মোদীর বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন মমতা!

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মহার্ঘ পেট্রল ডিজেল৷ জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে মাথায় হাত আম আদমীর৷ তবে রাজ্যবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা৷ সেস-এ ছাড় দিয়ে প্রতি লিটার পেট্রল, ডিজেলে ১টাকা করে কমানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ একই সঙ্গে প্রেট্রো-পণ্যের দাম বাড়ার জন্য কেন্দ্রীয় নীতিহীনতাকেও দায়ি করেছেন তিনি৷

কেন্দ্রের দাবি বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও তেল উৎপাদনকারী দেশের পরিমিত উৎপাদনের ফলেই ভারতের মাটিতে ক্রমাগত জ্বালানীর দাম বাড়ছে৷ তবে যুক্তিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বাংলার মখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর দাবি মোদী সরকাররের আমলে বেশ কয়েকবার ব্যারল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও স্বস্তি পাননি দেশবাসী৷ পরিসংখ্যান তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত দু’বছরে মোট ৯বার এক্সসাইজ ডিউটি বাড়িয়েছে কেন্দ্র৷ এতে তেলের দাম বেড়েছে ১১টাকা ৭৭ পয়সা৷’’

- Advertisement -

তথ্য তুলে ধরতে এদিন ২০১৬’র পরিস্থিতির সঙ্গে চলতি মাসের জ্বালানির দামের তুলনা টানেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর কথায়, ‘‘২০১৬-র জানুয়ারিতে লিটার পিছু পেট্রোলের দাম ছিল ৬৫ টাকা ১২ পয়সা। সেই দাম বেড়ে ২০১৮-র ১লা সেপ্টেম্বরে লিটার পিছু পেট্রোলের দাম হয়েছে ৮১.৬০ টাকা। সমান তালে ঊর্ধ্বমুখী ডিজেলও। ২০১৬-র জানুয়ারিতে এক লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৪৮.৮০ টাকা। বাড়তে বাড়়তে এখন লিটার পিছু ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৩.২৬ টাকা।’’

নবান্নে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত দু’বছরে রাজ্য বিক্রয় কর ও সেস বাবদ এক পয়সাও বাড়য়নি৷ শুধু কেন্দ্রীয় উদাসীনতার জন্যই ভূগতে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে৷

পেট্রল ডিজেলের দাম অত্যধিক হারে বাড়তেই বিজেপি শাসিত রাজস্থান ও চন্দ্রবাবুর অন্দ্রপ্রদেশ তেলের দামে চাড় ঘোষণা করে৷ ওই দুই রাজ্যের সিদ্ধান্তকে মুখ্যমন্ত্রী ‘ভোটমুখি’ বলে দাবি করেন৷ তাঁর যুক্তি, পশ্চিমবঙ্গকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করতে হয়৷ তাই তেলের দামে ব্যাপক হারে ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়৷

মমতার ঘোষণাকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা৷ তাদের দাবি, বেশ কিছু রাজ্য তেলের দামে ছাড়ের ঘোষণা করেছে৷ অনেকে রাজ্যই ছাড়ের কথা ভাবছে৷ ফলে মুখ পুড়তে পারে তৃণমূল সরকারের৷ তাই ভোটের কথা ভেবে মাত্র এক টাকা কমিয়ে জনগণকে বৃথা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

Advertisement
---