সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : কোন পথে এগোবে বাংলার শিল্প? টাকার দাম কমছে, জ্বালানীর দাম ক্রমবর্ধমান। সারা ভারতে ভারী শিল্প নেই। তাহলে কিভাবে এগোবে বাংলা? রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানাচ্ছেন, জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগোবে বাংলার শিল্প। বাংলায় ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে এগিয়ে আসবে জার্মানি৷

ভারী শিল্পে বিনিয়োগ আনার জন্য বেশ কয়েকবার বিদেশে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা শিল্প সম্মেলনও হয় প্রতি বছর৷ কিন্তু প্রতিশ্রুতি ছাড়া বিশেষ কোনও লাভ হয়নি। কখনও সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি, তো কখনও করের পরিমাণ। জমি জট কাটানোরও চেষ্টা হয়েছে। তবু ভারী শিল্পে লাভের হাল খাতা নতুন করে আর খোলেনি। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষুদ্র শিল্পের উপর বেশী জোড় দিয়েছে। তাঁত থেকে মাদুর, ডোকরা হোক কিংবা মৃৎশিল্প, বাংলার প্রাচীন শিল্পের জন্য অনুদান দিয়ে , কলকাতার সেন্ট্রাল পার্ক মেলা প্রাঙ্গণে মেলার মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারের চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সেই ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমেই বাংলার শিল্পে জোয়ার আনতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অর্থ দফতর। সঙ্গে জার্মানি।

 

বুধবার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের বার্ষিক সাধারন সভায় এসে জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গদেশের ক্ষুদ্রশিল্পকে এগোনোর কথা জানালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। উপস্থিত ছিলেন ইন্দো – জার্মান চেম্বার অফ কমার্সের পক্ষে বার্নহার্ড স্টেইনরুক। অমিত মিত্র বলেন, “আজ ইন্দো জার্মান চেম্বারের সঙ্গে আমাদের মৌ-চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। ক্ষুদ্রশিল্পের যে ব্যবসা গুলি রয়েছে সেগুলি তাঁরা এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্পের উপর। তাই আমরা আরও উদ্যোগী হয়েছি। এবার ইউরোপের এই দেশ এবং বাংলা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নের চেষ্টা করবে।” কিভাবে জার্মানির সঙ্গে এই কাজ করবে পশ্চিমবঙ্গ ? অর্থমন্ত্রী বলেন, “বেশী করে এক্সপোর্ট করব,প্রোডাকশন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং চাকরির ব্যবস্থাও করা হবে।” এই বাজারে চাকরির গুরুত্ব সবথেকে বেশী। তাই চাকরির বিষয়টিকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে তবে কি জার্মানি থেকে ভারী শিল্পের লগ্নি আনা সম্ভব হচ্ছে না বলেই ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে চুক্তি হল। অর্থমন্ত্রী বলেন, “ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী আয় হয়। লভ্যাংশও থাকে অনেকটা। তাই আমরা ক্ষুদ্র শিল্পেই মনোনিবেশ করছি।”

প্রসঙ্গত গত বছর বিশ্ব বাংলা শিল্প সম্মলণে একটি জার্মান সংস্থা টেক্সটাইল মেশিনের কারখানা গড়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের সঙ্গে কথাও হয়েছিল। মোদীর গুজরাতে তাদের শাখা রয়েছে। সেই শাখাই তাঁরা বাংলায় গড়তে চেয়েছিল।

----
--