মোদীর ভারতে আঁধার ঘুচল সব গ্রামের

ইম্ফল: কেন্দ্র বলছে বাদ নেই কেউ৷ বিদ্যুতায়ন হয়ে গেল মনিপুরের ছোট্ট গ্রাম লেইসাঙে৷ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী দেশে কোথাও বিদ্যুৎ পৌঁছতে বাকি নেই৷ মনিপুরের সেনাপতি জেলার গ্রাম লেইসাঙে এতদিন জ্বলেনি বাল্ব৷ দিনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনায় গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছনোর কাজে সর্বশেষ গ্রাম হয়ে রয়ে গিয়েছিল এটি৷ অবশেষে তড়িৎ বাতির মুখ দেখতে চলেছে এই গ্রাম৷

কেন্দীয় সরকার বলছে ১৮,৪৫২ টি গ্রাম তিন বছর আগে বিদ্যুতায়ন থেকে বঞ্চিত ছিল৷ তার মধ্যে এই তিন বছরে ১৭,১৮১ টি গ্রামে বিদুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে৷ বাকি গ্রামগুলি বসতিহীন বা নির্জন হওয়ায় সেগুলিকে চারণভূমি সংরক্ষণ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্যুইটারে লেখেন, “ভারতের ইতিহাসে ২৮ এপ্রিল ২০১৮ ঐতিহাসিক দিন হিসেবে গুরুত্ব পাবে৷ আমরা আমাদের কথা রেখেছি৷ গতকাল আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি৷ এর ফলে বহু ভারতবাসীর জীবন পাল্টে যাবে চিরতরে৷ ভারতের প্রতিটি গ্রামের মানুষ বিদুৎ ব্যবহার করতে পারছেন৷ এতে আমি খুশি৷”

- Advertisement -

ট্যুইটে তিনি আরও লেখেন, “মনিপুরের লেইসাঙ গ্রাম, হাজারটা অন্য গ্রামের মতই তড়িৎ শক্তি পেল এবং ক্ষমতাশালী হল৷ এই খবর প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে গর্বের ও খুশির৷” একটি গ্রামে যদি ১০ শতাংশ বাড়িতে বা সাধারনের চলাচলের রাস্তায় কিমবা পঞ্চায়েত, স্কুল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে বিদ্যুতে আলো জ্বলে তাহলেই সেই গ্রামে বিদ্যুৎ রয়েছে বলে ধরা হবে৷

এর আগে ২০১৫ সালে কেন্দ্র ১৮,৪৫২ টি গ্রামকে বিদ্যুৎবিহীন গ্রাম বলে চিহ্নিত করে ও তাদের দিনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনার আওতাভুক্ত করা হয়৷

যদিও তার মধ্যে সব বসবাসযোগ্য গ্রামগুলিতেই বিদ্যুতায়ন হয়েছে৷ তার মধ্যে মাত্র ১,৩২১ টি গ্রামের মানুষ বাড়িতে বিদুৎ ব্যবহার করতে পারছেন৷ সরকারের ‘গ্রামীন বিদ্যুতিকরন’ ওয়েবসাইট মারফত এই তথ্য মিলেছে৷

২০১১ আদমশুমারি অনুযায়ী, লেইসাঙে ১২টি পরিবারের বাস৷ সেই পরিবারে মোট ৬৫ জন মানুষ রয়েছেন৷ সেনাপতি জেলার লেইসাঙ ইম্ফল থেকে প্রায় ৮০ কিমি দূরে অবস্থিত৷ এই প্রত্যন্ত গ্রামে কোনও সঠিক পিরকাঠামো নেই৷ প্রধানমন্ত্রী তাঁর ২০১৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া ভাষণে কথা দিয়েছিলেন সরকার ১০০০ দিনের মধ্যেই সব গ্রামগুলিতে বিদ্যুত পৌঁছে দেবে৷

Advertisement
---