জানেন একদল ব্রাহ্মণও মহরমে বের করে তাজিয়া

মহরম পালন করতে শুধু মাত্র মুসলমানেরাই তাজিয়া বার করে এমন নয়৷ এদেশের একদল ব্রাহ্মণও মহরমে দিনে শোভাযাত্রা বের করেন তারা হুসেনি বাহ্মণ নামে পরিচিত৷ ভারতের উত্তর পশ্চিম দিকে এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন এই বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষেরা৷

কিছু ইতিহাস এবং লোককথাকে ভিত্তি করে এই হুসেনি ব্রাহ্মণদের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা রকম প্রচলিত কাহিনি। এখনও রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাবে বেশ কিছু হুসেনি ব্রাহ্মণ বাস করেন। পাশাপাশি প্রতিবেশি পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশে ও পঞ্জাবেও রয়েছেন তাঁরা৷ তাছাড়া এমন কিছু পরিবারের বাস এখনও আরবেও। কারবালার ঘটনার অনেক আগে বড় সংখ্যক হিন্দু বাস করতেন আরবে। প্রচলিত মতে, হুসেনি ব্রাহ্মণদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রাহাব সিধ দত্ত। এই রাহিব দত্ত আরবে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল ইমাম হুসেনের৷

কারবালার ঘটনার সময় বাগদাদে ১৪০০টি ব্রাহ্মণ পরিবার বাস করতেন। ওই যুদ্ধে তাঁরাও হুসেনের পক্ষে যোগ দিয়ে লড়েছিলেন বলে কথিত আছে। অনুমান করা হয়, এই পরিবারগুলিই আদি হুসেনি ব্রাহ্মণ। ৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে এঁরা ভারতে এসে শিয়ালকোটের দিনানগর আর রাজস্থানের পুষ্করে থিতু হন। বেশ কিছু সৈয়দও সঙ্গে আসেন।

এখনও এদের ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইমাম হুসেন ও তাঁর বংশ ওতপ্রোত জড়িয়ে আছে। খুব গর্বের সঙ্গে এরা স্মরণ করেন সেই জড়িয়ে থাকাকে। অনেকে আবার কারবালা যুদ্ধে তাঁদের পূর্বপুরুষের আত্মদানের স্মৃতিতে গলায় একটি কাটা দাগ তৈরি করে থাকেন। এই বিশেষ গোষ্ঠীর অতি পরিচিত মুখ হলেন চিত্রতারকা সুনীল দত্তের পরিবার৷ সেনাবাহিনীর বেশ বড় একটা অংশেও এই সম্প্রদায়ের মানুষের দেখা মেলে। আবার পঞ্জাব গুজরাত বা মহারাষ্ট্রের চারণ গানে হিন্দুদের কারবালার যুদ্ধে আত্মদানের কথা এখনও শোনা যায়। শোনা যায় সিন্ধুপ্রদেশের লোকগানে।

---- -----