ভাগাড়কাণ্ডের জেরে হাসিনার জন্য মেনুতে নেই মাংস, ব্রাত্য ইলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভাগাড়কাণ্ডের জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপ্যায়নে মাংস রাখছেন না কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ মাংসের বদলে মাছের পদেরই আধিক্য থাকছে আপ্যায়নের মেনু তালিকায়৷

তবে শুধু মাংস নয়৷ মেনু থেকে বাদ গিয়েছে ইলিশও৷ কিন্তু, মাংস কেন বাদ পড়ল? কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী মঙ্গলবার বলেন, ‘‘মাংস রাখার দুঃসাহসিকতা দেখাচ্ছি না৷’’ ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ এমনই মনে করছে, ভাগাড়কাণ্ডের জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য মেনুতে মাংস না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

আর, মেনুতে অন্য বিভিন্ন মাছের পদ থাকলেও কেন বর্জন করা হয়েছে ইলিশকে? কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ দিন বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ইলিশ খাওয়ার পর এখানকার ইলিশের স্বাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেমন লাগবে জানি না৷ তাই মেনুতে ইলিশ রাখার দুঃসাহসিকতা দেখাচ্ছি না৷’’

- Advertisement -

উপাচার্য আগেই বলেছিলেন, ‘‘সীতাভোগ-মিহিদানা বর্ধমানের গৌরব৷ বাংলার গরিমা৷’’ তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়নের মিষ্টান্ন তালিকায় সীতাভোগ-মিহিদানা থাকছে৷ মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘সীতাভোগ-মিহিদানার পাশাপাশি আমরা কৃষ্ণনগর থেকে সরপুরিয়া, সরভাজা আনানোর চেষ্টা করছি৷’’ ইতিমধ্যেই উপহার হিসাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশ্ববাংলার মসলিন শাড়িও কেনা হয়ে গিয়েছে৷ তাই বলা যেতে পারে মাছ, সীতাভোগ, মিহিদানা ও মসলিনে পুরোপুরি বাঙালিয়ানায় আপ্যায়ন করা হবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে৷

মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই জানিয়েছেন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী৷ ২৬ মে সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হতে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান৷ ওই দিন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে যাবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী৷ সেখানেই তাঁকে প্রদান করা হবে সাম্মানিক ডি লিট৷ সাধন চক্রবর্তী এ দিন বলেন, ‘‘কাজী নজরুল বিষয়ক ভাবনাচিন্তার প্রচার ও প্রসারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অবদানের জন্য তাঁকে ডি লিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷’’

ওই দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতা থেকে অণ্ডাল বিমানবন্দরে যাবেন শেখ হাসিনা৷ সেখান থেকে ১১টা ১৫ নাগাদ তিনি পৌঁছে যাবেন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে৷ তার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সভাপতিত্বে শুরু হবে সমাবর্তন অনুষ্ঠান৷ মুখ্য অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ যদিও তিনি এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, সেই বিষয়টি শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে৷ তবে, এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

এই বছরের সমাবর্তনে মোট তিন জনকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে ডি লিট এবং ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের পদার্থবিদ ডঃ এস এম ইউসুফকে ডি এস সম্মান জানানোর কথা ছিল৷ যদিও আগামী ২৬ মের সমাবর্তনে শর্মিলা ঠাকুর এবং ডঃ এস এম ইউসুফ অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বলে জানানো হয়েছে৷

উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী এ দিন জানিয়েছেন, শর্মিলা ঠাকুর এবং ডঃ এম এম ইউসুফের সুবিধা অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে আচার্যের সঙ্গে কথা বলে একটি দিন ঠিক করা হবে৷ পৃথক একটি অনুষ্ঠানে এই দু’জনকে সম্মান প্রদান করা হবে৷ শর্মিলা ঠাকুরের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে, এই অনুষ্ঠান কলকাতায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপাচার্য৷

Advertisement
---