মমতা লেট, অভিষেক নেই, ভেঙেও মাইলেজ পেলনা মাঝেরহাট ব্রিজ

দেবযানী সরকার: সামনে ভোট কবে, তা পরিস্কার নয়৷ মাঝেরহাটে যাওয়া নিয়ে বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের তেমন কোনও তাড়াহুড়োও নেই৷ পোস্তা উড়ালপুল ভাঙার খবর পেয়েই সবকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা যেভাবে পড়িমরি করে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন সেই তৎপড়তা দেখা গেল না মাঝেরহাটের ক্ষেত্রে৷ দুর্ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে দিল্লির কোনও বড় নেতা তো নই, খোদ মুখ্যমন্ত্রী এসে পৌছতেও পরের দিন বিকেল হয়ে গেল৷ দেখা গেল না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও৷ কিন্তু কয়েকদিন পরই যদি ভোট হত তাহলেও কি ছবি একইরকম হত? প্রশ্ন উঠছে কেন এমন হল? মৃতদেহের সংখ্যা কম, তাই?

মঙ্গলবার বিকেলে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে প্রথম ছুটে যান পুর ও নগরোয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ তারপরে কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা-একে একে সব দলের প্রতিনিধিরাই ঘটনাস্থলে গিয়েছেন৷ অন্যদিকে এসএসকেএম-এ আহতদের দেখতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, তৃণমূল নেতা মদন মিত্র, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও ছুটে গিয়েছেন কিন্তু তারপরও পোস্তার কথা মনে পড়লে অনেকেরই এক্ষেত্রে কিছু একটা ‘মিসিং’ মনে হচ্ছে৷

কিন্তু কী মিসিং? পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল লাল-সবুজ-গেরুয়া, সব শিবির৷ প্রায় পুরো টিম নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি নেতারাও রীতিমতো সারাদিন সেখানে ফিল্ডিং কেটেছিলেন৷ দু-দিন পরে হলেও দিল্লি থেকে এসেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ অথচ মাঝেরহাটের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতারা এলেন, কয়েক মিনিট দুর্ঘটনাস্থল দেখলেন, রাজ্যের ঘাড়ে দায় চাপালেন(সিপিএম বাদে)এবং চলে গেলেন৷ উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার প্রায় ২০ ঘন্টা পর বুধবার দুপুরে মুর্শিদাবাদ থেকে মাঝেরহাটে এসেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী৷ আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কলকাতায় না থাকায় তিনি আসতেই পারেননি৷ কলকাতায় না থাকলেও তিনি এরাজ্যেই আছেন৷

- Advertisement -

ঘটনার পর মাঝেরহাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিও খুবই চোখে লাগার মতো৷যদিও মাঝেরহাটে দুর্ঘটনাটি যখন ঘটে তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে ছিলেন৷ খবর পাওয়া মাত্রই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে যা যা করার তিনি তাই করেছেন৷ ঠিকমতো উদ্ধার কাজের নির্দেশ থেকে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা-কোনও কিছুতেই তাঁর কোনও খামতি ছিল না৷ কিন্তু তারপরও তাঁর সশরীরে উপস্থিতি মিসিং থেকে গেল৷

পোস্তা উড়ালপুল দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের যে সংখ্যা ছিল মাঝেরহাট ব্রিজ দুর্ঘটনায় তত ক্ষতি হয়নি ঠিকই কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই দুর্ঘটনা কোনও অংশেই ছোট নয়৷বুধবার সন্ধ্যেবেলায় দুর্ঘটনাস্থলে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, আরও বড় কিছু হতে পারত৷এই আশঙ্কা মাঝেরহাটের স্থানীয় বাসিন্দাদের মনেও ছিল৷ তাঁদের অনেকেরই প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করলে কি বুধবার সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টার আগে ঘটনাস্থলে আসতে পারতেন না? আসলে এই প্রত্যাশা তৈরি করেছেন মমতা নিজেই৷রাজ্যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বিরোধী নেত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রী মমতা, যেখানেই থাকুন তিনি সবার আগে ঘটনাস্থলে ছুটেছেন৷ এক্ষেত্রে তেমনটা হল না৷ পরিস্থিতি অনেকটা সামলে ওঠার পর তিনি সেখানে গেলেন৷এবং দুর্ঘটনার দায় রেলের উপর চাপালেন৷

দুর্ঘটনাস্থলে যেতে দেখা গেল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ অভিষেকের নাম আলাদা করে বলতে হচ্ছে কারণ তাঁর লোকসভা কেন্দ্রটি দুর্ঘটনাস্থলের লাগোয়া৷ এবং মমতার অনুপস্থিতিতে তিনি দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড৷ পরবর্তীতে নাকি মুখ্যমন্ত্রীও৷ তাই এরকম পরিস্থিতিতে অনেক চোখই অভিষেককে খুঁজেছেন৷

এখনও পর্যন্ত দিল্লি থেকে কোনও দলেরই নেতাদের আসার খরব নেই৷ রাহুল গান্ধী এখন কৈলাসে৷ মানস সরবরের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন৷ ভোট থাকলে কৈলাস থেকে কলকাতায় উড়ে আসতেন কিনা তা বলা কঠিন৷ কী করতেন, মোদী বা অমিত শাহ? মাঝেরহাটের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ ট্যুইট করে শোকপ্রকাশ করেছিলেন, এই যা৷ এছাড়া বাংলার কংগ্রেস-বিজেপি এখন ব্যস্ত অঘটনের ময়দানে রাজনীতি করতে৷ আহত-নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার সময় এখনও তাঁদের হয়নি৷ কারণ সামনে কোনও ভোট নেই৷

Advertisement
---