শোভনের প্রেম-রোগের খোঁজ নিলেন দিদি

বিশেষ প্রতিবেদন: প্রেম সবসময় লুকিয়ে করতে হয়৷ না হলে তার মজাই থাকে না৷ কিন্তু সবসময় কি তা বহির্বিশ্ব থেকে লুকিয়ে রাখা যায়!

যায়ও না৷ মাঝে মাঝে ধরা পড়ে যেতে পড়ে যেতে হয় বড়দের কাছে৷ তখন চুনোপুঁটি থেকে হেভিওয়েট সকলেরই ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হয়৷ আর সবাই কার্যত একই উত্তর দেন, ‘‘আমি ওসব করি নাকি!’’

আরও পড়ুন: শোভনের ইংরেজি ‘দিদিমণি’ বৈশাখী

- Advertisement DFP -

ঠিক এই উত্তর কাল শোনা গিয়েছে কলকাতার মহানাগরিকের মুখ থেকে৷ তবে প্রকাশ্যে নয়৷ দলের অন্দরে তিনি নাকি একথা বলেছেন! এমনতিই মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন মেগা সিরিয়ালের থেকে বেশি টানাটান উত্তেজনাময় হয়ে উঠেছে৷ সংবাদমাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে দোষারোপের পালা চলছে৷ আর সেই দোষারোপ পর্বে বারবার চলে আসছে আরও একটি নাম৷ বৈশাখী চট্টোপাধ্যায়৷ যাঁকে পারিবারিক বন্ধু বলে মানতে নারাজ শোভনবাবুর স্ত্রী৷ যাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন দমকলমন্ত্রীর শ্বশুরও৷ অন্যদিকে আবার মেয়র বারবার দাবি করছেন বৈশাখী তাঁর ‘ভালো’ বন্ধু৷ রীতিমতো ‘বুক-বাজিয়ে’ বলছেন, এমন বন্ধুত্ব তিনি ‘বুক’ দিয়ে আগলে রাখতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না৷

স্বাভাবিকভাবেই দুই বিবাহিত নর-নারীর আপাত নিরীহ সম্পর্ক ঘিরে মুচমুচে গসিপ তৈরি হতেও সময় লাগেনি৷ আর সেই গসিপের আগুনে এবার কার্যত ঘৃতাহুতি দিলেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আরও পড়ুন: বিয়ে না করলেই ভালো হত! শোভন ইস্যুতে বিস্ফোরক ‘বান্ধবী’ বৈশাখী

তৃণমূলের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিধানসভায় রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল৷ সেখানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মেয়র তথা দমকল মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ কয়েকদিন ধরেই দলের সঙ্গে তাঁর তীব্র টানাপোড়েনের খবর সামনে আসছে৷ ফলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে কী বলেন, সেটা জানতে সবাই উৎসুক ছিলেন৷ তাই শোভনবাবু মুখ্যমন্ত্রী সামনে আসতেই সকলের নজর সেদিকে চলে যায়৷ আর তখনই মুখ্যমন্ত্রী নাকি তাঁর কাছে জানতে চান, ‘‘শুধুই প্রেম করছিস, নাকি কাজও করছিস৷’’

আরও পড়ুন: ‘বৈশাখী ঝড়ে’ সভাপতির পদ খোয়াচ্ছেন শোভন

তৃণমূলের ওই সূত্রের দাবি, দিদির মুখে এমন প্রশ্নের মুখে দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়ে যান মেয়র৷ আমতা আমতা করতে থাকেন৷ কিছুক্ষণের মধ্যে অন্য প্রসঙ্গ চলে আসে আলোচনায়৷ ফলে কিছুটা স্বস্তি পান মেয়র৷ কিন্তু আবারও মুখ্যমন্ত্রী একই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন শোভনের দিকে৷ তখন মেয়র বলেন, ‘‘আমি ও সব করি নাকি!’’ দিদি ছাড়বার পাত্রী নন৷ তিনিও পাল্টা বলেন, ‘‘ঠিক আছে, সবার সামনে ভোট হোক৷ দেখি কতজন তোর পক্ষে৷’’

যা দেখে দলের এক নেতার সরস মন্তব্য, ‘‘সম্পর্কটা কি শুধু ভালো বন্ধুত্বের৷ নাকি আরও একটু বেশি!’’

আরও পড়ুন: শোভন না বাইচুং? ওজন বুঝে দরজা খুলবে বিজেপি

Advertisement
----
-----