বাগানে ফিরেই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা মেহতাব

কলকাতা: বাগান জার্সিতে তিনি যেন আজ হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা৷ দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর ম্যাজিকেই পাল্টে গেল ম্যাচের রঙ৷ রামধনুর রঙ ফিকে করে বাগান জনতার মুখে হাসি ফোটালেন তাঁদের ‘মেহতাব দা’৷ এ যেন এলেন দেখলেন আর জয় করলেন!

পাঠচক্র ম্যাচে মেহতাব খেলেনি৷ সেদিন ক্লাব জুড়ে যখন হেনরি…হেনরি কলরব, বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় ইডেনের উল্টো দিকে সেলফি শিকারিদের খপ্পরে পড়েন মেহতাব৷ ভিড়ের মাঝেই ‘মেহতাব দা’ বলে ডেকে উঠে বছর দশেকের ছোট্ট ছেলে বলে উঠেছিল দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ম্যাচেই গোল চাই! গোল চাই ডার্বি ম্যাচেও৷

ডার্বি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি৷ তার আগেই মেহতাবকে মাঠে নামালেন শংকরলাল৷ আর বাগান জার্সিতে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই চোখ কাড়লেন ৩২ বছরের মিডিও৷(শেষবার ২০০৬ সালে বাগান জার্সিতে খেলেন মেহতাব) রেনবো ম্যাচে মেহতাব গোল পাননি৷ তাতে অবশ্য বাগান জনতার কোনও আক্ষেপ নেই৷ সমর্থকদের মুখে আজ একটাই সুর, ‘বাগানে ফিরেছে মেহতাব, এবার ট্রফি ফিরবে সবুজ মেরুনে৷’

- Advertisement -

আরও পড়ুন- সাত রঙ ফিকে করে জয় ছিনিয়ে নিল সবুজ-মেরুন

প্রথমার্ধ শেষে বাগান যখন ০-১ পিছিয়ে গ্যালারিতে তখন শব্দব্রহ্ম মেহতাব…মেহতাব…৷ এটাই বোধহয় মেহতাব ম্যাজিক৷ যে ক্লাবেই খেলুন না কেন দর্শনেই মন জিততে পারেন৷ এদিন ৪৯ মিনিটে শেষমেষ যখন মাঠে নামলেন, হাততালি দিয়ে তাঁকে বরণ করে নিল বাগান গ্যালারি৷

এর পরের ৪১ মিনিট বাগান জনতা মেহতাবময়৷ গোল করলেন ডিকা-অভিষেক-আজারুদ্দিন৷ স্কোরসিটে সেটাই লেখা থাকবে, কিন্তু নেপথ্যে নায়ক সেই মেহতাব৷ মাঠে নামার মিনিট দুইয়েক মধ্যে বাগানের পক্ষে ফ্রি-কিক৷ মেহতাবের সেই ফ্রি-কিক থেকে মাথা ঠেকিয়ে ১-১ করেন ডিকা৷ ৭৩ মিনিটে বাগানের শেষ গোলটাতেও অবদান মেহতাবের৷ তাঁর কর্ণার থেকেই কিংসলের মাথা হয়ে রেনবোর জালে বল জড়ালেন আজহার৷ ১২ বছর পর বাগান জার্সিতে ফিরে মেহতাবের পারফরম্যান্সে কোচ থেকে কর্তা সকলেই মুগ্ধ৷

কোচ শংকরলাল প্রশংসা করে বললেন, ‘মেহতাব যে বড় মাপের ফুটবলার সেটা ফের প্রমাণ করে দিলেন৷ বিপদের মুহূর্তেই মেহতাবের মতো ফুটবলারাই দলের দায়িত্ব নেয়৷’ একযুগ পড়ে বাগানে ফিরেই আজ তাই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা মেহতাব৷

Advertisement ---
-----