বর্ষার জমা জলে রাসায়নিক বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ আগুন তারাতলায়

ফাইল চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তারাতলায় গুদামের গেট টপকে বর্ষার জল ভিতরে ঢুকতেই ঘটে রাসায়নিক বিক্রিয়া৷ তার জেরেই বিধ্বংসী আগুন লাগে তারাতলায় ট্রান্সপোর্ট ডিপোর পাশের রাসায়নিক গুদামে৷ প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই মনে করছে দমকল আধিকারিকরা৷

বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ ওই কারখানায় আগুন লাগে৷ দমকলের ১০টি ইঞ্জিন এবং ফোম দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হচ্ছিল না৷ আগুন নেভাতে জল এবং ফোমের ব্যবহার করতেই আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে৷ বরং জল দিয়ে আগুন নেভাতে গেলে কারখানার ভিতরে চারটি বিস্ফোরণ ঘটে৷ বিস্ফোরণের তীব্রতায় জখম হন কয়েকজন দমকলকর্মী৷ তখন জলের বদলে বালি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়৷ ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকলের এক অফিসার বলেন, ‘‘গুদামের ভিতরে কয়েক টন রাসায়নিক ঠাসা রয়েছে৷ সেখানে জল ঢুকে যাওয়াতেই রাসায়নিক বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগেছে বলে মনে হচ্ছে৷’’

প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল৷ এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই ঘটনার জন্য গুদাম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’

- Advertisement -

সূত্রের খবর, গুদামের ভিতরে অ্যালুমিনিয়াম পাউডার-সহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মজুত করা ছিল৷ সেই রাসায়নিক কেন মজুত করা হয়েছিল, কোন কাজে ব্যবহার করা হত তার খোঁজ শুরু করেছে তারাতলা থানার পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, ওই গুদামটি পোর্ট ট্রাস্টের থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল চাল, চা মজুত রাখার জন্য৷ কিন্তু তার বদলে কেন রাসায়নিক মজুত করা হয়েছিল তা জানার চেষ্টা হচ্ছে৷ পাশাপাশি পুলিশি নজরদারির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ৷

আগুন আয়ত্বে আনার পরে গুদামের চারপাশের দেওয়াল জল দিয়ে ঠান্ডা করতে থাকে দমকল৷ মূলত আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকাতেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়৷ যে কারণে আগুন লাগে বলে অনুমান, সেই জমা জলকেই মটরের সাহায্যে তুলে আগুন ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করার চেষ্টা করে দমকল৷ টানা কয়েঘণ্টা আগুন জ্বলতে থাকায় গুদামের দেওয়া ফাটল ধরেছে৷ দমকলের আশঙ্কা, নতুন করে যদি বিস্ফোরণ হয় তাহলে গুদাম ঘরটি ভেঙে পড়তে পারে৷ তাই সাবধানতা অবলম্বন করে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে৷

তবে যে কারণে এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দমকল মনে করছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তরজা৷ দমকলমন্ত্রী জানিয়েছেন, গুদামের সামনের রাস্তাটি সারাই করার দায়িত্বে রয়েছে পোর্ট ট্রাস্ট৷ তারা যে রাজস্ব আদায় করে তা দিয়েই সারাই করার কথা৷ পুরসভা রাস্তা সারাই বাবদ পোর্ট ট্রাস্টের কাছে অনেক টাকা বকেয়াও রয়েছে৷ এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত দু’বছর ধরে ওই রাস্তায় বর্ষার সময় হাঁটু জল জমে যায়৷ যদিও এব্যাপারে পোর্ট ট্রাস্টের বক্তব্য জানা যায়নি৷

Advertisement ---
-----