৯০ মিনিটই জীবনের শেষ কথা মামুনুলের

তাঁর জীবনে ৯০মিনিটটাই শেষ কথা৷ কথায় কথায় বলেন, ওই ৯০ মিনিটে আমি কি করলাম সেটাই মানুষ মনে রাখবে৷তাই তিনি বাঁচেন ফুটবল মাঠের ৯০ মিনিটের কথা ভেবে৷বাড়ি থেকে দুরে ক্লাবের হোস্টেলেই জীবন কাটে৷এই জন্যই হয়তো এভাবে এতটা দল নিয়ে লড়াইয়ের কথা বলতে পারেন৷ বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয় মামুনুলদের ফুটবলপ্রেম৷দেশের ফুটবলের জন্য লড়ে যাওয়ার কথা বলেন ওরা৷ ভারতে খেলতে আশা বাংলাদেশের দল শেখ জামাল ধানমন্ডি শিল্ড ফাইনালে পৌঁছেতাদের দেশে এখন জাতীয় দলের সম্মান পাচ্ছে৷ শুভেচ্ছা বার্তায় ভরে উঠেছে মোবাইল থেকে ফেসবুকের মেসেজবক্স৷ এত ভালবাসার দাম যে দিতে হবে ট্রফি জিতেই৷ হোটেলের লবিতে বসে সেই কথাই শোনাচ্ছিলেন শেখ জামাল তথা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম৷ কথা বললেন, সুচরিতা সেন চৌধুরী৷

ছোটবেলা থেকে জিমন্যাস্টিক করতেন হঠাৎ ফুটবলে চলে এলেন?

আমাদের বাড়িতে সবাই স্পোর্টসম্যান৷ বাবা, কাকা, মামা৷ কেউ ফুটবল খেলেছেন আবার কেউ অ্যাথলিট ছিলেন৷ আমি জিমন্যাস্টিক করতে করতেই ফুটবলে চলে যাই৷ ফুটবল ভাললাগতে শুরু করে৷ তখন ক্লাস সেভেনে পড়তাম৷ এখানকার টাটা অ্যাকাডেমির মতোই আমাদের ওখানে বিএসকেপি৷ সেখানেই প্রথমে জিমন্যাস্টিক পরে ফুটবলের ট্রেনিং নিই৷

ভারতে কি এই প্রথম খেলতে এলেন?

কলকাতায় প্রথম খেলতে এলাম৷ কিন্তু ভারতে এর আগে এসেছি৷ বিএসকেপির হয়ে দু’বার এসেছিলাম সুব্রত কাপ খেলতে৷ তার পর ২০১০ এ সাফকাপ খেলেছি দিল্লিতে৷

ভারতে খেলার ইচ্ছে আছে?

অবশ্যই আছে৷ ভারতের ফুটবল মার্কেট অনেক বড়৷ এখানে এশিয়ান কোটারও জায়গা আছে৷ আমি সুযোগ পেলে খেলতে অবশ্যই আসব৷

ভারতের বিরুদ্ধ অনেক ম্যাচ খেলেছেন, সব থেকে পছন্দের ফুটবলার কে?

সুনীল ছেত্রীর খেলা ভাল লাগে৷ কিন্তু আমার সব থেকে বেশি ভাললাগে নবি ভাইকে (রহিম নবি)৷ ও যত বড় ফুটবলার তত বড়ই মানুষ৷ আমরা একে অপরকে অনেকদিন ধরেই চিনি৷ ওর মধ্যে একটা বড় মাপের মানুষ রয়েছে৷

আপনার বেড়ে ওঠাটা একটু বলুন৷ কোন ক্লাব দিয়ে শুরু?

আপনার কেরিয়ারের শুরুতে সব থেকে বেশি ভূমিকা ছিল ভারতেরই এক কোচের৷ তিনি নঈমুদ্দিন৷ তিনিই আমাকে প্রথম ব্রাদার্সে নিয়ে যান৷ ওখানে আমি ওনার কোচিংয়ে খেলতে খেলতেই জাতীয় দলে সুযোগ পাই ২০০৭ সালে৷ তার পর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি৷ ওনার কোচিং এখনও অনুসরণ করি৷

ক্লাব কেরিয়ারে তো টানা সাফল্য?

হ্যাঁ, সেটা ঠিক৷ যখন যে ক্লাবে গিয়েছি সাফল্য এসেছে৷ আবাহনিতে লিগ চ্যাম্পিয়ন, ফেডকাপ রানার্স৷ মহমেডানে ফেডকাপ চ্যাম্পিয়ন, লিগ রানার্স৷ শেখ রাসেলে ফেডকাপ, লিগ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাপ চ্যাম্পিয়ন৷ শেখ জামালে প্রথমবার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর এবার এখনও পর্যন্ত ফেডকাপ চ্যাম্পিয়ন৷ লিগ জেতার সুযোগ এখনও রয়েছে৷

ভারতীয় ফুটবল আর আপনাদের ফুটবলের মধ্যে কোনও পার্থক্য খুঁজে পান?

আমাদের থেকে ভারতীয় ফুটবল অনেকটাই এগিয়ে৷ আমরাও আস্তে আস্তে উন্নতি করছি৷ শেখ জামালের মতো ক্লাব এসেছে৷ যারা  ভাল পরিকাঠামো তৈরি করছে৷ আমরা সবাই ক্লাবের ক্যাম্পাসের মধ্যেই থাকি একসঙ্গে৷ নিজেদের মাঠ আছে৷ সব ভাল ব্যবস্থা৷

আর জাতীয় ফুটবল দলের কোনও সাফল্য?

আমি জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর লেবানন, মায়ানমারের মতো দলকে হারিয়েছি৷ মালয়েশিয়া, ভারতের মতো দলের সঙ্গে ড্র করেছি৷ কিন্তু আরও উন্নতি করতে হবে৷ আমাদের ফেডারেশনে সব প্রাক্তন ফুটবলার কিন্তু সেই তুলনায় কিছুই কাজ হয় না৷

এখানে আসার আগে ভেবেছিলেন শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এত কাছে পৌঁছে যাবেন?

এতটা না ভাবলেও নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এসেছিলাম৷ তার পর মহমেডানের কাছে হারের পর নিজেদের ভুল-ভ্রান্তিগুলো বুঝতে পারলাম৷ সেগুলি শুধরে নেওয়ার চেষ্টাও করেছি৷ পেরেওছি অনেকটা৷ মোহনবাগান, মহমেডানের মতো দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসটাও বেড়েছে অনেক৷

ফাইনালে মহমেডানের বিরুদ্ধে কি প্রতিশোধের ম্যাচ?

একদম না৷ প্রতিশোধ ভাবলে নিজেদের খেলাটাই ভুলে যাব৷ জেতার জন্য নামব৷ আগের ম্যাচের ভুলগুলি শুধরে নামতে হবে আমাদের৷ জেতা ছাড়া আর কিছুই ভাবছি না৷ পুরো দেশ অপেক্ষা করছে৷

শিল্ড জিতে ফিরলে আপনাদেরকে নিয়ে তো দেশে উৎসব হবে?

একদম তাই৷ সবাই মুখিয়ে রয়েছে৷ শুনলাম জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখান হবে বিভিন্ন জায়গায়৷ এতটাই আবেগে ফুটছে দেশ৷ দেশের এত মানুষের জন্যই আমাদের ট্রফিটা জিততে হবে৷ আর এটা জিতে গেলে লিগেও আমরা বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারব৷

———————————————————————————————————————————————————————

 

 

 

 

Advertisement
----
-----