‘মমতাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে কংগ্রেস করি না’

দেবযানী সরকার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবে না বাংলার কংগ্রেস৷ দিল্লিতে দাঁড়িয়েই সাফ জানিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী৷ মঙ্গলবার ঘনিষ্ট মহলে রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, বিজেপিকে রুখতে তিনি নমনীয় হতে রাজি৷

প্রয়োজনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিএসপি নেত্রী মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেবে কংগ্রেস৷ এরপরই মমতা বিরোধীতায় সুর আরও চড়ালেন অধীর চৌধুরী৷ এতে হাইকম্যান্ডের সঙ্গে প্রদেশ নেতৃত্বের মতানৈক্য আরও প্রকট হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

- Advertisement -

গত রবিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের মুখ। সঙ্গে সঙ্গেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হারাধনাহাল্লি ডড্ডেগৌড়া দেবগৌড়া প্রকাশ্যেই সমর্থন করেছিলেন রাহুলকে। কিন্তু লালু-পুত্র তেজস্বী যাদবের বক্তব্য, বিরোধী জোটে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার অনেকে। এরপরই কংগ্রেসকে কার্যত সতর্কবার্তা দিয়ে দলিত নেত্রী মায়াবতী বলেছেন, আসন বণ্টন ঠিক মতো না হলে জোট হবে না।

এই পরিস্থিতিতেই কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০১৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী রাহুল গান্ধী হলেও যদি বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় এবং বিরোধী দলগুলির কোনও নেতাকে বেছে নিতে হয়, সেই পরিস্থিতিতে দলিত নেত্রী মায়াবতী কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সমর্থন করতে রাজি আছে কংগ্রেস৷

এপ্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “কংগ্রেস ও মততা বন্দ্যোপাধ্যায় যে যার নিজের মতো করে লড়বে৷ আমারা কংগ্রেস কর্মীরা রাহুল গান্ধীকে ছাড়া আর কাউকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবতে পারি না৷ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য আমরা কংগ্রেস করি না৷ এসব আজগুবি কল্পনা৷ তাই এই ব্যাপারে কথা বলার প্রয়োজন মনে করি না৷ তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪২-এ ৪২টি আসন জিতে বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছে৷”

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে আগাগোড়াই মমতা বিরোধী মুখ অধীর৷ অনেকদিন ধরেই রাহুল গান্ধীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ জানাচ্ছেন তিনি৷ কীভাবে কংগ্রেসকে ভেঙে টুকরো করা হচ্ছে সেই বিবরণও দিল্লিতে একাধিকবার জানিয়েছেন অধীর৷ কিন্তু নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই মমতার প্রতি নরম হচ্ছে সোনিয়া-রাহুল৷ অধীর চৌধুরীর কথাতেই স্পষ্ট, এটা কোনওভাবেই হজম করতে পারছেন না তিনি বা প্রদেশ দল৷ রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন, যদি শেষপর্যন্ত মমতাকেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে কংগ্রেস, তাহলে কী অধীর চৌধুরী তা মেনে নিয়ে কংগ্রেসে থাকবেন নাকি দল ছাড়বেন?

Advertisement ---
-----