প্রথম কাউন্সেলিং-এর পরে ফাঁকা প্রেসিডেন্সির বহু আসন

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গত বছর স্নাতকের ভরতি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বহু আসন ফাঁকা রয়ে গিয়েছিল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ যা নিয়ে প্রচুর জলঘোলাও হয়েছিল৷ এই বছরও প্রথম কাউন্সেলিং-এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেল একই চিত্র৷

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ভরতি প্রক্রিয়া পরিচালনা করে পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড৷ এই বছর প্রেসিডেন্সির জন্য প্রথম কাউন্সেলিং-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্ক দানা বাঁধে৷ এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতির জন্য নির্বাচিত পড়ুয়াদের ৫০০ টাকা করে কাউন্সেলিং-এর রেজিস্ট্রেশন ফি জমা করতে হবে৷ ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে প্রেসিডেন্সির বর্তমান পড়ুয়ারা৷ কারণ, গত বছরই এই ফি ছিল মাত্র ১০০ টাকা৷

আরও পড়ুন: তান্ত্রিকের পরামর্শেই মোদীকে জড়িয়ে ধরেছেন রাহুল!

বর্ধিত ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা৷ ঘেরাও করে রাখা হয় রেজিস্ট্রার, ডিন অফ আর্টস, ডিন অফ সায়েন্স ও কন্ট্রোলারকে৷ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের জেরে তাঁদের দু’টি দাবিই মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে প্রকাশ করা হয় মেধাতালিকা৷ তারপর, দুঃস্থ পড়ুয়াদের বর্ধিত ফি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়৷ দাবি মেটার পর ঘেরাও তুলে নেন আন্দোলনকারীরা৷

তারপর পূর্বঘোষিত দিনে অর্থাৎ, ১৭ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া চলে৷ সূত্রের খবর, প্রথম ধাপের কাউন্সেলিং ও ভরতির পরে এখনও বহু আসন ফাঁকা রয়েছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ স্নাতক স্তরে প্রেসিডেন্সির মোট আসন সংখ্যা ৭০৫টি৷ প্রথম ধাপের কাউন্সেলিং-এর পরে তার মধ্যে এখনও ১২৬টি আসন ফাঁকা রয়েছে৷

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করতে চাইছে পুরসভা

কিছুদিন আগেই ভরতি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেও দেখা গিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্ত কলেজগুলিতে প্রায় ৪০ হাজার আসন ফাঁকা রয়েছে৷ সেই খবর সংবাদে উঠে আসার পরই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ভরতি প্রক্রিয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করেন৷ তিনি বলেন, শূন্য আসনগুলি আগামী ২০ অগস্টের মধ্যে পূরণ করতে হবে কলেজগুলিকে৷ কোনও আসন ফাঁকা রাখা যাবে না৷’’ কিন্তু, সেই দিনই শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন বেশিরভাগ শূন্য আসন সংরক্ষিত৷ সূত্রের খবর, একই সমস্যা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েও৷ যে সব আসন ফাঁকা রয়েছে তার বেশিরভাগই সংরক্ষিত৷

প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় কাউন্সেলিং-এ এই শূন্য আসনগুলি ভরতির চেষ্টা করবে জয়েন্ট বোর্ড৷ তবে, বেশিরভাগ শূন্য আসন সংরক্ষণের ফলে ফাঁকা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেগুলি দ্রুত অসংরক্ষিত করার চেষ্টা করবে বলে জানা গিয়েছে৷ দ্বিতীয় কাউন্সেলিং-এর রেজিস্ট্রেশন চালু হবে ১৮ অগস্ট৷ শেষ হবে ২০ অগস্ট৷ তারপর ২২ ও ২৩ অগস্ট হবে দ্বিতীয় ধাপের কাউন্সেলিং৷

আরও পড়ুন: বদলে যাবে পাকিস্তান! সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন দেখালেন ইমরান

গত বছর ভরতি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর মোট ১৮৮টি আসন শূন্য ছিল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ যা নিয়ে প্রচুর জল্পনা কল্পনা হয়েছিল শিক্ষামহলে৷ এবারও যদি ভরতি প্রক্রিয়া শেষের পর আসন শূন্য থাকে তাহলে বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

----
-----