজমা বাস্তু ভিটা সব চলে গিয়েছে গঙ্গাবক্ষে৷ এখন কোনও রকমে উঁচু জায়গায় যেতে চাইছি। তবে ক্ষোভের জায়গা এটাই যে কোনও রকম সরকারি সাহায্য তো দূরের কথা কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি।’’ এই বিষয়ে জেলা সেচ দফতর কর্তৃপক্ষ ভাঙনের কথা স্বীকার করে নিলেও এখনও পর্যন্ত তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement
---