সেরেনার ম্যাচ বয়কটের ডাক অফিসিয়ালদের

নিউ ইয়র্ক: এই মুহূর্তে বিশ্ব টেনিসে অন্যতম অভিজ্ঞ আম্পায়ার হিসেবে সুবিদিত কার্লোস রামোস। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের ফাইনালে তাঁর সিদ্ধান্তে রুষ্ট হয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন টেনিস মায়েস্ত্রো সেরেনা উইলিয়ামস। ফাইনালে কিছু সিদ্ধান্ত তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়ায় রামোসকে ‘মিথ্যুক’ এবং ‘চোর’ বলতেও পিছপা হননি সেরেনা। এমনকি ম্যাচ চলাকালীন লিঙ্গবৈষম্যের মত গুরুতর অভিযোগ তুলে রামোসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মার্কিনি টেনিস তারকা। এতেই বেজায় ক্ষুব্ধ ম্যাচ অফিসিয়ালদের একটি গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে সেরেনার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মোটেই ভাল চোখে নেননি তারা। তাই যতদিন না সেরেনা তাঁর কৃতকর্মের জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন, ততদিন সেরেনার কোন ম্যাচে হটসিটে বসবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

গত শনিবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের ফাইনালে জাপানি খেলোয়াড় নাওমি ওসাকা’র মুখোমুখি হয়েছিলেন সেরেনা। ছ’বারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন চ্যাম্পিয়ন সেরেনাকে সেই ম্যাচে স্ট্রেট সেটে উড়িয়ে প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ নেন ওসাকা। কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন কোর্টে নিজের সেরাটা দিতে না পারার কারণে সেরেনার কিছু অভিব্যক্তি এবং র‍্যাকেট ভেঙে ফেলার মত ঘটনা গেমের প্রোটোকলের বিরুদ্ধে যায়। যা ভালভাবে নেননি ম্যাচ আম্পায়ার কার্লোস রামোস। ফলে দ্বিতীয় সেটে সেরেনার বিপক্ষে তিন তিনবার কোড ভায়োলেন্স সহ একটি গেম পেনাল্টির নির্দেশ দেন বছর সাতচল্লিশের ওই আম্পায়ার। আর তাতেই বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ‘সুপার মম’ সেরেনা। লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ তুলে হটসিটে বসে থাকা রামোসকে তির্যক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন ২৩টি গ্র্যান্ডস্লামের মালকিন।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র টেনিস অ্যাসসিয়েশন সেরেনাকে ১৭ হাজার ইউ এস ডলার জরিমানা করে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সেরেনাকে সমর্থন করেছে যুক্তরাষ্ট্র টেনিস অ্যাসসিয়েশন এবং মহিলা টেনিস আসসিয়েশন। তবে অনভিপ্রেত এই ঘটনায় টেনিস অফিসিয়াল মহলের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন মার্কিনি টেনিস তারকা। তাই সেরেনার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ শুধুমাত্র জরিমানাতেই থেমে থাকেনি। ম্যাচ অফিসিয়ালদের মতে, ‘গেমের সমস্ত নিয়মাবলী এবং শর্তানুযায়ী রামোস নিজের কাজটি করে গিয়েছেন। আর তাতেই সেরেনার ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছেন তিনি।’

- Advertisement -

আম্পায়ারদের ব্যক্তিগত স্বার্থে এই ঘটনা মোটেই প্রত্যাশিত নয়। তাই এই ঘটনার জন্য অবিলম্বে সেরেনাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে ওই অফিসিয়াল গোষ্ঠীর তরফ থেকে। নইলে ভবিষ্যতে সেরেনার কোন ম্যাচে আম্পায়ারের হটসিটে বসবেন না তারা।

অন্যদিকে এই ঘটনা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন। রামোসের সমর্থনে পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা। অন্যদিকে যেহেতু সেরেনাকে কয়েকটি ক্ষেত্রে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র টেনিস অ্যাসসিয়েশন এবং মহিলা টেনিস আসসিয়েশন, তাই এই দুই সংস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে নীতিগত বিষয়গুলি পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে তারা।

Advertisement
---