সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: এয়ারপোর্টের বাইরে আসার পথে পার্কিং ফি কালেকশান প্লাজার ঝামেলা নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কর্তৃপক্ষের কাছে ৷ বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে পার্কিং ফি কালেকশান প্লাজার কর্মীদের বিরুদ্ধে বিধিন্ন ধরনের অভিযোগ আসছিল কর্তৃপক্ষের কাছে ৷

মারপিঠ থেকে শুরু করে তোলাবাজির অভিযোগও ছিল বলে সুত্রের খবর ৷ গত বছর আইনজীবী সুভাষ দত্ত এই প্লাজার এক কর্মীর বিরুদ্ধে থানা অভিযোগ জানায় ৷ এমনকি এই সমস্যার জেরে এই কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে আনেকদিনের জন্য ৷ এই সব সমস্যার জেরে শহর এবং কলকাতা বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন ৷ তবে এই সমস্যার সমাধানে মহিলাদের-ই শেষ ভরসা বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ ৷ তাই এবার এই প্লাজার হাল ধরেছেন মহিলারা ৷

Advertisement

মোট পাঁচ জন মহিলা এই মুহুর্তে কর্মরত এই পার্কিং ফি কালেকশান প্লাজায় ৷ মূলত দিনের শিফ্টেই থাকেন তাঁরা ৷ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার শিফ্টেই মুলত তারা এই প্লাজার দায়িত্ব সামলান ৷মাসিক ১০ হাজার টাকার বেতনে কাজ করছে তারা ৷ এই তালিকায় যারা রয়েছেন-

এসএস এন্টারপ্রাইজ নামে এক এজেন্সি তাদের কে এই কাজের জন্য বেছে নিয়েছে ৷ এই এজেন্সির কলকাতা ইউনিটের ম্যানেজার আচ্ছেলাল যাদব জানান , ”পুরুষদের সরিয়ে এয়ারপোর্টের এই পার্কিং ফি কালেকশান প্লাজায় মহিলাদের এই দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকে এখানে অভূতপুর্ব এক পরিবর্তন এসেছে ৷ এখন ১৫ মিনিট গাড়ি রাখলেও ভদ্রতার সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী ১০০ টাকাই দিয়ে যাচ্ছেন চালকেরা বা গাড়ির মালিকেরা ৷ মহিলাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চান অনেকে” ৷

তবে এই পাঁচ জনের মধ্যে এক মহিলা জানান , ”এখনও অনেকে আছেন যারা আমাদের সঙ্গেও বচসায় জড়াতে চায় ৷ তবে এমন পরিস্থিতি দেখে আমরা আমাদের সিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করি ৷ তারা কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন” ৷ এই এজেন্সির এক কর্তা জানান,” এর আগে পুরুষ কর্মীদের কেউ নির্দেশ দেওয়া ছিল কেনও পরিস্থতি সামাল না দিতে পারলে তাদের সিনিয়ারদের জানাতে তবে তারা সে কথা কোনো দিনো মেনে চলেনি৷ ফলে সমস্যা বেরেই চলেছিল” ৷ বিমানবন্দরের এক কর্তা জানান, ”মহিলারা এই দায়িত্ব খুবই ঠান্ডা মাথায় সামলেচ্ছে ৷ প্রথম ধাপে এখানে পাঁচ জন মহিলা কে নিযুক্ত করা হয়েছে ৷এখন জানতে পেরেছি এই পাঁচ জনের কাজ দেখে সন্তুষ্ট হয়ে আরও মহিলা কর্মী কে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ”৷

পার্কিং থেকে বেরনোর পথে এক চালক জানান,” পুরুষদের থেকে এই মহিলাদের ব্যবহার যথেষ্ট ভাল ৷ তারা দক্ষতার সঙ্গে যান চলাচলের দিকেও নজর রাখেন ৷এই পাঁচ মহিলাদের এই দায়িত্ব দেওয়ার আগে ট্রেনিং দেয় এই এজেন্সি” ৷ এই পাঁচ মহিলার উপর এই দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছে এজেন্সির কতৃপক্ষরা ৷

----
--