বিশেষ প্রতিবেদন: দুই বাংলার দুই প্রধান শহর তথা এশিয়ার দুই ব্যস্ততম নগরী কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে লক্ষ-লক্ষ ডলারের কাছিম ও কচ্ছপ পাচারের তথ্য উঠে এল৷ বন্যপ্রাণ নিয়ে গবেষণা করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াইল্ড লাইফ জাস্টিস কমিশন (ডাব্লিউজেসি) রিপোর্টে বলা হয়েছে, কচ্ছপ চোরাচালানের যে ব্যবসা চলছে বিশ্বজুড়ে, তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

বিবিসি বাংলা তুলে ধরেছে এই প্রতিবেদন৷ তাতে বলা হয়েছে, ডাব্লিউজেসি দু বছর ধরে অনুসন্ধান চালায়৷ তারা এই গোপন অনুসন্ধানের নাম রেখেছে অপরেশন ড্রাগন৷ ছদ্মবেশ নিয়ে সংস্থার কর্মীরা বিভিন্ন দেশে কচ্ছপ চোরাচালান নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। তদন্তে অনেক চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এই চোরাচালান ব্যবসায় উচ্চ পর্যায়ের অনেক অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

Advertisement

পড়ুন: তালিবান আতঙ্কে দিন কাটছে ‘আফগান মেসি’র

ওয়াইল্ডলাইফ জাস্টিস কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকা এখন বিশ্বের নানা জায়গায় কাছিম এবং কচ্ছপ পাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে।

১.মিষ্টি জলের কাছিম এবং কচ্ছপের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে চিন এবং হংকং। যারা বেআইনিভাবে চীন এবং হংকং কচ্ছপ পাচার করে, তাদের ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ-শ্রীলংকা-মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড জুড়ে নেটওয়ার্ক ছড়ানো।
২.মোট আটটি বড় অপরাধী চক্র এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বড় বড় বিমানবন্দর এবং সড়ক ও স্টেশনে তারা সোর্স হাত করে রেখেছে৷
৩. অপারেশন ড্রাগনের মাধ্যমে তেমনই কিছু পাচারকারীকে দরা সম্ভব হয়৷ উদ্ধার করা হয়েছে ছয় হাজারের বেশি কাছিম এবং কচ্ছপ।

সৌজন্যে- Wildlife justice Commission

কচ্ছপ পাচারের রুট (কলকাতা-বনগাঁ-যশোর-ঢাকা)

•প্রথম ধাপে পাচারের জন্য কচ্ছপ সংগ্রহ হয় ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে রয়েছে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক।
•এরপর সড়ক ও রেলপথে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায়। এরপর সেখান থেকে আবার যশোর রোড ধরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি আনা হয়৷
•কাস্টমস ফাঁকি দিতে পাচারকারীরা উত্তর ২৪পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্তের বিশেষ স্থানে নদীর ধারে অপেক্ষা করে৷ সেখান থেকে কাছিম এবং কচ্ছপ তোলা হয় নৌকায়। তারপর নদীপথে বাংলাদেশে তারা প্রবেশ করে।
•এরপর বাংলাদেশের অন্তর্গত যশোর রোডের বাকি অংশ ধরে ট্রাক, ট্যাক্সিতে কচ্ছপ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার বিশেষ স্থানে- ‘সেফ হাউসে’৷
• সেই সেফ হাউস থেকে কচ্ছপ আনা হয় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাচার হয় কচ্ছপ৷ ঘুষ দিয়ে হাত করা কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পাচার করা কচ্ছপ চলে যায় বিমানবন্দরের বাইরে।

সৌজন্যে- Wildlife justice Commission

ঢাকা থেকেই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে চোরাই কচ্ছপ৷ এর মূল্য লক্ষ লক্ষ মার্কিন ডলার৷ দুই দেশের প্রশাসনিক আধিকারিকদের ঘুস দিয়ে চলছে এই কাজ৷ রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷

----
--