সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: যুবভারতীতে সনি শো৷ হাইতিয়ান ম্যাজিশিয়ানের গোলে নেরেকা এফসিকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পকেটে পুরল মোহনবাগান৷ জোড়া জয় দিয়ে ময়দানে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন বাগান কোচ খালিদ জামিল৷

ট্র্যাক থেকে ছিটকে যাওয়া গঙ্গাপারের ক্লাবই এখন জামিলের হাতে পড়ে যেন তেল খাওয়া নতুন ইঞ্জিনের মতো ছুটে চলেছে৷ কোচের দায়িত্ব নিয়ে সোমবার শহরে এসেছেন৷ সপ্তাহ ঘোরার আগে পকেটে দুই ম্যাচ জয়৷ গুরুত্বপূর্ণ ছয় পয়েন্ট৷ ফলে ১৩ ম্যাচ থেকে ২১ পয়েন্ট নিয়ে ফের প্রথম পাঁচে ঢুকে পরল সনি-ডিকারা৷ তিন ম্যাচ কম খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে ইস্টবেঙ্গল৷ ডার্বির আগে পয়েন্টের লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলকে পিছনে ঠেলে দেওয়ায় বাগান ক্যাম্পে আত্মবিশ্বাস ফিরল বলা চলে৷

আরও পড়ুন- সাসপেন্ড রাহুল-পান্ডিয়া, দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করল বোর্ড

কোন মন্ত্রে বাগানের জয়ের চাকা ঘুরল? কোচ বারতি শব্দ খরচ করতে চান না৷ নেরোকা ম্যাচে জিতেই ডার্বির ব্লু-প্রিন্ট তৈরির ভাবনায় ঢুকে পড়েছেন৷ ফুটবলাররা অবশ্য বলছেন, শুরুতেই দলের উপর থেকে চাপ কাটিয়ে দিয়েছেন জামিল৷ সনি টু শিল্টন সবার গলায়তেই কোচের প্রশংসা৷ যুবভারতীর প্রেস রুমে শিল্টন শুনিয়ে গেলেন ‘প্রথম দিনই কাঁধ চাপড়ে ফ্রি ফুটবল খেলতে বলেছেন হেডস্যার৷ সেই মন্ত্রেই সবাই এখন চাঙ্গা৷ ম্যাচ বাই ম্যাচ ফোকাস আর চাপমুক্ত ফুটবল, ওটাই আমাদের প্রথম টার্গেট৷’ আর সনি বললেন, ‘বাড়তি দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন, মোটিভেট করে গিয়েছেন৷ নিজেকে তাই উজাড় করে দিচ্ছি৷’

আরও পড়ুন- হার্দিকের বদলি হিসেবে জাদেজা রয়েছে দলে: কোহলি

হাসি মুখে মাঠ ছাড়লেও বাগানের খেলা দেখে দিনের শেষে পকেটে প্রশ্ন অনেক! সনি ছাডা় গোল করার লোক কোথায়৷ দ্বিতীয়ার্ধে ওমর চোট পেতে বদলি হিসেবে হেনরিকে নামাতে মেরিনার্সের খেলায় গতি আসে৷ সেই গতির ফসল সনি’র দুরন্ত গোল৷ একক প্রচেষ্টায় বক্সের বাইরে থেকে সনির দর্শনীয় গোল ছাড়া গোটা ম্যাচে একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ডিকা-ফৈয়াজরা৷ গোলের কাছে পৌঁছেও নিখুঁত নয় বাগান আক্রমণ৷ ডিকা ফর্মের মধ্যে নেই৷ হেনরি যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন চেষ্টা করেছেন৷ বাকিটা সেই ভারতীয় দলের একসময়ের ‘বিরাট ভাই হ্যাঁয় তো ব্যাটিং আভি জিন্দা হ্যায়’ ব্যাপার৷ সনি গোল পেলে ওকে, নইলে গোলের দরজায় বাকিরা শুধুই রয়েছেন কড়া নাড়তে! নিখুঁত কোচ নিশ্চয় ভুলগুলো নোটবুকে তুলে রাখলেন৷সামনেই যে মেগা ডার্বি৷

আরও পড়ুন- নেরোকার বিরুদ্ধেও ‘ফ্রি-ফুটবলার’ সনি

তুলনায় নেরোকা এদিন একাধিক সুযোগ তৈরি করেও শিল্টনের হাত গলিয়ে বল জালে জড়াতে পারেনি৷ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচের সেরাও হয়েছেন শিল্টন৷ দুই দলই সাদামাঠা খেললেও সনির ‘এক আক্রমণেই ছবি হয়ে’ ছয় ম্যাচ শেষে হার ললিত থাপা অ্যান্ড কোং-এর৷ পার্থক্য গড়ে দিলেন সেই ম্যাজিসিয়ন৷