সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পর আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার নীতিতে বড় পরিবর্তন

কলকাতা:  কাজ করতে করতেই কোনও সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে যে চাকরি দেওয়া হয় সেই প্রক্রিয়াতে বড়সড় পরিবর্তন আনল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। অনেক সময়েই অভিযোগ ওঠে, এভাবে চাকরি পেতে বছরের পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে মৃত কর্মীর পরিবারকে ব্যাপক আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আর সেই সমস্যা কাটাতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, মৃত কর্মী যে দফতরে কাজ করতেন সেখানেই তাঁর পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু ওই দফতরে বিশেষ ছাড়পত্র, কোটা বা ‘এক্সেমটেড ক্যাটিগরিতে’ কোনও শূন্যপদ না থাকলে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি অর্থ দফতর নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দিয়েছে, অন্য দফতরেও চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মৃত কর্মী যে দফতরে কাজ করতেন, সেখানে কোনও শূন্যপদ না থাকলে যে দফতরে শূন্যপদ রয়েছে, সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলা ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, মৃত সরকারি কর্মীদের আত্মীয়দের চাকরি কোন প্রক্রিয়াতে হবে তা অর্থ দফতর জানিয়ে দিয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দফতর এই ক্ষেত্রে চাকরি প্রাপকদের বিষয়টি অর্থ দফতরকে জানাবে। এরপর অর্থ দফতর এই ক্যাটাগরিতে কোথায়, কত শূন্যপদ রয়েছে তা খতিয়ে দেখবে। যেখানে শূন্যপদ আছে, সেখানে গ্রুপ ডি পদে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি সূত্রে খবর, মৃত কর্মী যে দপ্তরে কাজ করতেন, সেখানে চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু ওই দপ্তরে শূন্যপদ না থাকলে অন্যত্র চাকরির ব্যবস্থা হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি শাসক সহ বিরোধী সংগঠনগুলি।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর কর্মরত অবস্থায় মৃত কর্মীদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নীতি তৈরি করা হয়। সরকারি কর্মীর মৃত্যুর ছ’ মাসের মধ্যে আবেদন করার যে সময়সীমা ছিল, তা বাড়িয়ে দু’ বছর করা হয়। পাশাপাশি মৃত কর্মীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থাও করা হয়।

ফাইল ছবি

যদি দেখা যায়, মৃত্যুর পর পরিবারের আয় পেনশন সহ বিভিন্ন সূত্র মিলিয়ে আগের তুলনায় ৯০ শতাংশের কম হয়, তবেই পরিবারের কোনও সদস্য চাকরি পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। আর্থিক অবস্থা সহ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দফতরে তিন সদস্যর বিশেষ কমিটিও আছে। এমনটাই বাংলা ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এরপরেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যদিও সেই সমস্যা কাটাতে বেশ কিছু রদবদল মমতা প্রশাসনের।

-------
----