রাজ্যে হিংসার ঘটনায় মমতার সরকারকে রিপোর্ট তলব কেন্দ্রের

স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে হিংসার ঘটনার জেরে মমতার সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় সরকার৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হিংসা ছড়ানোর কারণ কি? প্রয়োজনে আধা সেনা পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে কেন্দ্র৷

যদিও নবান্ন সূত্রের প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে, রাজ্যের হিংসার ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়োর কাছেও৷

রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবারই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় রানিগঞ্জে। মৃত্যু হয় একজনের। বোমার আঘাতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার অরিন্দম দত্ত চৌধুরির একটি হাতের একাংশ উড়ে যায়।

- Advertisement -

এছাড়াও আরও কয়েকটি জেলায় হিংসার ঘটনা ঘটে৷ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করে মঙ্গলবারই পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ো৷ টেলিফোনের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নজরেও এনেছিলেন বিষয়টি৷

ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, এরপরই কেন্দ্রের তরফে হিংসার কারণ জানতে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি তলব করা হয়েছে৷ একই সঙ্গে বলা হয়েছে- প্রয়োজনে আধাসেনা পাঠানো হবে৷ যদিও নবান্নের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘এই মুহুর্তে আধাসেনার প্রয়োজন নেই৷ পরিস্থিতি সামলানোর মতো ফোর্স আমাদের রয়েছে৷’’ তৃণমূল অবশ্য কেন্দ্রের এই আধাসেনার সহায়তার পিছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে৷ দলের রাজ্যস্তরের এক শীর্ষনেতার কথায়, ‘‘যখন পাহাড়ে বাহিনী প্রয়োজন দরকার ছিল, তখন কেন্দ্র তুলে নিয়েছিল৷ এখন পঞ্চায়েত ভোটের মুখে কেন্দ্রের আধা সামরিক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ করে নিলে বিজেপি নেতারা সরব হবেন- রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার কোনও পরিস্থিতি নেই৷ তাই আমরা ওদের টোপে পা দেব না৷’’

প্রসঙ্গত, রামনবমীর দিন আসানসোলে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছিলেন৷ এদিন তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা৷

এদিকে রাজ্যে নতন করে হিংসা ছড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা অব্যহত৷ বাবুল সুপ্রিয় ফের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগে সরব হয়েছেন৷ পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘রামের নামে অস্ত্র মিছিল বের করে রাজ্য জুড়ে পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়াতে চাইছে বিজেপি৷’’

Advertisement ---
---
-----