এনআরসি নিয়ে বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে: মন্দাক্রান্তা সেন

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: বিভাজন তৈরি করার জন্য বিজেপি অসমে এনআরসি চালু করেছে৷ এমনটাই দাবি করছেন কবি ও সাহিত্যিক মন্দাক্রান্তা সেন৷ রবিবার কোচবিহারের নেতাজী সুভাষ ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদ জেলা কমিটির উদ্যোগে এনআরসি নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়৷ সেখানেই তিনি এই কথা বলেন৷

এই অনুষ্ঠানে মন্দাক্রান্তা সেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, সঙ্গীতশিল্পী শুভেন্দু মাইতি প্রমুখ।

এদিন মন্দাক্রান্তা সেন বলেন, “আমরা দেখছি আসামে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, উদ্বেগজনক ও আশঙ্কাজনক। সেখানে একটা বিভাজন শুরু হয়েছে৷ আমরা দেখেছি বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ১৯৫১ সালের এনআরসি আইন পুনরায় চালু করছে৷ সেখানে ৪০ লক্ষ মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া হচ্ছে। এই রকমভাবে রাষ্ট্রহীন করে পায়ের তলার মাটি সরিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করছি আমরা৷ এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বিভাজনের রাজনীতির পিছনে কাজ করছে৷ কারণ সামনেই অসমে পঞ্চায়েত ভোট৷ এরপরেই লোকসভা নির্বাচন৷ তার আগে বিভাজন করে মেরুকরণ তৈরি করছে বিজেপি৷ একটা ঘৃণ্য রাজনীতির খেলায় মেতেছে বিজেপি৷

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এনআরসি গোটা দেশের মানুষের কাছে উদ্বেগের বিষয়৷ বাংলার মানুষের কাছেও উদ্বেগের এই এনআরসি৷ এই দেশের মানুষের নাগরিকত্ব ও বেঁচে থাকার অধিকার কার্যত বরবাদ করে দেওয়া হচ্ছে৷ এনআরসির নামকে ব্যবহার করে বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে। আর এই কাজ বন্ধ করতে আমাদের সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। এনআরসির নাম করে বিজেপির হুঙ্কার দিচ্ছে পশ্চিম বাংলা সহ গোটা ভারতবর্ষে৷ বিভিন্ন জায়গায় এনআরসি তৈরি করা হবে৷ কোটি কোটি মানুষকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হবে৷ এই হুঙ্কারের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মানুষকে রুখে দাঁড়াতেই হবে৷’’

আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “এনআরসি কোন বাঙালী অহমিয়া বিদ্বেষ নয়৷ এটা একটা নাগরিকত্বের প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন৷ কিন্তু বিজেপি যে বিভাজনের রাজনীতি করছে৷ তেমনি তৃণমূল কংগ্রেসও এক অহমিয়া বাঙালী বিরোধ হিসেবে তুলে ধরছে৷ আমরা এর বিরোধিতা করছি৷”

---- -----