ভোটের নামে উন্নয়ন থামানো যাবে না, কড়া বার্তা মমতার

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: সামনেই পঞ্চায়েত ভোট বলে উন্নয়নের কাজ থেমে থাকলে চলবে না। উন্নয়নের কাজ চলবে। বুধবার বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের এমনই নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একই সঙ্গে তিনি জেলার বিভিন্ন দফতরের কাজের পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি জেলার উন্নয়নের জন্য একাধিক নির্দেশও দেন৷

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে

তার মধ্যে রয়েছে বাঁকুড়া শহরের গোবিন্দ নগর বাস স্ট্যাণ্ড বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাস রুট৷ জেলার ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবেই এই বাস রুট তৈরির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জেলার বেশ কিছু প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগর দফতরের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ দু’টি দফতরের আধিকারিকদের একে অপরের সঙ্গে সমন্বয়সাধন করে কাজ করার পরামর্শ দেন৷

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু, রাজ্যের মন্ত্রী তথা কোতুলপুরের বিধায়ক শ্যামল সাঁতরা, সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী, রাজ্য বীজ নিগমের ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক শুভাশিস বটব্যাল, জেলা পুলিশ আধিকারিকরা, তিনটি পুরসভার চেয়ারম্যান, শাসকদলের বিধায়ক, সাংসদ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা-সহ ২২টি ব্লক, ২৩টি থানার আধিকারিকরা-সহ অনেকেই।

আরও পড়ুন: পর্ণ সাইটে যুবতীর ছবি পোস্ট! জানেন অভিযুক্তকে কত বড় সাজা দেওয়া হল?

প্রত্যেকের সঙ্গে এদিনের বৈঠকে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পুলিশ আধিকারিক ও বিডিও-দের এলাকায় জনসংযোগ আরও বাড়াতে বলেন৷একই সঙ্গে আইসিডিএস কেন্দ্রগুলির ব্যাপারে যথেষ্ট খোঁজ খবর ও দৃষ্টি আকর্ষণের নির্দেশও দেন তিনি।

বাঁকুড়া জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে যথেষ্ট উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মুকুটমনিপুরে হোম ট্যুরিজমের উপর জোর দিতে হবে।’’ একই সঙ্গে বাঁকুড়া-তারকেশ্বর রেললাইন পাতার কাজ মাঝপথে আটকে থাকা নিয়েও যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘কয়েকজন একটু জমি নিয়ে সমস্যা করছে। আর তাতেই আটকে যাবে এতবড় একটা প্রকল্প। রেল তো তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। আমি কেন্দ্র-রাজ্য প্রকল্পের বিভেদ করি না। উন্নয়নের স্বার্থে আর জয়রামবাটি, কামারপুকুর, তারকেশ্বর এই তিন তীর্থক্ষেত্রকে একসাথে জুড়ে দেবে এই রেলপথ। এই কাজ শেষ করতেই হবে।’’

আরও পড়ুন: রাতে বাংলায় মেয়েদের স্কুলের মধ্যেই মধুচক্র

রুখা-শুখা বাঁকুড়ায় প্রতিবছর গ্রীষ্মে জল সংকট একটা বড় সমস্যা। সেই কারণেই এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট দফতর ও পুরসভাগুলিকে উদ্যোগী হতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যাপ্ত পানীয় জলের টিউবওয়েল, ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। এদিনই তিনি জেলার বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পুরসভাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা বলেন। যার ফলে উন্নয়নমূলক কাজ করতে সুবিধা হবে বলে তিনি জানান।

বাঁকুড়া জেলা চেম্বার অফ কমার্সের এক প্রতিনিধির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া জেলায় ‘এগ্রিকালচার হাব’ তৈরির নির্দেশ দেন। তিনি জানান, এই জেলা ডিম ও বীজ উদপাদনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। আরও এগোতে হবে। এছাড়াও চেম্বার অফ কমার্সের তরফে বর্তমান ‘খুচরো কয়েন সংক্রান্ত সমস্যা’র কথা বলতে চাইলে সাংসদ মুনমুন সেন ও রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি তুলবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন: অমানবিক শহরে মানবিক মুখ ট্যাক্সিচালকের

বেসরকারী স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমস্যার কথা এদিন শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। সব রকম সহযোগীতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়াও এদিন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নতুন মর্গ তৈরীর নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘মৃতদেহ সংরক্ষণ ও সৎকার যাতে ঠিকমতো হয়, তা দেখতে হবে।’’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আলোচনায় উঠে আসে নদীভাঙ্গন প্রসঙ্গও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার সে বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগী। সব কাজ হবে। একই সঙ্গে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তার কড়া বার্তা নিজেরা কাজ করুন ও করিয়ে নিন। আমার কানে বিষয়টি তুলে দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলবেন না। এখান থেকে ফিরে গিয়ে এলাকায় প্রচার করবেন, ওই তো দিদিকে বলেছি। এটি চলবে না। এই কাজ বরদাস্ত করব না বলেও তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দেন।’’

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা এড়াতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বালুরঘাটের ট্রাফিক ব্যবস্থা

----
-----