সব অভিযোগ সরিয়ে পঞ্চায়েতে ঘাসফুলের রমরমা

প্রতীকী ছবি

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, ছাপ্পা ভোট, এমনকী ব্যালট লুঠের মত অভিযোগ উঠেছিল জেলায়৷ সব দুয়ো সরিয়ে বাঁকুড়াজুড়ে তবুও ঘাসফুলের রমরমা৷ জেলাপরিষদে সবক’টি আসন দখলে রেখেছে তৃণমূল৷ পঞ্চায়েত সমিতিতেও একই ছবি৷ গ্রামপঞ্চায়েতে অবশ্য হাতে গোনা কয়েকটি আসনে বিরোধীরাও মাথা তুলেছে৷

৪৬টি আসনের বাঁকুড়া জেলাপরিষদ৷ সেখানে ৩১টি আসনে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হয় তৃণমূলের৷ বাকি ১৫টি আসনে ভোট হয়েছিল৷ সেখানে সবক’টিই তৃণমূল জিতেছে৷ রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডির জয় নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য৷

এখনও পর্যন্ত যা সূত্রের খবর, জ্যোৎস্নাই জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদপ্রার্থী৷ হীড়বাঁধ পঞ্চায়েত সমিতির ‘বিদায়ী’ সভাপতি মোনালি মহান্তির জয়ও উল্লেখযোগ্য৷ তালডাংরার ২২ নম্বর জেলা পরিষদের আসন নিয়েও ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে৷ প্রথমবার বামেদের হাতছাড়া হল এই আসন৷ তৃণমূলের চন্দনা অধিকারী এই আসনে জয়ী হন৷

- Advertisement -

২২টি পঞ্চায়েত সমিতিতেও সবুজ ঝড়৷ জেলার উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম৷ সব জায়গায় বিরোধীদের ধরাশায়ী করেছে তৃণমূল৷ এর মধ্যে ১৩টি পঞ্চায়েত সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় তৃণমূল৷ ভোটে লড়ে জিতে নিল বাকি ন’টিও৷ গ্রামপঞ্চায়েত স্তরে অবশ্য গোটা কুড়ি বিরোধীরা পেয়েছে৷ তবে সেসব ধর্তব্যে আনছে না শাসকদল৷ ১৯০টি গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে ১৭৩টি তৃণমূলের দখলে৷ বিজেপি খাতা খুলেছে আটটিতে৷ বামেরা পেয়েছে দু’টি৷ অন্যান্যদের হাতে সাতটি৷

তবে জঙ্গলমহলে ভোটের ফলাফলে পার্থক্য এসেছে৷ সিমলাপালের বিক্রমপুর, সারেঙ্গার বিক্রমপুর, রাইপুরের ঢেকো গ্রামপঞ্চায়েতে পদ্মফুল ফুটেছে৷ জঙ্গলমহল হাতছাড়া হওয়াটা মোটেই স্বস্তির খবর নয় তৃণমূলের জন্য৷ কেন এমন হল দল পর্যালোচনা করে দেখছে৷

তবে বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র কলকাতা24×7 কে বলেন, ‘‘এত অবাক হওয়ার তো কিছু নেই৷ সাধারণ মানুষ তৃণমূলের সন্ত্রাসের যোগ্য জবাব দিয়েছেন৷ যেখানে শাসকদলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজের মত জাহির করেছেন ভোটাররা, সেখানেই বিজেপির জয়৷ সন্ত্রাসমুক্ত নিরপেক্ষ ভোট হলে রাজ্যজুড়েই ফলটা এরকম হত৷’’ তাঁর দাবি, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার দু’টি আসনেই বিজেপি জিতবে৷

তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ অবশ্য বলছেন, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ‘সবুজ ঝড়’ আসলে মানুষেরই জয়৷ বিরোধীরা নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতে রিগিং আর সন্ত্রাসের মিথ্যে অভিযোগ তুলছে৷

তবে জেলায় সবথেকে শোচনীয় অবস্থা বাম শিবিরের৷ তালডাংরার মত জায়গাতেও হালে পানি পেল না বামেরা৷ গতবার পঞ্চায়েতের তিন স্তরে যেসব আসন নিজেদের দখলে রেখেছিল সব খুইয়েছে এবার৷ মোটে দু’টো গ্রামপঞ্চায়েতে কোনওমতে ভেসে উঠেছে৷

সিপিএম বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য প্রতীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই ফলাফলের ক্ষেত্র আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল৷’’ শাসকদল মনোনয়নপর্ব থেকে সন্ত্রাস করেছে৷ ভোটাররা নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেননি, দাবি প্রতীপ মুখোপাধ্যায়ের৷ ভোটের দিন, গণনার দিন ‘দাদাগিরি’ করেছে তৃণমূল৷ বিরোধী এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর৷

Advertisement ---
---
-----