‘মোদী সরে যান, দেশ চালান রাজনাথ-জেটলি’

কলকাতা: সরকার থেকে সরাতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে। এমন কথা প্রায় বলে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলের লোকজনের স্লোগানও ‘মোদী হটাও’। মোদী তথা বিজেপির বিরোধিতা করতে অন্যান্য দলকে একজোট করতেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। কিন্তু এবার যা বললেন, সেটা নজিরবিহীন। মোদীর বিরোধিতা করতে ডাক দিলেন খোদ বিজেপি-রই প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীদের।

এদিন মমতা বলেন, নোট বাতিলের ফলে তাঁর রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন৷ প্রায় সাড়ে ৮১লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন৷ জেলার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে মিলছে না টাকা৷ বিমুদ্রীকরণের ফলে মুল্যবৃদ্ধি হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যের৷ এমন অবস্থা চলতে থাকে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাবে দেশ৷

মমতার তালিকায় বিজেপির  ৩ নেতার নাম। যা দেখে বেশ জল্পনাও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং বিদ্যুৎ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী পী‌যূষ গোয়েলের সঙ্গে নাকি তৃণমূলের বেশ ভাল সম্পর্ক এমন খবর আগেই এসেছিল রাজ্য বিজেপির কাছে। এবার সেইসঙ্গে উঠে এল আদবানীর নাম।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার তৃণমূলের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিযানের পর, ওই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠান নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূল সাংসদরা কী করে ভিতরে ঢুকলেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়ে পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, দেশকে রক্ষা করতে, জাতীয় সরকার গড়তে হবে। কারণ, বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদবাণীজি, রাজনাথজি এবং জেটলিজি, যে কেউ সেই সরকারের প্রধান হতে পারেন। তবে, মোদী পদত্যাগ করুন বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের এই মন্তব্যের পাশপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিজেপির মধ্যেই ভাঙন ধরানোর চেষ্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Advertisement ---
---
-----