সৌমেন শীল ও দীপালি সেন: নির্বিকার বাস্তিল দূর্গ অবশেষে ভাঙল৷ ঐতিহাসিক জয় হয়ত একেই বলে৷ দেখালো মেডিক্যাল৷ তাদের সমস্ত দাবি মেনে নিল কলেজ কাউন্সিল৷ দাবি অর্থাৎ মাথার ছাদ৷ দাবিটা পরিচ্ছন্ন ঘরের, শক্ত দেওয়ালে ফ্যানের হাওয়ার৷ সেই সমস্ত দাবি লিখিত আসতেই উঠল অনশন৷ ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অশোক ভদ্রের হাতে ফলের রস খেয়েই অনশন ভাঙলেন অনিকেত,অরিজিৎ সহ ২১ পড়ুয়া৷ ততক্ষণে ১৩ দিনের থম থমে মেডিক্যালে জয়ের উল্লাস৷

কী কী দাবি মানল কলেজ কাউন্সিল? পড়ুয়াদের উত্তর- ‘ সব দাবি মানা হয়েছে নিঃশর্তে৷ আমরা ২১ অনশনরতদের ওদের মুখে খাবার দিতে পারব৷ লিখিত জানানোর পরই অনশন উঠন৷ আমরা খুশি৷’ কলেজ কাউন্সিল লিখিত ভাবে জানাল-

Advertisement

১. নতুন ১১ তলার হোস্টেলে ২টি ফ্লোরে সিনিয়র পড়ুয়াদের থাকার ব্যবস্থা হবে
২. প্রত্যেক বর্ষের পড়ুয়াদের জন্য ২টি করে ফ্লোর দেওয়া হবে
৩. কাউন্সেলিং করে তাসিকা প্রকাশ হবে, গোটা প্রক্রিয়া ১ সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে
৪.প্রত্যেক ফ্লোরে ৪৮ পড়ুয়ার থাকার ব্যবস্থা
৫. পুরানো হস্টেলের সংস্কার হবে

ছাত্রদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েই শেষে কলেজ কাউন্সিলের আপিল সমস্ত দাবি মানা হয়েছে, নিয়ম মেনেই অনশন তুলে নিক পড়ুয়ারা৷ লিখিত পেয়েই নিমেষেই মেডিক্যাল চত্ত্বর উৎসবের রূপ নিল৷ প্রিন্সিপালের হাতে ফলের রস খেয়ে অনিকেত চট্টোপাধ্যায় জানালেন, ‘ আমরা পেরেছি, মেডিক্যাল ইতিহাস তৈরি করল’৷ একই কথা সুমন পাল,অরিজিৎ ঘোষদের৷ জানালেন, মেডিক্যালের জয় গণতন্ত্রের৷’ অনশন প্রত্যাহারের পরই বড় হল ঘরে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা একজোট হোলেন৷ দরজা বন্ধ করে সবে অনশন থেকে ওঠা অনিকেতদের ঘিরে আনন্দে মাতলেন৷ ঘরেই ঢুকলো রসগোল্লার হাঁড়ি৷ স্বস্তির হাসি পড়ুয়াদের অভিভাবকদের মুখেও৷

সোমবার অনশনের ১৪ দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ৫ পড়ুয়া৷ অবশ্য, অনশনের চাপে দাবি মেনে নেওয়ার লিখিত আসার পরই তারাও উল্লাসে মাতেন৷ হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পেয়েছেন অসুস্থ ছাত্র দেবাশিস বর্মণ৷ আজই বিজয় মিছিল৷ স্ট্রেচারে করেই যোগ দেবেন ২১ পড়ুয়া৷ আবিরের রঙে সোমবারের মেডিক্যাল রঙিন৷ একগাদা কর্মসূচি এখনও বাকি৷ তবে সবটাই জয়ের৷

----
--