পাওয়ারের নৈশভোজেই কি মোদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন মমতা

মানব গুহ, কলকাতাঃ মঙ্গলবার শরদ পাওয়ারের নৈশভোজেই কি ঠিক হবে বিজেপির বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের লোকসভা যুদ্ধের পরিকল্পনা৷ রাজধানীর রাজনৈতিক পরিবেশ কিন্তু এই নিয়েই বেশ সরগরম৷ গড়ে কি উঠবে বিজেপির বিরুদ্ধে বিকল্প জোট? এতগুলো দল মিলে কি একজোট হয়ে তৈরী হবে দেশের বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে একটা জোরদার ফেডারেল ফ্রন্ট? অনেক প্রশ্ন নিয়েই সন্ধ্যের পর শুরু হবে পাওয়ারের নৈশভোজ৷ তার আগেই দিল্লীতে মমতা কথা বললেন এনসিপি, টিডিপি, ডিএমকে ও শিবসেনার সঙ্গে।

শুরুটা করেছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী৷ ২০১৯ সালে একা কংগ্রেসের পক্ষে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়া সম্ভব নয়, বুঝতে পেরেছেন সনিয়া৷ তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই শুরু করেছিলেন ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার প্রস্তুতি৷ তখনও তাঁর প্রধান সেনাপতি ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে হারাতে ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধে তৃণমূল কংগ্রেস৷ তবে কয়েক বছরের মধ্যেই সেই জোট ভেঙে যায়৷ দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার থেকে বেরিয়ে আসে তৃণমূল কংগ্রেস৷ কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশে রাজ্যেও মমতার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন মানস ভুইঁয়া সহ অন্যান্য কংগ্রেস বিধায়করা৷

- Advertisement -

এরপর সময় যত এগিয়েছে দূরত্ব বেড়েছে দুই দলের৷ তবে, ২০১৪-তে কেন্দ্রে বিপুল ভোটে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কার্যত দিশা হারায় বিরোধীরা৷ তারপর, কখনও ডিমানিটাইজেশন আবার কখনও জিএসটি বিল পাশ নিয়ে লোকসভায় একসঙ্গে আন্দোলন করতে দেখা যায় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে৷ শেষে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের দূরত্ব অনেকটাই ঘুচে যায়৷ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে একজোট হন সনিয়া-মমতা৷

কিন্তু, বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ছাতার তলায় একজোট হবার পরিকল্পনা থেকে তারপর কিছুটা হলেও সরে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নতুন দিল্লীতে সনিয়া গান্ধীর দেওয়া নৈশভোজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি৷ প্রতিনিধী হিসাবে পাঠান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ তারপরই দেখা যায়, কংগ্রেস বিহীন ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করা যায় কিনা সেই নিয়েই চিন্তা করছিলেন মমতা৷

এর মাঝে মমতা নিজে কংগ্রেস ও বিজেপি বিরোধী জোট নিয়ে আলোচনা সেরেছিলেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী ও আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ডিএমকের কার্যকরী সভাপতি এমকে স্টালিন, তেলেঙ্গনা মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও সহ অন্যান্য বিজেপি ও কংগ্রেস বিরোধী নেতাদের সঙ্গে৷ এই বৈঠকগুলোয় অ্যান্টি বিজেপি ও অ্যান্টি কংগ্রেস ফ্রন্ট গড়া যায় কিনা তাই নিয়েই প্রধান আলোচনা হয়েছিল৷

কিন্তু পরে জোটসঙ্গীদের অভিজ্ঞতায় মমতা বুঝতে পারেন যে, ভারতীয় রাজনীতিতে এই মূহুর্ত্বে কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করা সম্ভব নয়৷ তাই, সম্প্রতি রাজ্যসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভিকে সমর্থন করে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। এন সি পি নেতা শরদ পাওয়ারের ডাকা মঙ্গলবারের বিরোধী জোটের ডিনারে তাই ডাকা হয়েছে কংগ্রেসকেও৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই দিল্লী সফরেই সনিয়া গান্ধী বা রাহূল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবেন বলেই খবর রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে৷

সনিয়া গান্ধীর ডাকা ডিনারে হাজির হয়েছিল বিজেপি বিরোধী প্রায় ১৯ টি দল৷ এমনকি ওই নৈশভোজে হাজির হয়েছিলেন সিপিআইএম, সমাজবাদী পার্টি এমনকি শরদ পাওয়ারের এনসিপি ও৷ মঙ্গলবার এনসিপি র ডাকা নৈশভোজেও হাজির থাকার কথা এই ১৯ টি বিজেপি বিরোধী দলেরই৷ মমতার দুই অপছন্দের দল কংগ্রেস ও সিপিএমেরও সেখানে হাজির থাকার কথা বলেই জানা গেছে৷ তবে, বিজেপিকে ঠেকাতে আপাতত কংগ্রেস ও সিপিএম দু দুলকেই জোটে রাখতে কোন আপত্তি নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থেকেই ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’ বা জোট তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল৷ কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা, জেডিইউ নেতা তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার, সিপিআই নেতা ডি রাজা, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ নেতা পিকে কুনহালিকুট্টিরও এই জোটে থাকা নিয়ে কথা হয়েছিল৷ এছাড়া সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ যাদব, তেলেগু দেশম পার্টির চন্দ্রবাবু নাইডু, বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এবং ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন, প্রত্যেকেরই ফেডারেল ফ্রন্টে থাকার সম্ভাবনা৷

তবে, বিজেপি বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট সত্যি কংগ্রেস ছাড়া হয় কিনা তার দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশের আমজনতারও৷ তবে, জল যেভাবে এগোচ্ছে তাতে আপাতত: কংগ্রেসকে নিয়েই বিজেপি বিরোধী সরকার গঠন করার স্বপ্ন দেখতে হবে ফেডারেল ফ্রন্টকে৷ অবশ্যই কংগ্রেস ছাড়া বাকি ১৯-২০ টি আঞ্চলিক দলের সব মতানৈক্য দূর করে যদি সেটা আদৌ গড়ে ওঠে৷ তবে, সব আঞ্চলিক দল নিয়ে সত্যি এই ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ে উঠলে তা বিজেপির পক্ষেও যে যথেষ্ট চিন্তাজনক হবে তা বলাই যায়৷

Advertisement ---
---
-----