কলকাতা: ভারতের অষ্টম লোকসভা নির্বাচনে ঘটে গিয়েছিল এক চরম অঘটন। প্রবীণ রাজনীতিক এবং আইনজীবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালের সেই নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৭১ সালে প্রথম পঞ্চম লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন সোমনাথবাবু। এরপর ১৯৭৭ এবং ১৯৮০ সালেও জিতে ছিলেন তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন- “সংসদীয় গণতন্ত্রকে এক অন্য স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়”

সাংসদ হিসেবে হ্যাট্রিক করার পরে ১৯৮৪ সালে হেরে গিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। যাদবপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাস্ত পরাস্ত হন তিনি। প্রবীণ আইনজীবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে গোটা দেশের নজর কেড়েছিলেন নবীন মমতা। সেই সময় সংসদে কনিষ্ঠ সাংসদদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান তৃণমূল নেত্রী।

এরপরে ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফের জিতে সাংসদ হন সোমনাথবাবু। সেই বছরে অবশ্য হেরে গিয়েছিলেন মমতা। যদিও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। ২০০৪ সালে বোলপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জিতেছিলেন সিপিএম প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। ওই বারেই তিনি লোকসভার স্পিকার হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন- নাম থেকে খসে পড়লেও আমৃত্যু একজন ‘কমরেড’ হিসেবেই বেঁচে ছিলেন

সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার একমাত্র সাংসদ ছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৫ সালের অগস্ট মাসে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেতে চেয়েছিলেন মমতা। বাধা পেয়ে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। যদিও অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি।

এরপরে ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করতে চেয়েছিলেন মমতা। সপা নেতা মুলায়ম সিং আদবকে পাশে বসিয়ে তিন জনের নাম ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। যেখানে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। যদিও পরে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব মুখোপাধ্যায়কেই সমর্থন করে তৃণমূল কংগ্রেস।

এ দিন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ট্যুইট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ (দা) চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত। তাঁর পরিবার এবং পরিজনদের সমবেদনা জানাই। আমাদের সকলেই কাছে এটা একটা বড় ক্ষতি।”

----
--