বিজয় রায়, কলকাতা: বাবরি মসজিদ নিয়ে বুধবার একটি মামলার রায় বেরোতেই বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীকে এক হাত নিলেন সিপিএম সংসদ মহম্মদ সেলিম। একই সঙ্গে নারদ মামলা জুড়ে দিয়ে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী র বিরুদ্ধেও। সিপিএম সাংসদ এদিন বলেন, “নারদ মামলায় ঠুঁটো জগন্নাথের(আডবাণীর উদ্দেশে) পর আসল জগন্নাথের কাছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”। পাল্টা দিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা। বলনেন, “ সিপিএম পাগলের মতো কথা বলছে”।

মঙ্গলবার বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত একটি মামলার রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা সাংসদ লাল কৃষ্ণ আডবাণী সহ দলের ২১ জন শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা চালানোর নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি পিসি ঘোষ ও বিচারপতি আরএফ নরিম্যনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, চার সপ্তাহের মধ্যে মামলা চালু করতে হবে লখনউ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরেই বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়াতে শুরু করে বিরোধীরা। বাদ যায় না সিপিএমও। ঘটনায় অভিযুক্ত একজন নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার সদস্য। বেশ কয়েকজন সাংসদ। এছাড়াও কয়েকজন আছেন যাঁরা প্রশাসনিক পদেও আসীন রয়েছেন। বিরোধীরা দাবি তোলে মামলা যতদিন নিষ্পত্তি না হয় ততদিন যেন এরা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন।

Advertisement

তবে এইসব কিছুকে এদিন ছাপিয়ে যায় সিপিএম সংসদ মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য। এই ঘটনার সঙ্গে নারদ ইস্যুটিও জুড়ে দেন রায়গঞ্জের সাংসদ তথা সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য সেলিম। তিনি বলেন, “ এথিক্স কমিটির সর্বোচ্চ পদে থেকেও লালকৃষ্ণ আডবাণী ঠুঁটো জগন্নাথের ন্যয় আচরণ করেছেন। আসলে তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন নারদ কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে দশা তা তারও হবে। আর তাই হল এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে”। এর পাশাপাশি সেলিম আরও বলেন, “তৃণমূল-বিজেপি একই মুদ্রার দুই পিঠ বলেই মানসপুত্রী মমতার দলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলেন না আডবাণী”। এদিকে সেলিমের এহেন মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা। এদিন ফোনে রাহুলবাবু জানান, “ অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য। করে প্রসঙ্গে একথা বলা হচ্ছে, সেই ন্যূনতম জ্ঞানটাও নেই সিপিএমের। গোটা দেশে কোথাও আর কোনো সুবিধা করতে না পেরে হতাশা থেকে একথা বলছেন সেলিম”।

এদিন বিজেপির সঙ্গে সেলিমের নিশানায় অন্যতম ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেলেই পুরীতে জগন্নাথের মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে সেলিমের খোঁচা, “ঠুঁটো জগন্নাথ(আডবাণীর উদ্দেশে) তাঁকে বাঁচাতে পারবে না বুঝে এবার আসল জগন্নাথের কাছে গিয়েছেন। কিন্তু পাপ করে তিনি রেহাই পাবেন না। তাঁর মদতেই যে নারদে অভিযুক্তরা টাকা নিয়েছে সেই কৈফয়েত তাঁকে দিতেই হবে”।

এদিকে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এদিনের রায়ে একটু হলেও ধাক্কা খাবে বিজেপির ভাবমূর্তির। এই প্রসঙ্গে সেলিমের বক্তব্য, “ এই রায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। অনেকটা সময় লেগেছে। তবে এটাই প্রত্যাশিত ছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় থেকেই সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া উচিত বিজেপি থেকে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করলে তার পরিণতি কি হতে পারে, তা পরিষ্কার হয়ে গেল”। আগামী লোকসভা অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়েও যে সংসদে সরব হবেন বুধবার সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রাখেন সিপিএম সাংসদ। এদিকে সেলিমের এই দাবীকেও ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন রাহুল সিনহা। তাঁর দাবি, “ কারো বিরুদ্ধে মামলা চলা মানেই যে সে দোষী তা প্রমাণিত হয় না”। এপ্রসঙ্গে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর প্রসঙ্গটিও তোলেন। তিনি বলেন, একসময় গুজরাটের দাঙ্গা নিয়েও মোদি ও অমিত শার নাম ওঠে। তবে পরে আদালতের রায়ে তারা মুক্ত।

প্রসঙ্গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া যে রায় নিয়ে এত হইচই তাতে বিজেপির ২১ জন প্রথম সারির নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা ফের নিম্ন আদালতে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় ২১ নেতার মধ্যে ৮ জন আগেই মারা জিতেছেন। ফলে ২৫ বছরের পুরনো মামলাটি চলবে ১৩ জন নেতার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী থেকে মোদি মন্ত্রিসভার সদস্য উমা ভারতি। এছাড়াও বাবরি মসজিদের ঘটনা যখন ঘটে অর্থাৎ ১৯৯২ সালে সেই সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অমর সিং। তিনি এখন বর্তমানে রাজস্থানের রাজ্যপাল । ফলে আপাতত তিনি রেহাই পাবেন। কিন্তু আদালত এদিন যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে , রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিলে তার বিরুদ্ধে ফের মামলা দায়ের করা যাবে।

----
--