জয়পুর: চিত্ত, আত্মার শুদ্ধিকরণের স্থান হল মন্দির৷ রণে, বনে, জঙ্গলে মানুষ যখনই কোনও সমস্যায় পরে তখনই তারা ভগবানকেই স্মরণ করেন৷ কিন্তু রাজস্থানের দৌসা জেলায় এমনই একটি মন্দির রয়েছে যেখানে মানুষ ঢুকতেও ভয় পান৷ গা ছমছম করা এই বিশেষ মন্দিরটি ভূত তাড়ানোর জন্যই বিশ্বখ্যাত৷ বিংশ শতাব্দীর প্রাকাল্লে তৈরি এই মন্দিরটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত এসে উপস্থিত হন৷ তাদের প্রিয়জনদের অশুচী আত্মার হাত থেকে মুক্ত করতে৷ কথিত আছে, এই মন্দিরটি এতটাই পবিত্র স্থান যে কেউ ভগবানের ভক্ত না হলেও তারা নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়ে উঠবেন৷

এই মন্দিরটিতে তিনটি দেবতার পুজো করা হয়৷ বালাজি অর্থাৎ হনুমান, প্রেত রাজ(দ্য কিং অফ স্পিরিট) এবং ভৈরব৷ এই মন্দিরের ভিতরে অবস্থিত মূর্তিটি প্রায় ১০০০বছরের পুরোনো৷ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্দিরটি অতৃপ্ত আত্মা এবং কালোজাদু দিয়ে আবিষ্ট মানুষদেরকে নিরাময়ের জন্য একটি বিশেষ ঐশ্বরিক ক্ষমতা দিয়ে এদেরকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম৷
এই মন্দিরটিতে যেসমস্ত শরণার্থীরা দর্শন করতে আসেন৷ তারা মন্দিরে আসার পথে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হন৷ একবার যদি আপনি এই গ্রামে পৌছে যান সব বাধা অতিক্রম করে তাহলেই আপনি নানা রকম অদ্ভুত অনুভূতি উপলব্ধি করবেন৷ কাঠফাটা রোদের তাপের মাঝেও আপনার গায়ে এসে ঠান্ডা হাওয়া লাগবে৷ আর এই মন্দিরে ঢুকলেই আপনার মনে হবে সমগ্র পৃথিবীর থেকে আপনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন৷ মনে সাহস নিয়ে এই মন্দিরে একবার প্রবেশ করলেই মনে হবে আপনি দুনিয়া থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছেন৷ এই মন্দিরের আশেপাশের দোকানগুলিও সবসময় আতঙ্কের সঙ্গে সঙ্গে থাকে৷ এর পাশাপাশি মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষীরাও সব সবসময়ই ভয় ভয়েই থাকেন৷

এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল অন্যান্য মন্দিরের মতন এই মন্দিরে একরকমের প্রসাদ দেওয়া হয়৷ এখানে প্রসাদ হিসেবে কালো রঙের বল দেওয়া হয়৷ তবে, এগুলো খাওয়ার নিয়ম নেই৷ এই প্রসাদগুলি মন্দিরের ভিতরই আগুনের মধ্যে ছুঁড়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে৷ আপনি যদি ভয় নাও পান, তাহলে এই মন্দিরে ঢুকতেও ভয় পাবেন আপনি৷

----
--