গুয়াহাটি: ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনশিপ (এনআরসি) হিসেব ঘিরে প্রবল উত্তেজনার মুখে অসম৷ এই রিপোর্ট অনুসারে অবৈধ বসবাসকারী ৩০ লক্ষ মানুষের তালিকা প্রকাশ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর৷ ফলে বর্ষশেষের দিন থেকে সংঘর্ষের পরিস্থিতি হতে পারে রাজ্যে৷ এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷

‘আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা মজবুত করতে সেনা বাহিনীকে ‘স্ট্যান্ড বাই’ করা হয়েছে৷ বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে অন্তত ৪৫ হাজার নিরাপত্তারক্ষীকে মোতায়েন করা হয়েছে৷

Advertisement

এনআরসি রিপোর্ট অনুসারে ৩০ লক্ষের বেশি অবৈধ বসবাসকারীদের বেশিরভাগ বাংলাদেশ (পূর্বতন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে এসেছিলেন৷ পুরুষানুক্রমে তাঁরা অসমে বসবাস করছেন৷  বিতাড়িত হয়ে এই ৩০ লক্ষ মানুষ কোথায় আশ্রয় নেবেন তার উল্লেখ নেই ‘এনআরসি’ রিপোর্টে৷ ফলে বিতর্কের মুখে রাজ্য সরকার৷

১৯৫১ সালে এনআরসি রিপোর্ট প্রথমবার প্রকাশ করা হয়৷ এই রিপোর্ট অনুসারে পরবর্তী সময়ে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল৷ দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (পরে বাংলাদেশ) থেকে অসমে বহু মানুষ চলে এসেছিলেন৷ এনআরসি রিপোর্ট এমনই অন্তত ৩০ লক্ষ মানুষকে অবৈধ বসবাসকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন৷ যাদের অনেকেই সংখ্যালঘু মুসলিম৷

জানা যাচ্ছে, ‘অবৈধ বসবাসকারী’  চিহ্নিতদের বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে৷  অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, অসম থেকে বিতাড়িতদের গ্রহণ করার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি৷

এনআরসি রিপোর্টকে কার্যকরী করতে কোনও কসুর করবে না রাজ্য সরকার৷ এমনই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল৷ শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ কড়া ভূমিকা নেবে৷  জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি মুকুল সহায়৷

গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷ তারপরেই অসমে অবৈধ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়৷  রাজ্য সরকারে এই অবস্থানে আতঙ্কিত বহু মানুষ৷ অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক৷ এর জেরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে৷ এমনই আশঙ্কা করছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর৷ জাতীয়স্তরের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে এই রিপোর্ট৷

অসমের কট্টরপন্থী সংগঠনের দাবি, রিপোর্ট অনুসারে অবৈধ রাজ্যবাসীদের অবিলম্বে বিতাড়ন করতে হবে৷ ‘অসমিয়া’ ছাড়া আর কোনও কিছু বিবেচ্য করা হবে না৷  অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (আসু) জানিয়েছে, কোনওরকম নরম মনোভাব দেখানো হলেই তীব্র আন্দোলন শুরু হবে৷

----
--