বর্ধমান : ফলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানোর খবর অনেক দিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। এবার এমনি এক ব্যবসায়ীকে একদম হাতে নাতে ধরল পুলিশ। ধৃত ওই ব্যক্তির নাম রবীন বিশ্বাস। রবীন জামালপুর থানা এলাকার বাদপুরের বাসিন্দা।

সম্প্রতি বর্ধমান শহরের কয়েকটি বাজারে হানা দিয়ে আপেলে মোমের প্রলেপ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল। বিষয়টি ধরে ফেলেন বর্ধমানের জেলা শাসক ডক্টর সৌমিত্র মোহন। চকচকে দেখাতে আপেলগুলিতে মোমের প্রলেপ লাগানোয় সেগুলি দেখতে তরতাজা লাগছিল। এই আপেল কান্ডের পর এবার সামনে এল কলায় রাসায়নিক ব্যবহারের ঘটনা। ‘এথিফন’ নামে ওই রাসায়নিক গাছের বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত করা হয়। কাঁচা কলা পাকানোর জন্য ব্যবহৃত এই রাসায়নিক থেকে শরীরিক রোগ থেকে শুরু করে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। শুক্রবার এথিফন রাসায়নিক ব্যবহার করে কলা পাকানোর সময় রবীন বিশ্বাসকে হাতেনাতে ধরে জেলা দুর্নীতি দমন শাখা। কলা পাকাতে অসাধু উপায় অবলম্বনের অভিযোগে তাকে তখনি গ্রেফতার করা হয়। জৌগ্রাম স্টেশন বাজারে রয়েছে রবীনের দোকানটি।

দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে জৌগ্রাম স্টেশন বাজারে কলার হোলসেল ব্যবসা রয়েছে রবীন বিশ্বাসের। সে তাড়াতাড়ি কলা পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বইডের পরিবর্তে এথিফন রাসায়নিক ব্যবহার করত। এথিফনের ব্যবহারে কার্বইডের তুলনায় কম সময়ে কলা পাকে। তাড়াতাড়ি পুষ্টও হয় কলা। কলা পাকাতে এই রাসায়নিক ব্যবহারের খবর পেয়ে শুক্রবার দুর্নীতি দমন শাখার একটি টিম তার দোকানে হানা দেয়। সেই সময় বালতিতে জলের সঙ্গে এথিফন মিশিয়ে কাঁচা কলা তাতে ডোবানোর কাজ চলছিল। তখনি গ্রেফতার তাকে করে দুনীতি দমন শাখা। রবীনের দোকান থেকে এথিফনের পাত্র, তরল ভরতি বালতি ও কাঁচা কলা বাজেয়াপ্ত করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। শনিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম অত্ৰি চন্দ।

 

 

----
--