দেশের যুদ্ধবিমানের ককপিটে বসছেন আরও এক মহিলা, মেঘনা শানবাগ

ছেলেবেলা থেকেই সাহসে অনেকের থেকে এগিয়ে ছিলেন মেঘনা। বাড়ির আদর ছেড়ে বেরিয়ে নিজে কিছু করার স্বপ্ন ছিল চোখে। আর এই স্বপ্ন সত্যি হয়ে এবার আকাশে ওড়ার সুযোগ করে নিলেন ২৩ বছরের মেঘনা শানবাগ। যুদ্ধবিমান ওড়ানোর সুযোগ পেলেন তিনি। শনিবার দুন্দিগলে এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েট হলেন তিনি। দেশের ষষ্ঠ মইলা ফাইটার পাইলট হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখলেন মেঘনা।

বরাবরই সবার থেকে আলাদা ছিলেন তিনি। ক্লাস ফোরের পড়া শেষ করেই তাঁর মনে হয়েছিল, বাড়ি থেকে বেরনো দরকার। বাবাকে জানিয়েছিলেন হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতে চান। মা প্রথমটায় মেয়েকে ছাড়তে চাননি। কিন্তু পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন মেঘনার বাবা। কর্ণাটকের চিকমাগালুরের বাসিন্দা মেঘনা প্রাইমারি স্কুলের পড়া শেষ করে উদুপিতে লিটল রক ইন্ডিয়ান স্কুলে পড়তে যান। সেটাই তাঁর ওড়ার শুরু। বোর্ডিং-এ থেকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

এরপর মাইসোরে শ্রী জয়চামারাজেন্দ্র কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হন তিনি। তবে সেখানেই থেমে যায়নি অ্যাডভেঞ্চারের নেশা। নিজেকে আরও বেশি করে মেলে ধরতে মেঘনা তৈরি করেন Sahas-SJCE Adventure Club. আর সেটাই নাকি তাঁর জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়।

- Advertisement -

সেমেস্টারের ব্রেকে ট্রেকিং, র‍্যাফটিং, মাউন্টেনিয়ারিং-এ যোগ দিতেন তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু। ক্রমশ আরও দৃঢ় হয়ে উঠছিলেন মেঘনা। প্যারাগ্লাইডিং-এর ট্রেনিং-ও নিতে শুরু করেন। সেখান থেকে এয়ার ফোর্সের স্বপ্ন দেখা শুরু। বায়ুসেনা বাহিনীর জীবন তাঁকে বিশেষভাবে টানতে শুরু করে। মাত্র ২০ বছর বয়সে সিঙ্গল প্যারাগ্লাইডিং করেন তিনি। স্নাতক হওয়ার পর ভাবছিলেন, অন্য ধরনের কোনও চাকরি যদি করা যায়!

এরপরই তিনি শোনেন, ফাইটার পাইলটের ভূমিকায় সুযোগ দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের। Air Force Common Admission Test পাশ করেন অনায়াসে। ২০১৭-র জানুয়ারিতে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন AFA-তে।

তিনি বলেন, ‘এই দিনটা আমার জন্য অসাধারণ। নিজের ককপিটে একা, নিজের পরিচয়, এয়ারক্রাফটে নিজের কন্ট্রোল নিয়ে ওড়ার অভিজ্ঞতাই আলাদা। এই ২০ মিনিট আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকেরই ক্ষমতার থেকে বেশি স্বপ্ন দেখা উচিৎ।

Advertisement ---
---
-----