মন্ত্রী অরূপকে ‘শহর ছাড়া’ করতে চান মেয়র ববি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এবার থেকে শহরের সব রাস্তার দেখভাল করবে কলকাতা পুরসভা৷ শহরের সব ফ্লাইওভারের রক্ষণাবেক্ষণ করবে কেএমডিএ৷ পূর্ত দফতরের অধীনে আর শহরের কোনও রাস্তা ও ব্রিজই রইল না৷ শুধু শহরের বাইরের সব রাস্তা ও ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণ করবে পিডব্লিউডি৷ সোমবার এই সংক্রান্ত প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হল বলেই জানান কলকাতা পুরসভার নবনিযুক্ত মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷

শুধু তাই নয় পোর্ট এলাকার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও কেএমসির অধীনে অর্থাৎ নিজের হাতে নিতে চান ফিরহাদ হাকিম৷ এদিন কলকাতা পুরসভায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়৷ বৈঠকে পুর আধিকারিক সহ উপস্থিত ছিল বিভিন্ন দফতর যেমন, হিডকো, কেএমডিএ, আইটি ডিপার্টমেন্ট, পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড৷ সেই বৈঠকেই এই সংক্রান্ত আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ৷

যদিও রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব নতুন নয়৷ বলা যায়, এবার সরকারিভাবে তা অনুমোদন প্রাপ্ত হতে চলেছে৷ সূত্রের খবর, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর যখন শোভন চট্টোপাধ্যায় প্রথম কলকাতার মহানাগরিক হন তখন থেকেই এই হিসেবই চলে আসছে৷ প্রথমত, শহরের খুব কম ভাগ রাস্তাই পূর্ত দফতরের অধীনে৷ বেশিরভাগ রাস্তাই পুরসভার অধীনস্থ৷ সেক্ষেত্রে সেসময় থেকেই রাস্তার দেখভাল কেএমসি করে থাকে৷ রইল পড়ে ব্রিজগুলির কথা৷ সেগুলি কিছুভাগ দেখে আরবান ডেভলপমেন্ট, বাকি পিডব্লিউডি৷ তবে এবার থেকে শহরের ব্রিজগুলিই রক্ষণাবেক্ষণ করবে কেএমডিএ এমন প্রস্তাবই জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷

- Advertisement -

শুধু তাই নয়, এদিনের বৈঠকে আরও বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়৷ শহরে ই-গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে৷ তাই ই-ভেহিকেলসকে উৎসাহিত করতেই ফ্লাইওভারগুলির নীচে পার্কিং স্টেশনে তৈরি হবে চার্জি ব্যবস্থা৷ এছাড়াও ইলেকট্রনিক্স আবর্জনার জন্য ব্যাঙ্গালোরের আদলে রিসাইকলিং ব্যবস্থা করা হবে বলেও এদিন জানান ফিরহাদ হাকিম৷ এবিষয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলির সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান মেয়র৷

জঞ্জাল পরিস্কারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শহরের সব জায়গায় সমস্ত জঞ্জাল পরিস্কার করবে কলকাতা পুরসভা৷ শুধু বেসরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে ময়লা পরিস্কারের চার্জ নেবে পুরসভা৷ আর বন্দর এলাকার রাস্তা নিকাশি ও জঞ্জাল অপসারণের কাজ করবে কলকাতা পুরসভা৷ তার বাবদ বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে অর্থ নেওয়া হবে৷

তবে এমনিতেই সব ক্ষেত্রে অরূপ বিশ্বাস ও ববি হাকিমের মধ্যে টক্কর লেগেই থাকে৷ মনোমালিন্যও হয় কম বিস্তর৷ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী চলতি বছরে চেতলা অগ্রণীতে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে সেকথা স্বীকারও করে নিয়েছেন৷ এখন আবার পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দফতরের কাজের দায়িত্ব নিজের হাতে নিতে চাইলেন পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ যদিও এবিষয়ে অরূপ বিশ্বাসের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷ কিন্তু ফিরহাদের এই অনুমোদন যদি পাশ হয় তবে টক্কর যে হবে সেয়ানে সেয়ানে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের৷

1 COMMENT

Comments are closed.