স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: পরীক্ষার্থীর ছবি ও কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ছাড়াই অ্যাডমিট কার্ড বিলি করার অভিযোগ উঠল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ এবছর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএডের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ৷

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, এবারই প্রথম নয়৷ এর আগে একাধিকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে৷ গত ন’বছর ধরেই নাকি এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ৷ ফলে এই অভিযোগকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে৷

Advertisement

আরও পড়ুন: গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি

তবে এই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাধন সাহা৷ তিনি বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ামক সনাতন দাস এমন ঘটনার জন্য দায়ী। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে গিয়ে এমনই নজিরবিহীন ঘটনা ওই পরীক্ষা নিয়ামক ঘটিয়েছেন।

এদিকে অ্যাডমিট কার্ড হাতে পেয়ে প্রতিবারই পরীক্ষার্থীদের দিশেহারা অবস্থা হয়েছে৷ অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে৷ তবে তাতে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর নেই। ফলে এমন পরীক্ষার্থী রয়েছে কি না, তা নিয়েও ধন্দে পড়ে গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও।

আরও পড়ুন: গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ পড়ুয়াকে বহিষ্কার

প্রসঙ্গত, এ বিষয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখেছে ২০১৭ সালে মালদহের সামসি কলেজ থেকে এমন ১৪ জন পরীক্ষার্থীর হদিস পাওয়া গিয়েছে, যাদের অ্যাডমিট কার্ডে কোনও রোল নম্বর নেই। তবে সামসি কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছে। কী করে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখন বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেজাল্টও স্বাক্ষর ছাড়া পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। তারও তথ্য উঠে এসেছে। এমন ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে রেজিস্ট্রার সাধন সাহা জানান, আর্থিক লেনদেন অথবা অন্য কোনও বিনিময় প্রথার মাধ্যমে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা পরীক্ষা নিয়ামক ও তাঁর অনুগামী শিক্ষাকর্মীরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জুনের মধ্যে মোবাইল নেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪৮ কোটিতে

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক শ্যামাপদ মণ্ডল জানান এমন প্রক্রিয়াতে পরীক্ষা সম্ভব নয়। কিন্তু তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা উচিত বলে তিনি মনে করেন৷

যদিও প্রাক্তন পরীক্ষা নিয়ামক সনাতন দাস বলেন, তিনি একজন শিক্ষক শিক্ষকের মত কাজ করবো। এই বিষয়ে নো কমেন্টস।

আরও পড়ুন: সিবিএসই মানে ‘Corrupt Board For Students’ Education’, ব্যঙ্গ ইমরানের

----
--