মুকুলে অশনি সঙ্কেত! পুজোর পরেই ঘর গোছাতে বসছেন মমতা

কলকাতা:  বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি জোটবদ্ধ হয়ে শাসকদলের ভোট লুঠ বন্ধ করতে মরিয়া প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে৷পুজো শেষ হলেই দলের লোক ভাঙিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে মুকুল রায়ের নতুন দল ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস ’। এরই মধ্যে নতুন করে সারদা-কাণ্ডে ফের সিবিআই সক্রিয় হওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। ফলে সব মিলিয়ে ঘরে বাইরে যথেষ্ট চাপে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই পুজো মিটতেই দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে বসতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলের সাংগঠনিক পদাধিকারী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে এই কেন্দ্রীয় সভার খবর পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে পুজোর মধ্যেই৷ প্যান্ডেলের জনসংযোগ পর্ব শেষ হলেই মুখ্যমন্ত্রী দলের নেতা -মন্ত্রীদের ঘর গোছানোর নির্দেশ দেবেন বলে সূত্রের খবর৷ সাংসদ , বিধায়ক , জেলা সভাপতিদের তো বটেই , জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং পুরপ্রধানদেরও ডাকা হবে সেই সভায়৷ দলের দুষ্কৃতীদের হাতে দেদার সাংবাদিক নিগ্রহে অপ্রস্ত্তত মুখ্যমন্ত্রী ভোট নিয়ে আজ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ঝুঁকি নেননি৷ এই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই মমতা পুজোর পর থেকেই দলকে নতুন করে ভোটমুখী করতে শুরু করবেন৷ তবে দল ভাঙার প্রশ্নে তৃণমূলের বড় নেতারা বিদ্রোহী মুকুলকে প্রকাশ্যে অন্তত আমল দিতে চাইছেন না৷এই বিষয়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন , ‘মুকুল কোনওদিনই দল করতে পারবেন না৷ উনি প্রতি সাত দিন অন্তর এক এক রকম কথা বলেন৷ কখনও আবদুল মান্নানের কাছে যাচ্ছেন , তো কখনও রেজ্জাক মোল্লার কাছে৷ ওঁর দ্বারা আলাদা দল হবে না৷ ’মহালয়ার দিনই ভারতীয় ভাষা পরিষদ হলে সমাজের কিছু গণ্যমান্য নাগরিক এবং খোদ মুকুলের উপস্থিতিতে ‘খোলা হাওয়া ’ নামের একটি পত্রিকা চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷ এই পত্রিকার প্রকাশক প্রস্তাবিত নতুন দল ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের ’ সভাপতি৷ ভবিষ্যতে মুকুলবাবু যদি নতুন দল খোলেন , তা হলে এই পত্রিকাই সেই দলের মুখপত্র হতে চলেছে বলে অনুমান করছে রাজনৈতিক মহল৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন , বিহারে এনডি -এ জোটে কতটা জমি পায় সেটা দেখে নিয়ে বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কৌশল চূড়ান্ত করবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ সেখানে ভোটপর্ব মেটার আগেই বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ বাংলার শাসকদলকে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে হুমকি দিতে শুরু করেছেন৷ অনেকেই মনে করছেন , বিহারের ফলাফলে উত্সাহিত হলে কেন্দ্র মমতার বিরুদ্ধে আগ্রাসন বাড়াতে পারে৷ এদিকে শিলিগুড়িতে সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্যের পর পর দু’টি ভোটে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রতিরোধের যে মডেলকে সুপারহিট বানিয়ে ছেড়েছেন , তাকে মোটেই খাটো করে দেখছে না শাসকদল। তাই পুজোর পর নেত্রী এলাকা ধরে ধরে দায়িত্বপ্রান্ত নেতাদের কাছে রিপোর্ট চাইবেন৷ বিধায়ক , সাংসদরা কী কী খাতে তাঁদের টাকা খরচ করতে পারেননি তার সবিস্তার তথ্যও চাইবেন তিনি৷ বিধানসভা ভোটে কোন কোন বিষয় নিয়ে নেতাদের প্রচারে যেতে হবে , তা -ও ওই বৈঠকে সবিস্তার আলোচনা করবেন মমতা।

Advertisement
----
-----