সমালোচনা শুনতে রাজি বয়কট-গাভাস্করের: মনোজ

মনোজ তিওয়ারি৷

ক্রিকেটে ভাগ্যবানদের দলে তিনি পড়েন না ৷ কখনও চোটের জন্য মোক্ষম সময়ে জাতীয় দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন ৷ কখনও টিম ম্যানেজমেন্টের অবিচারেরর শিকার তিনি ৷ দেশের জার্সিতে সেঞ্চুরি করার পর টানা ১৪টি ইনিংস রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে ৷ তবুও হাল ছাড়ার পাত্র নন মনোজ তিওয়ারি ৷ হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর আসন্ন বিজয় হাজারে ট্রফিতে (রঞ্জির ওয়ান ডে টুর্নামেন্ট ) ফের ব্যাট হাতে দেখা যাবে বাংলার এই প্রতিশ্রুতিমান ব্যাটসম্যানকে ৷ প্রায় ছ’ মাস পর বাইশ গজে লড়াই শুরু করতে চলেছেন মনোজ ৷ তার আগে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এল অনেক কথা৷ কথা বললেন সুশান্ত মণ্ডল…

হাঁটুর অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘদিন ব্যাট-বলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না ৷ আবার নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে ৷ আবার তো নিজেকে প্রমাণ করতে হবে ?

মনোজ: কারোর কাছে আমার প্রমাণ করার কিছু নেই ৷ কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক বড় ইনিংস খেলেছি ৷ নিজের ক্ষমতার প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে ৷ তবে হ্যাঁ, হাঁটুর অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ছ’ মাস আমি মাঠের বাইরে ছিলাম ৷ সময়টা অনেক ৷ এখন আমি সম্পূর্ণ ফিট ৷ পর্যাপ্ত ম্যাচ প্র্যাকটিস পাইনি ঠিকই, তবে কঠোর অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি করেছি ৷ এবার মাঠে পারফর্ম করতে হবে ৷ নিজের প্রতি সে বিশ্বাস রয়েছে ৷

- Advertisement -

এ বছর রঞ্জি খেলতে পারেননি, বহুদিন পর বাংলার হয়ে মাঠে নামবেন ৷ নতুন কিছু ভাবনা-চিন্তা ?

মনোজ তিওয়ারি৷
মনোজ তিওয়ারি৷

মনোজ: নতুন কিছু নয় ৷ তবে ব্যাটিং টেকনিকে সামান্য পরিবর্তন করেছি ৷

কী ধরনের পরিবর্তন ?

মনোজ: ‘ব্যাক লিফট’ সামান্য চেঞ্জ করেছি ৷ এটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি ৷ আশা করি, ম্যাচেও সফল হব ৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন জাতীয় দলে থাকার দৌড়ে মনোজ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন ? আপনি কী ভাবছেন ?

মনোজ: বিশেষজ্ঞ বলতে আপনারা কাদের বলছেন জানি না ৷ কে কী বললেন, তাতে আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত নই ৷ যদি না জিওফ্রে বয়কট বা সুনীল গাভাস্করের মতো কিংবদন্তি কিছু বলেন ৷ এঁরা কিছু বললে সেটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করি ৷ পিছিয়ে পড়েছি এমনটা আমি মনে করি না ৷ পারফর্ম করলে আবার জাতীয় দলে ফিরব, এই বিশ্বাস আমার রয়েছে ৷

কিন্তু, ওয়ান ডে-তে সেঞ্চুরি করার পরও টানা ১৪ ম্যাচ আপনাকে একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছিল ৷ তার পরে কী করে এত আত্মবিশ্বাসী ?

মনোজ: আমার কাজ মাঠে নেমে পারফর্ম করা ৷ বাকিটা নির্বাচকদের হাতে ৷ আমাদের প্রথম লক্ষ্য বিজয় হাজারে ট্রফিতে ভাল কিছু করা ৷

মনে হয় না চোট-আঘাত আপনার শত্রু হয়ে উঠেছে ? গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চোটের জন্য আপনাকে বারবার দলকে ছিটকে যেতে হয়েছে ?

মনোজ: চোট-আঘাত খেলার অঙ্গ ৷ হ্যাঁ আমার ক্ষেত্রে একটু বেশিই হয়েছে ৷ কিন্তু, এটা আমার হাতে নেই ৷ আগে এ সব নিয়ে খুব হতাশ হতাম ৷ এখনও এ সব নিয়ে বিশেষ ভাবি না ৷ এখন ওই সময়টা জীবনের ছোট ছোট ব্যাপার গুলোও উপভোগ করি ৷ তবে, ঈশ্বরকে বলব আর যেন বড় চোট পেয়ে আমাকে মাঠের বাইরে যেতে না হয় ৷

স্ত্রীর সঙ্গে মনোজ তিওয়ারি৷
স্ত্রীর সঙ্গে মনোজ তিওয়ারি৷

ইঞ্জুরির পর মাঠে ফিরে কী ভাবে নিজেকে মোটিভেট করেন ?

মনোজ: এতদিন ক্রিকেট খেলার পর নিজেকে মোটিভেট করার প্রয়োজন হয় না ৷ বাংলার হয়ে খেলছি এটাই আমার কাছে বড় মোটিভেশন ৷ তা ছাড়া চোট সারিয়ে বহু খেলোয়াড়ই আবার জীবনের সেরা ফর্মে ফিরেছেন ৷

হাঁটুর মতো বড় অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত মাঠে ফিরতে পেরে নিশ্চয় লন্ডনের বিশিষ্ট অর্থপেডিক সার্জেন অ্যান্ড্রু উইলিয়ামসকে ধন্যবাদ জানাবেন ?

মনোজ: অবশ্যই ৷ ডক্টর উইলিয়ামসের পাশাপাশি বিসিসিআই ও এনসিএ-এর (জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি) ফিজিও এবং ট্রেনারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই ৷ বোর্ড আমার পাশে না থাকলে আমি এত দ্রুত মাঠে ফিরতে পারতাম না ৷ এনসিএ-এর ফিজিও এবং ট্রেনার আমাকে মাঠে ফিরতে বিশেষ সাহায্য করছেন ৷

এবার একটু অন্য আলোচনায় আসি ৷ কয়েক মাস আগেই জীবনের অন্য ইনিংস শুরু করেছেন, কেমন উপভোগ করছেন ?

মনোজ: দারুণ ৷ আপনি জানেন, স্ত্রী সুস্মিতার-র সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের আলাপ ছিল ৷ অবশেষে ওকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেয়ে ভাল লাগছে ৷ হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর কঠিন সময়ে ওকে খুব কাছে পেয়েছি ৷ ক্রিকেট ছাড়াও জীবনের অন্য জিনিস গুলোও উপভোগ করি ৷ যেমন, অনুশীলন বা ম্যাচ খেলে বাড়ি ফিরে স্ত্রী-র হাতে এক কাপ চা-খাওয়ার মধ্যেও আনন্দ পাই৷

এবারের আইপিএল-এ মনোজ তিওয়ারিকে কেকেআর-এর জার্সিতে দেখা যাবে না ৷ আবার ‘ব্যাক টু’ দিল্লি ৷ বাংলার দর্শকদের মিস করবেন না ?

মনোজ: আইপিএল নিয়ে এই মুহূর্তে ভাবছি না ৷ বিজয় হাজারে ট্রফির পর আইপিএল নিয়ে ভাববো ৷

Advertisement
-----