এমন পরাজয় ধারণার বাইরে ছিল কমরেডদের!

গোবিন্দ দেবনাথ: আগরতলা: মেলার মাঠ৷ দশরথ দেব স্মৃতি ভবন৷ লালে মোড়া সাত তলা বিল্ডিং৷ সেখানে এখন শুধুই হাহাকার৷ এমন পরাজয়ের আভাস যে ক’ঘণ্টা আগেও ধারণার বাইরে ছিল ‘কমরেড’দের!

অগত্যা, বারংবার বেজে গিয়েছে ত্রিপুরা সিপিএমের ‘মিথ’ থুড়ি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের ফোন৷ নাম প্রকাশ করা যাবে না, এই শর্তে সিপিএমের আগরতলার এক নেতার অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘উন্নয়ন দিয়ে তো ভোট হয় না৷ ভোট করাতে হয়৷ এবারে আমরা ভোট করানোর ক্ষেত্রে ষোলা আনা ব্যর্থ৷’’

পড়ুন: ‘কত হল গো…’ হতাশ কণ্ঠ বলছে ‘সরি কমরেড’

৪১-১৮র ব্যবধানে নেমে এসেছে ২৫ বছরের সরকারের পরাজয়৷ কিংবা বলা ভাল, বামেদের কথা রাখেনি ২৫ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪১৩ ভোটারের সিংহভাগ৷ স্বভাবতই হতাশ ‘কমরেড’রা খোঁজ শুরু করেছেন পরাজয়ের কারণ৷

রাজনৈতিক মহলের মতে: ত্রিপুরা থেকে লাল মুছে যাওয়ার পিছনে রয়েছে প্রধান তিনটি কারণ৷ ওই মহলের মতে, গত ২৫ বছরের কায়দায় এবারে বুথ ‘ম্যানেজমেন্ট’ করতে পারেনি বামেরা৷ দলের এক নেতার অরকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘গত ২৫ বছর ধরে আমাদের জয়ের প্রধান ভরসা ছিল ছাপ্পা ভোট৷ এবার সেটা হয়নি৷ কারণ, প্রতিটি বুথ পাহারায় ছিল গেরুয়া শিবির৷’’

দ্বিতীয়ত, বেকারত্বের নিরিখে মুখ ফিরিয়েছে যুব সংগঠন৷ তৃতীয়ত, পে-কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মীদের পাহাড় প্রমাণ ক্ষোভ৷ কেন্দ্র সপ্তম পে-কমিশন চালু করলেও ত্রিপুরার সরকারি কর্মীরা এখনও আটকে রয়েছে চুতর্থ পে-কমিশনেই৷

ওই মহলের মতে, বাড়তি হিসেবে যোগ হয়েছে, ২৫ বছরের প্রাপ্ত বয়স্ক সরকারের প্রতি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া৷ দোসর হিসেবে ময়দানে নেমেছিলেন মুকুল রায়৷ তারই জেরে বামেদের এই বড়সড় পরাজয়- দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের৷

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বিপ্লব কুমার দেবের দাবি, ‘‘এই জয় গণতন্ত্রের জয়৷ মানুষের জয়৷’’ সিপিএমের মানিক সরকার অবশ্য নীরব৷ বারংবার ফোন করেও মেলেনি কোনও সাড়া৷

Advertisement
----
-----