কলকাতা: আর্যনীল অপেক্ষা করেছিলেন সুশোভনের জন্য৷ আর অপেক্ষা করেছিলেন বলেই হয়তো মাস্টারস্ট্রোকটা মারতে পেরেছিলেন পরিচালক অতনু ঘোষ৷ কিন্তু কিসের অপেক্ষা? মনে পড়ে ক্যাফেটেরিয়ার সিনটা? যেখানে ময়ূরাক্ষী ছবিতে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু এই শটের পেছনে রয়েছে এমন একটি গল্প, যা সম্প্রতি একটি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনা সভায় এসে মনে করালেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷

আলোচনা সভায় হাজির হয়েছিলেন ময়ূরাক্ষী ছবির অভিনেতা অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা৷ ছবিটিতে পিতাপূত্রের ভূমিকায় ছিলেন প্রসেনজিৎ এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়৷ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ছিল ক্যাফেটরিয়াতে৷ নিদিষ্ট শুটিংয়ের সময় রীতিমতো অসুস্থত হয়ে পড়েন সৌমিত্রবাবু৷ ফলে শুটিংয়ের দিনেও আসতে পারেননি তিনি৷বাবা সুশোভন চরিত্রকেই ফোকাসে রেখে ওই দৃশ্য ফলে সৌমিত্রে অনুপস্থিতিতে সমস্যায় পড়ে গোটা ইউনিট৷ কিন্তু সেখানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তার স্টারডাম থেকে বাইরে এসে আন্তরিক হয়ে উঠেছিলেন তাঁর সৌমিত্র জেঠুর জন্য৷ নির্ধিধায় শুটিং বাতিল করে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে থাকেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সুস্থ হওয়ার জন্য৷ কয়েকদিন বাদে সৌমিত্র সুস্থ হলে ফের শুটিং হয়৷ ছবির পিতাপুত্রের সম্পর্কটা বাস্তবে টলিউডের পূর্বসূরীর প্রতি উত্তরসূরীর শ্রদ্ধা আনুগত্যের যেন প্রতিফলন হয়ে ওঠে৷

এই ছবি করতে গিয়ে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীও তাঁর এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন৷তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে ময়ূরাক্ষী সিনেমাটি কেমন করে যেন জড়িয়ে গিয়েছে৷ছবিতে ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছিলেন সুশোভন আর পুত্র বিদেশে থাকায় ওই বৃদ্ধের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন একটি মেয়ে, সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী৷ ছবিতে অভিনয় করতে করতে রিয়েল লাইফে তার বাবা অভিনেতা বিপ্লব কেতন চক্রবর্তীর অবস্থাটা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন৷ ফলে রিল লাইফ এবং রিয়েল লাইফকে একাকার হয়ে যাচ্ছিল৷

সভার আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘সম্পর্কের মনস্তত্ত্ব ও ময়ূরাক্ষী’৷ ছবিটি পিতাপুত্রে সম্পর্কের পাশাপাশি জড়িয়ে রয়েছে আরও কয়েকটা সম্পর্ক যেটা কখনও অর্থনৈতিক কখনও বা সামাজিক৷সিনেমার ভাষায় বুম্বাদা, অতনু ঘোষ, গার্গী রায়চৌধুরি এবং সুদীপ্তা চক্রবর্তীরা সেটাই বোঝালেন ওই আলোচনায়৷

---